ঘরে ঘরে করোনা উপসর্গের রোগী; আমতলীতে বেড়েই চলছে করোনার সংক্রামণ | আপন নিউজ

শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন

প্রধান সংবাদ
কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় ইউপি দফাদার নি’হ’ত, বাবা গুরু’ত’র আ’হ’ত ডাকসুর মতো ১২ তারিখ ট্রাকের বিজয় ইতিহাস সৃষ্টি করবে- নুরুল হক নুর আগামীতে বুক ফুলিয়ে চলতে চাই, কোন দু’র্নী’তি অ’নি’য়ম সহ্য করা হবে না-ডা: জহির উদ্দিন কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কে বেপরোয়া বাসের চা’পা’য় মানসিক ভারসাম্যহীন নারী নি’হ’ত কলাপাড়ায় ভাড়া বাসায় দুর্ধ’র্ষ চু’রি, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লু’ট ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে কলাপাড়ায় অভিভাবক সমাবেশ তালতলীতে গণভোটের পোস্টার ছিড়ে ফেলার অভিযোগ হাজারো মানুষের অশ্রুসিক্ত নয়নে চির বিদায় নিলেন মহিপুরের মন্নান হাওলাদার পায়রা বন্দর স্টিভেডরিং হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক পরিচিতি সভা আমতলীতে ছয় শতাধিক মসজিদে এক লাখ ২০ হাজার মানুষের মাঝে গণভোটের প্রচারনা
ঘরে ঘরে করোনা উপসর্গের রোগী; আমতলীতে বেড়েই চলছে করোনার সংক্রামণ

ঘরে ঘরে করোনা উপসর্গের রোগী; আমতলীতে বেড়েই চলছে করোনার সংক্রামণ

আমতলী প্রতিনিধিঃ

ঘরে ঘরে করোনা উপসর্গের রোগী। আমতলীতে বেড়েই চলছে করোনা ভাইরাসের সংক্রামণ। আতঙ্কে হাসপাতাল মুখী হচ্ছে না মানুষ। করোনা পরীক্ষা না হওয়ায় প্রকৃত রোগীর সংখ্যা চিহিৃত করা যাচ্ছে না । রোগীর স্বজনরা বেশী নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করার দাবী জানিয়েছেন। উপজেলায় এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত ৯২ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
জানাগেছে, গত জুন মাসে আমতলী উপজেলার ৪৪ টি কমিউনিটি ক্লিনিকে ১৬ হাজার ৫’শ ২৩ জন রোগী চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। এ হিসেবে করোনাকালিন সময়ে গত সাড়ে চার মাসে কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেয়া রোগীর সংখ্যা অন্তত ৭৫ হাজার। এর মধ্যে অধিকাংশ রোগী জ¦র সর্দি ও কাশিতে ভুগছিল বলে নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা যায়। গত ৮ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত (১৫ জুন) আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছয়’শ ৩৮ জনের করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ৯২ জনের নমুনা পজেটিভ হয়েছে। মৃত্যুবরন করেছেন ৪ জন। এ যাবত সুস্থ্য হয়েছেন ৬২ জন। বাকী ২৬ জন হাসাপাতাল ও বাড়ীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। এদিকে উপজেলার প্রায় ঘরে ঘরেই করোনা উপসর্গের রোগী রয়েছে। তারা উপসর্গ নিয়ে বাড়ীর কোয়ারেন্টাইনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আতঙ্কে মানুষ হাসপাতাল মুখী হচ্ছে না। অনেকে ঘরে বসে মুঠোফোনে চিকিৎসকদের পরামর্শে ঔষধ সেবন করছেন এবং সুস্থ্য হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাচ্ছেন। হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহে বাধ্যবাধকতা থাকায় নমুনা দিতে পারছে না অনেকেই। এতে প্রকৃত করোনা রোগীর সংখ্যা চিহিৃত করা যাচ্ছে না। উপসর্গকৃত রোগীর মধ্যে গুরুতর অসুস্থদের কিয়াদাংশ উপজেলা স্বাস্থ্যবিভাগ নমুনা সংগ্রহ করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিপিআর ল্যাবে (করোনা ল্যাব) পাঠিয়ে দিচ্ছেন। তবে গুরুতর অসুস্থ্য রোগীদের মধ্যে অনেকেরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নমুনা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রোগী ও তার স্ব¦জনদের। অপর দিকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৩ জন চিকিৎসকদের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসকসহ ৫ জন চিকিৎসক ও ৬ জন স্টাফ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। চিকিৎসক আক্রান্ত হওয়ায় মুঠোফোনে রোগীদের চিকিৎসা সেবায় কিছুটা ব্যহত হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, উপজেলার প্রায় ঘরে ঘরেই জ¦র সর্দি-কাশির রোগী রয়েছে। তবে চিকিৎসকরা বলেছেন আবহাওয়াজনিত কারনে জ¦র সর্দি-কাশির রোগীর সংখ্যা রেড়ে গেছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কারন নেই। ঘরে ঘরে জ¦র সর্দি ও কাশির রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বুধবার আমতলী পৌর শহরের সবুজবাগ, পুরাতন বাজার, খোন্তাকাটা, ফেরীঘাট, টিএনটি সড়ক এবং উপজেলার কাউনিয়া, দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া, আঠারোগাছিয়া, সোনাখালী, গাজীপুর, চুনাখালী, মহিষকাটা, শাখারিয়া, কেওয়াবুনিয়া, আড়পাঙ্গাশিয়া, ঘোপখালী ও টেপুরাসহ বিভিন্ন গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, প্রায় ঘরেই জ¦র সর্দি ও কাশি রোগী রয়েছেন। তবে গ্রামের চেয়ে উপজেলা শহরে এ রোগীর সংখ্যা বেশী। কিন্তু ভয়ে অনেকেই স্বীকার করছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, ঘরে ঘরে জ¦র সর্দি ও কাশি লেগেই আছে। তারা ভয়ে স্বীকার করছে না এবং হাসপাতালে যেতে চাচ্ছে না। গ্রাম্য চিকিৎসকের পরামর্শে ঔষধ সেবন করছে।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, প্রতিদিন অন্তত ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী মুঠোফোনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। মুঠোফোনে চিকিৎসা নেয়া রোগীরা ভালো হয়ে যাচ্ছেন।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ মোঃ শাহাদাত হোসেন বলেন, আবহাওয়া ও ভাইরাসজনিত কারনে জ্বর, সর্দি ও কাশির রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। রোগীরা আতঙ্কে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছে না। তবে অনেক রোগীরা মুঠো ফোনে চিকিৎসকদের কাছ থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, ইচ্ছা থাকা সত্তে¡ও বাধ্যবাধকতা থাকার কারনে পর্যাপ্ত নমুনা নিতে পারছি না। নমুনা দিতে পারলে সঠিক করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেরিয়ে আসতো। তবে অনেক রোগীই নমুনা পরীক্ষা ছাড়া ভালো হচ্ছে যাচ্ছেন।

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: JPHostBD
error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!