বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন
ইস্তাম্বুলসহ কুয়াকাটায় তিন হোটেলের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন প্রশাসন
বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠুঃ পর্যটন সৈকত কুয়াকাটায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া নির্মাণকাজ চলায় জামায়াতে ইসলামীর পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীর ‘ইস্তাম্বুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’সহ তিনটি হোটেলের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে এ নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে নির্মাণস্থলে নিষেধাজ্ঞাসংবলিত ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া অন্য দুটি হোটেল হলো বিচ পয়েন্ট ও শশী মহল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ এবং কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যানের বিধান অনুসরণ না করায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী মৌজার এসএ ২৯২ নম্বর খতিয়ানের প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জমিতে গড়ে উঠছে ইস্তাম্বুল প্রকল্পটি। এরই মধ্যে প্রকল্প এলাকায় প্রায় ছয় একর জমিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে একটি মসজিদ ও কনভেনশন হলের নির্মাণকাজও চলছিল। চলতি বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কুয়াকাটা পৌর এলাকার মুসল্লীয়াবাদ গ্রামসংলগ্ন এলাকায় হোটেলটির নির্মাণকাজ শুরু হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যসচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান এবং কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেন।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, কুয়াকাটার একটি মাস্টারপ্ল্যান রয়েছে। এখানে যেকোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। এর আগেও আমরা ইস্তাম্বুল ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার জন্য বলেছিলাম। গতকাল বিভাগীয় কমিশনার স্যার কুয়াকাটা পরিদর্শনে এসে এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা সম্পর্কে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটি কার, সেটি আসলে দেখার কোনো বিষয় নেই। তবে আমরা শুনেছি, এটি পিরোজপুরের সংসদ সদস্যের প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে আমার কখনো কথা হয়নি।
প্রকল্পের স্থানীয় প্রতিনিধি মনির মুসুল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারব না। আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না, আমি কলাপাড়ায় ছিলাম।”
কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। তা ছাড়া কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যানে ওই জমি রেলওয়ের স্থাপনার জন্য বরাদ্দ রয়েছে। এ কারণে স্থাপনাটির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জায়গাটি বর্তমান বিএস জরিপ অনুযায়ী কুয়াকাটা পৌরসভার আওতাধীন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
কুয়াকাটায় পর্যটকদের আবাসনসুবিধা বাড়াতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও আবাসিক ভবন নির্মিত হচ্ছে। তবে এসব স্থাপনা নির্মাণে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অপরিকল্পিত ও অনুমোদনহীন স্থাপনা নির্মাণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্মাণকাজ বন্ধের পর কুয়াকাটা পৌরসভা ও কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থাপনাগুলোর নির্মাণস্থলে নিষেধাজ্ঞাসংবলিত ব্যানার টাঙানো হয়। ব্যানারে উল্লেখ করা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া নির্মাণকাজ চলায় নির্দেশক্রমে কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply