রবিবার, ২৫ Jul ২০২১, ০৫:৪৭ অপরাহ্ন

নিয়োগপ্রাপ্ত থাকেন বাড়ি, বহিরাগত যুবক সরকারি ডিউটিতে বরিশালে

নিয়োগপ্রাপ্ত থাকেন বাড়ি, বহিরাগত যুবক সরকারি ডিউটিতে বরিশালে

বরিশাল অফিসঃ 

কথায় বলে খায়-দায় মোতালেব মোটা হয় জব্বার। ঠিক একইভাবে ডিউটি করেন একজনে বেতন তোলেন অন্যজনে। সরকার যাকে নিয়োগ দিয়েছে সেই নিয়োগের পাত্তা না দিয়ে ব্যক্তি সুবিধা আদায় ও কর্মচারীর মনমত দায়িত্ব পালন করাচ্ছেন বরিশাল সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: কামরুজ্জামান। এক বা দুই দিন নয় দীর্ঘ বছর ধরে এই কাজ করাচ্ছেন এই কর্মকর্তা।

অভিযোগ উঠেছে বহিরাগতকে দিয়ে সরকারী অফিসে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের কাজ সম্পন্ন করান তিনি। পাশাপাশি সেই বহিরাগতের প্রাপ্য টাকার কিছু অংশ নিজে রাখেন বলেও শোনা গেছে। যদিও বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন।

আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান জানিয়েছেন, সদ্য যোগদান করায় অফিসের সব খবর এখনও নিতে পারেনি।

জানা গেছে, বরিশাল সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে বহুমুখি ঘুর্ণিঝড় আশ্রয়ন কেন্দ্রের কার্যসহকারী পদে নিয়োগ পেয়েছেন হাফসা। ২০১৬ সালের জুন মাসে এই কর্মচারী নিয়োগ পান। বানারীপাড়ার বাসিন্দা হওয়ায় কালেভদ্রে অফিসে আসেন হাফসা। আর ২০১৯ সাল থেকে পুরোপুরি অফিসে আসা বন্ধ করে দেন তিনি।

বিপরীতে তার স্বামী মিলন অফিসের দায়িত্ব পালন শুরু করেন। আর এই বিষয়টির বৈধতা প্রদান করেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কামরুজ্জামান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাফসার স্থানে তার স্বামী মিলন দায়িত্ব পালন করার শুরুতে অন্যান্য কর্মচারীরা আপত্তি জানালে তাদের ডেকে শাসিয়ে দেন কামরুজ্জামান। ফলে কেউ আর এই বিষয়ে মুখ খোলেনি। এভাবে দিনের পর দিন অতিবাহিত হওয়ার পর সরকারি অফিসে বহিরাগত মিলন অধিপত্য বিস্তার শুরু করেন।

শুধু কর্মচারী নয়, কর্মকর্তাদেরও চোঁখ রাঙাতে ভুল করেন না চর্তুথ শ্রেণির কর্মচারী হাফসার স্বামী। অভিযোগের ভিত্তিতে বেশ কয়েক মাস ধরে মিলনকে নজরদারিতে রাখলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। গণমাধ্যমে তথ্য সরবারহ, অফিস ফাইল সম্পন্ন, বেতন উত্তোলনে সহায়তাসহ যাবতীয় সরকারি কাজে সহায়তা করেন তিনি।

বেশ কয়েকজন কর্মচারী অভিযোগ করেছেন মিলন নিজে বহিরাগত হওয়ায় সরকারী অফিসের অনেক তথ্য বাহিরে তিনি ফাঁস করে দেন। অতিদারিদ্রের কর্মসৃজন কর্মসূচির কাজ, ইজারা, অফিস নির্দেশনা বাস্তবায়নের আগেই জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের অবহিত করে দেন। ঘরের খবর আগাম বাইরে প্রকাশ পাওয়ায় বেশ কয়েক বার বিপত্তিতে পড়তে হয়েছে উপজেলা প্রশাসনকে।

চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে ৮ তারিখ শুক্রবার পর্যন্ত সরেজমিনে প্রত্যেকদিন মিলনকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে কাজ করতে দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার দুপুরে অফিসে কর্মরত উপসহকারী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক কাজী রফিকুল ইসলাম কার্যসহকারী মসিউর রহমানের সামনে বহিরাগত মিলনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান মাঝে মাঝে এসে স্ত্রীর অফিস ডিউটি তিনি পালন করেন। এমনকি হাজিরা খাতায়ও তিনি স্বাক্ষর করেন।

বিষয়টি নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কামরুজ্জানের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে প্রথমে তিনি স্বীকার করেন ২০১৬ সালের জুন মাসে কার্যসহকারী পদে মিলনকে অধিদপ্তর নিয়োগ দিয়েছেন। সেমতে তিনি অফিস করেন। তার এই বক্তব্যকে অসত্য উল্লেখ করে অধিদপ্তরের নিয়োগ প্রাপ্ত হাফসা বলে জানানো হলে ওই ফোন কলেই নিমিষে বক্তব্য ঘুরিয়ে ফেলেন এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, হাফসা নিয়োগপ্রাপ্ত। পাশাপাশি বিষয়টি সংবাদ আকারে প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন। এজন্য শুক্রবার সন্ধ্যায় ম্যানেজ বৈঠকের প্রস্তাব দেন।

কামরুজ্জামান জানান, রোববার থেকে মিলন আর অফিস করবেন না। নিয়োগপ্রাপ্ত হাফসাই নিয়মিত অফিস ডিউটি পালন শুরু করবেন।কিন্তু গতকাল রবিবার সদর উপজেলা কার্যালয়ে গেলে মিলন বা হাফসা কাউকেই অফিসে পাওয়া যায়নি।

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি এই কর্মস্থলে সংযুক্ত হয়েছেন হাতে গোনা কয়েকদিন। সেকারণে বিষয়টি জানেন না।

মুনিবুর রহমান বলেন, একজন নিয়োগপ্রাপ্ত কিন্তু তার স্থানে অন্য কেউ সরকারি অফিসে দায়িত্ব পালন করা আইনত দন্ডনীয়।

তবে রোববার তিনি বলেন, আমি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি যেন এরকম অন্যায় আর না হয়। যেহেতু অনিয়মটি আমি আসার আগে হয়েছে, সেহেতু ওই বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেয়ার এখতিয়ার আমার নেই। এরপর হলে তার কঠোর ব্যবস্থা নিব।

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 aponnewsbd
error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!