রাঙ্গাবালী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী খেজুর রস | আপন নিউজ

বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৩:৩০ অপরাহ্ন

প্রধান সংবাদ
প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক ভূষিত হলেন গলাচিপা থানার ওসি ফেরদৌস খান গলাচিপায় জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস পালিত শিক্ষার্থীদের অনলাইন সেবা দিতে আমতলী সোনালী ব্যাংকের চুক্তিপত্র স্বাক্ষর কলাপাড়ায় ভূমি জালিয়াতি ও অধিগ্রহণের ৬৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন আমতলীতে টাকা দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে আমতলীতে ফুটবল খেলার দ্বন্ধের জের ধরে স্কুল ছাত্রকে পিটিয়ে জ’খ’ম আমতলীতে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবসের র‌্যালী কলাপাড়ায় পুকুরের পানি ব্যবহার করায় জ’খ’ম-৩ কলাপাড়ায় মাসুম বিল্লাহ সাগরকে পি’টি’য়ে জ’খ’ম কলাপাড়ায় ইউপি সদস্যর উপর হামলা; হাসপাতালে ভর্তি
রাঙ্গাবালী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী খেজুর রস

রাঙ্গাবালী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী খেজুর রস

মাহামুদ হাসান, রাঙ্গাবালীঃ

রাঙ্গাবালী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী খেজুর রস। গ্রাম বাংলার এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা আর কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত করে তোলা বাবুই পাখির আবাসস্থল খেজুর গাছ। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী থেকে বিলুপ্ত হওয়ার ফলে আর সেদিন গুলোর মত দেখা যায়না শীত আসলে সূর্যি মামা জাগার সাথে সাথে গ্রামীণ বাংলার মেঠো পথ ধরে কাঁধে রসের ভার বহন করা খেজুর রস বিক্রেতা গাছিদের ডাক “ও ভাই, রস লাগবে না, রস?” এবং নতুন রসের ঘ্রাণে চারদিকে মৌ মৌ করা। শীতের সকালে কাঁপা কাঁপা হাতে মুড়ি দিয়ে খেজুর রস পানের দৃশ্য মনে দোলা দিয়ে যায় আজও।কালের বিবর্তনে এখন গাছগুলোর ডালে বাবুই পাখির বাসার দেখা মেলানো ভার। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে এ গাছের সম্পর্ক পুরানো ও নিবিড়। দেশে সাধারনত পুরুষ এবং স্ত্রী দু’ প্রজাতির খেজুর গাছ দেখা যায়। স্ত্রী প্রজাতির গাছে খেজুর ও রস উভয়ই পাওয়া যায়। পুরুষ প্রজাতির খেঁজুর গাছ থেকে শুধুই রস সংগ্রহ করা যায়। শীত আসলে মধুর গন্ধের খেজুর রসে তৈরী নানা রকম পিঠা, পায়েস খাওয়ার বড় সাধ জাগলেও এ শুধু স্বপ্নই থেকে যায়। দেখা মিলে না খেজুর রস বিক্রেতাদের।
খেজুর গাছ বিলুপ্ত হওয়ার কারনে খেজুর রস বিক্রেতা (গাছি) এ পেশার সঙ্গে জড়িত ছিল তারা বাধ্য হয়ে অন্য পথ বেছে নিচ্ছে। গ্রাম বাংলার মাঠে আর মেঠোপথের ধারে কোথাও কোথাও দু’একটি খেজুর গাছ দাঁড়িয়ে কালের সাক্ষী হয়ে থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় যথা-সামান্য।
১০ বছর আগেও দেখা যেত গ্রাম বাংলায় সারি সারি খেজুর গাছ। গাছিরা দিনের মধ্যভাগ থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধারাল দা, মুগির আর রস সংগ্রহের হাঁড়ি পিঠের পেছনে একটি লম্বা ঝুড়িতে বেঁধে এ বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি বয়ে নিয়ে যেত খেজুর গাছ কাটার জন্য। এ কাজে গাছিদের বাড়ির ছোট ছেলে-মেয়েরা সাহায্য করত পেছনে পেছনে হাঁড়ি বহন করে। আবার খুব ভোর থেকে রস সংগ্রহ করে খেজুর গুড় তৈরির জন্য একত্রিত করত। সকাল থেকে দিনের অর্ধবেলা পর্যন্ত মা-বোনেরা রস থেকে গুড় তৈরি করত। আবার অনেক গাছি কুয়াশার ভেতরেই গ্রামীণ পথ ধরে কাঁধে রসের ভার বহন করে হেঁটে চলত রস বিক্রির আশায়।
দিনের বেলায় পাখিরা রসের চুঙ্গিতে বসে মনের সুখে রস খেয়ে উড়ে যেত। মৌমাছিও রসের আশায় ভোঁ ভোঁ করে উড়ে বেড়াত। কোন কোন সময় রাতে আঁধারে দুরন্ত ছেলে মেয়েরা চিকিন পাইপ দিয়ে অথবা গাছে উঠে অন্য উপায়ে হাড়ির রসগুলো সাবাড় করে পানি ভর্তি করে রেখে দিতো। সে দৃশ্য দেখে সত্যিই চোখ জুড়িয়ে যেত সবার। প্রতি বাড়িতে সকাল বেলা খেজুর রসের পায়েস তৈরি হতো।

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com

Design By JPHostBD
error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!