বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩০ অপরাহ্ন

আমতলী প্রতিনিধিঃ আমতলী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভুমি) অফিসের গাড়ী চালক মোঃ সোহেল রাঢ়ীর নামে কালীবাড়ী খালের জমি বন্দোবস্থ দেয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে ওই জমিতে কাজ করতে গেলে স্থানীয়রা বাঁধা দেয়। পরে খালের জমি বন্দোবস্থ বাতিলের দাবীতে ওইদিন দুপুরে কয়েক শত নারী-পুরুষ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসুচী পালন করেছে। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরীর আশ্বাসে তারা কর্মসুচি প্রত্যাহার করেন।
জানাগেছে, আমতলী উপজেলার চাওড়া মোজার তুলাতলী এলাকার শত বছরের প্রবাহমান কালিবাড়ী খাল। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে সরকারকে ভুল বুঝিয়ে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের সংলগ্ন ওই খালের একাংশের ৩০ শতাংশ জমি বন্দোবস্থ নেয় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) অফিসের গাড়ী চালক সোহেল রাঢ়ী। গত ৬ বছর ওই জমি দখলে যায়নি তিনি। বুধবার সকালে সোহেল ওই জমিতে কাজ করতে যায়। এ সময় স্থানীয়রা এতে বাঁধা দেয়। পরে স্থানীয়দের তিনি (সোহেল) জানান, এ জমি তার নামে সরকার বন্দোবস্থ দিয়েছেন। এ খবর পেয়ে ফুঁসে উঠে খালের পাড়ে বসবাসরত কয়েক শত পরিবার। তাৎক্ষনিক তারা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে খালের বন্দোবস্থ বাতিলের দাবীতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসুচী পালন করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরীর আশ্বাসে বিক্ষোভকারীরা কর্মসুচী প্রত্যাহার করে নেয়। উল্লেখ্য গাড়ী চালক সোহেল রাঢ়ীর বাড়ী বরিশাল সদর উপজেলায়। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান বাদল খাঁন অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তাকে চাওড়া ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা বানিয়ে খাঁনা করে দেন এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
কালীবাড়ী খাল সংলগ্নস্থানে বসবাসকারী আসাদুজ্জামান মোমেন আকন, জাকির হোসেন মিরাজ ও এইচএম রিয়াজ বলেন, শত বছরের পুরানো খাল। এই খাল দিয়ে চাওড়া ইউনিয়নের পানি প্রবাহিত হয়। এ ইউনিয়নের হাজার হাজার কৃষক পরিবার এ খালের পানি ব্যবহার করে জমি চাষাবাদ করেন। ওই প্রবাহমান খাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) অফিসের গাড়ী চালক মোঃ সোহেল রাঢ়ী তার নামে বন্দোবস্থ নিয়েছেন। ওই খালে বাঁধ দিয়ে তিনি বাড়ী নির্মাণ করবেন। খালে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে চাওড়া ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষক পরিবার কৃষি কাজে বাঁধাগ্রস্থ হবে। ফলে ধানসহ বিভিন্ন প্রকারের ফসল চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাবে। দ্রুত এ খালের জমি বন্দোবস্থ বাতিলের দাবী জানান তারা।
বিক্ষোভকারী খালেদা বেগম ও ফাতেমা বেগম বলেন, ওই খালের পাড়ে অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবার বসবাস করে। ওই খালের পানি গৃহস্থালী কাজে তারা ব্যবহার করা হয়। এখন খালে বাঁধ দিলে খালের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে আসছে শুকনার মৌসুমে এ পরিবারগুলো বেশ ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
আমতলী উপজেলার যুবদল সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মেহেদী জামান রাকিব বলেন, হাজার হাজার কৃষক পরিবারকে ক্ষতি করে প্রবাহমান খাল বন্দোবস্থ দেয়া হয়েছে। এটা জনগনের সঙ্গে প্রতারনা। দ্রুত এ খালের বন্দোবস্থ বাতিলের দাবী জানান তিনি।
আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) অফিসের গাড়ী চালক মোঃ সোহেল রাঢ়ী বলেন, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান বাদল খাঁন তুলাতলী এলাকায় আমাকে খাঁনা করে দেয়। ওই খানা পেয়ে আমি ২৯ নং চাওড়া মৌজার ১২১৫ নং খতিয়ানে ১৫২৮, ২৩২৫,২৩২৫ নং দাগে ৩০ শতাংশ জমি বন্দোবস্থের আবেদন করি। আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার আমাকে জমি বন্দোবস্থ দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, আমি ওই জমিতে কাজ করতে গেলে স্থানীয়রা আমার শ্রমিকদের মারধর করেছে এবং নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে গেছেন।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, ৬ বছর আগে সোহেল রাঢ়ীকে বন্দোবস্থ দেয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ে ঘটনাস্থল উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভুমি) নিয়ে পরিদর্শন করবো। যদি স্থানীয় কৃষকদের খালে কোন ধরনের সমস্যা হয়, তবে বন্দোবস্থ বাতিলের প্রস্তাব দেয়া হবে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply