বৃহস্পতিবার, ২৯ Jul ২০২১, ০৯:০৫ অপরাহ্ন

প্রধান সংবাদ
তিন ঘন্টার ব্যবধানে আমতলী হাসপাতালে করোনা ইউনিটে দুইজনের মৃত্যু অভ্যন্তরীন কোন্দলের জের ধরে কলাপাড়ায় ছাত্রলীগ নেতার হাতের কব্জি কর্তন গলাচিপায় কঠোর লকডাউনে তৎপর প্রশাসন ও সেনাবাহিনী গলাচিপায় টানা বর্ষণে তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চল নলছিটিতে সাংবাদিকের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কলাপাড়ায় মিলাদ ও দোয়া করোনায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ঝালকাঠী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মৃত্যু সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিনে কলাপাড়ায় মিলাদ ও দোয়া গলাচিপায় হস্তান্তরের আগেই ফায়ার সার্ভিস ভবনের দেয়ালে ফাটল অতিবর্ষণে আমতলীতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা; তলিয়ে গেছে মাছের ঘের ও আমনের বীজতলা
আমতলীতে পরিত্যাক্ত ভবনে পাঠদান ঝুঁকিতে পাঁচ শতাধীক শিক্ষার্থী!

আমতলীতে পরিত্যাক্ত ভবনে পাঠদান ঝুঁকিতে পাঁচ শতাধীক শিক্ষার্থী!

আমতলী প্রতিনিধিঃ
বরগুনার আমতলী উপজেলার এমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যাক্ত ভবনে পাঠদান চলছে। পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করেছে ওই পরিত্যাক্ত ভবনে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা এমনটাই আশঙ্কা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবী শিক্ষার্থীদের।
বিদ্যালয় সুত্রে জানাগেছে, উপজেলার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমতলী এমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়টি ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থীও সংখ্যা আট’শ। শুরুতে একটি টিনের চালা ঘর দিয়ে বিদ্যালয় চললেও ১৯৮৫ সালে একটি একতালা ভবন নির্মাণ করা হয়। স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২০০০ সালে ওই ভবনের ছাদে নিজেদের অর্থায়নে আরেকটি আধা পাকা টিন সেডের ভবন নির্মাণ করে। বর্তমানে ওই ভবনের নির্মাণকাল ৩৪ বছর। নির্মাণ কাল বেশী হওয়ায় ২০১০ সালে ওই ভবনের পিলার, ভীম ও পলেস্তারা খসে পরতে থাকে। এতে পাঠদান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ২০১৭ সালে তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মুশফিকুর রহমান ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষনা করে পাঠদান বন্ধের নির্দেশ দেন। কিন্তু স্থান সংঙ্কুলান না হওয়ায় গত দুই বছর ধরে পরিত্যাক্ত ভবনেই পাঠদান চালিয়ে যান স্কুল কর্তৃপক্ষ। গত ২৯ সেপ্টেম্বর উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ নজরুল ইসলাম ওই বিদ্যালয় ভবন পরিদর্শন করে ছাদ অপসারন করা প্রয়োজন মর্মে প্রতিবেদন দেন। ওই প্রতিবেদনে প্রকৌশলী আরো উল্লেখ করেছেন দ্রুত ছাদ ও ছাদের উপর নির্মিত আধা পাকা ভবন অপসারন না করা হলে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। ওই প্রতিবেদনের আলোকে ইউএনও মনিরা পারভীন গত ৩ অক্টোবর বিদ্যালয়ের ছাদ ও ছাদের ভবন অপসারনের জন্য বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু ম্যানেজিং কমিটি ওই ছাদ ও ছাদের ভবন অপসারন করেনি। সদ্য সমাপ্ত জেএসসি পরীক্ষা ওই ঝুকিপূর্ণ ভবনেই শেষ করেছেন। এদিকে ভবন না থাকায় এবং আসন সংকুলান না হওয়ায় ওই পরিত্যাক্ত ভবনে ক্লাস নিচ্ছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী ওই ঝুকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করছে। পরিত্যাক্ত ভবনে ক্লাস নেয়ায় উবিগ্ন অভিভাবকেরা। দ্রুত পরিত্যাক্ত ভবনে ক্লাস বন্ধের দাবী জানিয়েছেন তারা।
আমতলী এমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখাগেছে, ভবনের পিলার, ভীম ও পলেস্তারা ধ্বসে পরছে। ভবনের ছাদের উপর আধা পাকা টিন সেডের ঘরের উপরে টিনের চালা নেই। ভঙ্গ অবস্থায় পড়ে আছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এহতেসামুল হক সামস, আনিকা, আলভি, সিয়াম ও ঐশর্য্য জানান, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যাক্ত ভবনে ক্লাস করতে হচ্ছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবী জানাই।
আমতলী এমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নাশির উদ্দিন বলেন, আসন সংকুলন না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস নিতে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন এ বিদ্যালয়ে দুটি ভবন। তার একটি পরিত্যাক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। একটি ভবনে ক্লাস নিতে পারছি না। তাই বাধ্য হয়ে পরিত্যাক্ত ভবনে পাঠদান করাতে হচ্ছে। কিন্তু কোথায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেব তা ভাবছি।
আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ শাহাদাত হোসেন বলেন, ঝুকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস হচ্ছে জেনেছি। অতি দ্রুত বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন বলেন, ভবনটি ঝুকিপূর্ণ বিধায় পরিত্যাক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের পরিত্যাক্ত ভবনের অবস্থা উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 aponnewsbd
error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!