বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:১৪ অপরাহ্ন

বিশেষ প্রতিবেদকঃ কুয়াকাটায় প্রত্যুষে পুণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী রাস পূজা। রাস পূজায় অংশ নিতে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে কুয়াকাটার গোটা সৈকতে জুড়ে ছিল দর্শনার্থীদের কোলাহল। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের হাজার হাজার নর-নারী মিলিত হয়েছিল উৎসবে। পূণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের মিলন মেলায় পরিনত হয়েছিল গোটা সৈকত।
শুক্রবার ১৯ নভেম্বর উষালগ্নে সমুদ্রস্নানে নেমেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজারো নর-নারী। মানতকারীরা মাথার কেশ ন্যাড়াসহ প্রায়শ্চিত্ত ও পিন্ড দান করেন। পূণ্যের আশায় বেলপাতা, ফুল, ধান, দূর্বা, হরীতকী, ডাব, কলা, তেল, সিঁদুর সমুদ্রের জলে অর্পণ করেন। পূণ্যার্থীরা পূর্ণিমার মধ্যে উলুধ্বনি ও মন্ত্রপাঠ করে গঙ্গাস্নানের মধ্য দিয়ে শেষ করেছেন এ বছরের রাস পূজা।
জানা গেছে, জাগতিক পাপ মুছে যাবে, গঙ্গাস্নানে। এ মনোবাসনায় পূর্ণিমা তিথীতে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ কুয়াকাটায় সমুদ্রে পূণ্যস্নান করেন। পঞ্জিকা মতে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায় পূর্ণিমা তিথী শুরু হয়েছে। এ তিথিতেই পূণ্যার্থীদের গঙ্গাস্নানের সময় নির্ধারণ করা হয়। পূণ্যের আশায় এ বছরও সৈকতে সমাগম হয়েছে দূর দূরান্ত থেকে পূণ্যার্থী, দর্শণার্থী ও সাধু সন্নাসী। এদের নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছিল অতিরিক্ত পুলিশ।
এদিকে কলাপাড়া পৌর শহরে বৃহস্পতিবার রাতে শ্রী শ্রী মদন-মোহন সেবাশ্রমে অধিবাসের মধ্য দিয়ে পাঁচদিন ব্যাপী শুরু হয়েছে শ্রীশ্রী কৃষ্ণের রাস উৎসব। মন্দির প্রাঙ্গণে স্থাপন করা হয়েছে ১৭ জোড়া রাধা কৃষ্ণের যুগল প্রতিমা। এসময় ভাগবত পাঠ, আরতি, উলু ও শঙ্খধ্বনি এবং নাম কীর্তনে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ। কুয়াকাটায় গঙ্গাস্নান শেষে পূণ্যার্থীরা রাধা কৃষ্ণের যুগল প্রতিমা দর্শন করবে। করোনা ভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ রাস উদযাপন করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কুয়াকাটা পৌরসভার উদ্যোগে মন্দির ও সৈকত এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তায় ছিলেন কোস্টগার্ড, পুলিশ, র্যাব, মেডিকেল টিমসহ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল। এছাড়া কুয়াকাটার গুরুত্বপূর্ন এলাকা সমূহ সিসি ক্যামেরার আওতায় ছিল।
কুয়াকাটা রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের পুরোহীত শিশির মহারাজ বলেন, প্রায় দুই’শ বছর পূর্ণিমা তিথিতে এ রাসলীলা উৎসব ও মেলা চলে আসছে। দ্বাপর যুগে মানুষের দুঃখ-দুর্দশা, হিংসা, হানাহানি দেখে দুষ্টের দমন ও সৃষ্টের লালনের জন্য স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নাম ধারণ করে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply