বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ন

আমতলী প্রতিনিধিঃ হয়রানী করতে আমতলী পৌরসভার হিসার রক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ নাশির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ভুয়া স্বাক্ষর দিয়ে ২২ জন পৌর নাগরিক অভিযোগ দিয়েছেন। এ অভিযোগ এবং স্বাক্ষর সম্পর্কে অবগত নন অভিযোগকারীরা। হয়রানী করতে যিনি এমন কাজ করেছেন তার শাস্তি দাবী করেছেন অভিযোগকারীরা।
জানাগেছে, আমতলী পৌরসভার হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ নাশির উদ্দিনের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের সচিব বরাবরে ২২ জন পৌর নাগরিক স্বাক্ষরিত ১০টি অভিযোগ এনে গত বছর ৯ জানুয়ারী আবেদন করেন। ওই ১০টি অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের সচিব ওই অভিযোগটি আমলে নিয়ে ওই বছর ৩০ জানুয়ারী বিষয়টি তদন্ত করতে তৎকালীন আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলমের দায়িত্ব দেন। তিনি উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে প্রধান করে পাঁচ সদস্য তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির সদস্যরা তদন্ত করতে গিয়ে অভিযোগকারী ২২ জনকেই স্বাক্ষী দিতে নোটিশ দেন। কিন্তু অভিযোগকারী শাহ আলম হাওলাদার ও তার ছেলে রাসেল হাওলাদার নোটিশ পেয়ে তদন্ত কর্মকর্তার দপ্তরে উপস্থিত হন। অপর ২০ জন অভিযোগকারীদের একাধিকবার নোটিশ দেয়া সত্ত্বেও তারা তদন্ত কর্মকর্তার দপ্তরে উপস্থিত হননি এবং স্বাক্ষী দেয়নি। এরপর বেড়িয়ে আসে আসল রহস্য। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ওই ২২ জন অভিযোগকারীর মধ্যে শাহ আলম হাওলাদার ও রাসেল হাওলাদার বাবা-ছেলে। তারাই অন্য ২০ জন অভিযোগকারীদের স্বাক্ষর জাল করে নাশির উদ্দিনকে হয়রানী করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের সচিবের বরাবরে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন। ওই অভিযোগকারীদের স্বাক্ষরের সঙ্গে বাস্তবে কোন মিল নেই। তারা এ অভিযোগ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। অভিযোগ রয়েছে শাহ আলম হাওলাদার ও রাসেল হাওলাদার হয়রানী করতেই পৌরসভার হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা নাশির উদ্দিনের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জাল করে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ২ জন ছাড়া অন্য ২০ জন অভিযোগকারীর মধ্যে কেউ অভিযোগ দেয়নি এবং অভিযোগ পত্রে স্বাক্ষরও দেয়নি। অধিকাংশ অভিযোগকারীর স্বাক্ষর জাল।
২২ জন অভিযোগকারীর মধ্যে বশির ডিলার, চাঁন মিয়া, জলিল ফকির, জসিম ফকির, নিজাম ফকির ও ছালাম হাওলাদার বলেন, এ অভিযোগ সম্পর্কে আমরা কিছুই জানিনা। আমাদের স্বাক্ষর জাল করে কে বা কাহারা অভিযোগ দিয়েছেন তা আমাদের জানা নেই। যিনি আমাদের স্বাক্ষর জাল করে অভিযোগ দিয়েছেন তাকে আইনের আওতায় এসে শাস্তি দাবী করছি।
অভিযোগকারী শাহ আলম হাওলাদার ভুয়া স্বাক্ষরে অভিযোগ দেয়ার কথা অস্বীকার করে মুঠোফোনে বলেন, পৌরসভার হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা নাশিরের বিরুদ্ধে কে অভিযোগ দিয়েছে তা আমি জানিনা ? তবে আপনী ও আপনার ছেলে রাসেল হাওলাদার স্বাক্ষী দিতে তদন্ত কমিটির দপ্তরে উপস্থিত হয়েছিলেন এমন প্রশ্নের সদুত্তর না দিয়ে তিনি ফোনের সংযোগ বিছিন্ন করে দেন। এরপর বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
আমতলী পৌরসভার হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ নাশির উদ্দিন বলেন, আমাকে হয়রানী করতেই ভুয়া স্বাক্ষর দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তদন্তে অপরাধ প্রমানিত হলে শাস্তি মাথা পেতে নেব আর যদি অপরাধ প্রমানিত না হই তবে যারা মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন তাদের শাস্তি দাবী করছি।
তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মোঃ মাঞ্জুরুল হক কাওসার বলেন, তদন্তে ঘটনার কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে জমা দেয়া হবে।
তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ কবির হোসনে বলেন, একাধিকবার নোটিশ করা সত্ত্বেও অভিযোগকারীর মধ্যে দুইজন ছাড়া কেউ স্বাক্ষী দিতে আসেননি।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পেলে প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply