গলাচিপায় টুং টাং শব্দে মুখরিত হচ্ছে কামার পট্টি | আপন নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৩ Jun ২০২৪, ০৫:৪৪ অপরাহ্ন

প্রধান সংবাদ
কলাপাড়ায় ফ্রি স্বাস্থ্য ক্যাম্পের বিশেষ প্রচারণা তালতলীতে নাম সর্বস্ব এতিমখানার নামে টাকা উত্তোলন; ভাগবাটোয়ারায় আত্মসাৎ গলাচিপা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের শপথ গ্রহণ কলাপাড়ায় সাবেক বন কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার কলাপাড়ায় বড়ইতলা নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণের দাবি কলাপাড়ায় রেমালে ক্ষতিগ্রস্ত ১৫০ পরিবার পেলো গুড নেইবারস’র ত্রাণ সামগ্রী কলাপাড়ায় ক্ষতিগ্রস্থ্য ৩৬০০ পরিবার পেলো জাপানের খাদ্য সহায়তা আমতলীকে ভুমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষনা অসুস্থতায় এইচএসসি পরীক্ষার ফরমে বিলম্ব হওয়ায় হতাশ শিক্ষার্থী পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি- সংগঠক-সংগঠনকে সবুজ সাথী সম্মাননা প্রদান
গলাচিপায় টুং টাং শব্দে মুখরিত হচ্ছে কামার পট্টি

গলাচিপায় টুং টাং শব্দে মুখরিত হচ্ছে কামার পট্টি

সঞ্জিব দাস, গলাচিপাঃ

বছর ঘুরে আসে কোরবানির ঈদ। ঈদ-উল-আজহাকে ঘিরে চারদিকে আনন্দ-উৎসব ও কোরবানির পশু কেনার ধুম পড়ে। তাই মানুষ ছুটছেন কামারশালায়। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গলাচিপায় টুং টাং শব্দে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কামার শিল্পীরা। ক্রেতা সাধারণের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে কামার পাড়ার দোকানগুলো। তাদের যেন দম ফেলার ফুরসত নেই। জানা যায়, বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে কোরবানি ঈদের আগে কামার শিল্পীদের কাজের চাপ অনেকটা বেড়ে যায়। সেই সাথে তাদের আয়-রোজগারও বাড়ে। এ সময়ে কোরবানির আনুসাঙ্গিক হাতিয়ার দা, বটি, চাপাতি, ছুরিসহ ধারালো জিনিস বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। কামার শিল্পীদের বেশিরভাগই হিন্দু স¤প্রদায়ের। তাদের অনেকেরই পৈতৃক সূত্রে পাওয়া এ পেশা। সারাবছর তেমন কাজ না থাকায় অপেক্ষায় থাকেন মুসলমানদের এ ধর্মীয় উৎসবের। কোরবানি ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসছে এসব যন্ত্রপাতির বেচাকেনা তত বাড়ছে। তবে কামার শিল্পে প্রয়োজনীয় জ্বালানি কয়লা ও লোহার দাম বাড়লেও সে তুলনায় উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়েনি। ফলে আর্থিকভাবে তেমন লাভবান হচ্ছেন না কামার শিল্পীরা। যার কারণে অনেকে বাধ্য হয়ে পৈতৃক পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় ঝুঁকছেন। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার পৌর শহরের কর্মকার পট্টি, আমখোরা বাজার, কলাগাছিয়া বাজার, উলানিয়া বাজার, পানপট্টি বাজার, চিকনিকান্দি বাজার, ডাকুয়া বাজার, হরিদেবপুর বাসস্ট্যান্ড বাজার, বাদুরা বাজার জোলোখা বাজার সহ সকল হাটে কামার শিল্পীদের দম ফেলার ফুরসত নেই। কয়লার দগদগে আগুনে পুড়িয়ে পিটিয়ে তৈরি করছেন তারা দা, ছুরি, চাকু, বটি, কুড়াল, কুদালসহ ধারালো হাতিয়ার। কেউবা অর্ডারকৃত আর কেউবা নিজের লোহা দিয়েই তৈরি করছেন এসব ধারালো যন্ত্র। আবার অনেকে কামারের দোকানে শান দিতে নিয়ে আসছেন পুরনো হাতিয়ার। ঈদের আরো কয়েকদিন বাকি থাকলেও ইতিমধ্যে বেশ জমে উঠেছে কামারের দোকানগুলো। তাকে তাকে সাজানো হয়েছে দা, বটি, ছুরিসহ তাদের উৎপাদিত পণ্য। বড় ছুরি তিনশ’ থেকে চারশ’ টাকা, বটি দেড়শ’ থেকে তিনশ’ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন সাইজের দা, ছুরি লোহার ওজনের উপর ভিত্তি করেও বিক্রি করা হচ্ছে। কর্মকার পট্টির খোকা কর্মকার (৫৫), মনোরঞ্জন কর্মকার (৬৫), মিঠুন কর্মকার (৩৫) বলেন, বছরের বেশিরভাগ সময় কাজ না থাকায় অলস দিন কাটাতে হয়। ফলে ওই সময় কোনো উপার্জন না হওয়ায় বহু কষ্টে ছেলেমেয়ে নিয়ে দিন যাপন করতে হয়। কোরবানির ঈদ এলেই হাতে কাজ বেড়ে যায়। বছরে ছয় মাস কাজ করে যে উপার্জন হয়, ঈদের সময় তার প্রায় দ্বিগুণ উপার্জন হয়। তাই ঈদ উপলক্ষে সারা বছরের ঘাটতি পোষাতে নিরলস পরিশ্রম করে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি তৈরি করে যাচ্ছি।

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com

Design By JPHostBD
error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!