স্বামীর ঐহিত্য ধরে রাখতে আমতলীর সংগ্রামী দুই বিধবা নারী কামারের যুদ্ধ | আপন নিউজ

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ন

প্রধান সংবাদ
টিয়াখালীতে সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি এবিএম মোশাররফ হোসেন কলাপাড়ায় শহীদ শ‌ওকত হোসেন স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত লাইসেন্স ছাড়াই বরফকল পরিচালনা, কলাপাড়ায় ব্যবসায়ীকে জরিমানা কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল থেকে অ’প’হৃ’ত কলেজছাত্রী উ’দ্ধা’র, আ’ট’ক ২ কলাপাড়ায় স্মার্ট ফোন না পেয়ে অভিমানে তরুণের আ’ত্ম’হ’ত্যা পিতা-মাতারা ছাত্রদ‌লের নেতৃ‌ত্বে! বিএন‌পি কোন প‌থে? হাসপাতালে দালাল-সিন্ডিকেট চক্রকে প্রতিমন্ত্রী নুরের হুঁশিয়ারি কলাপাড়ায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত কলাপাড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু গরুর ভেক্সিনে অতিরিক্ত টাকা আদায় কলাপাড়া পশু হাসপাতালের বি’রু’দ্ধে অনিয়মের অভিযোগ
স্বামীর ঐহিত্য ধরে রাখতে আমতলীর সংগ্রামী দুই বিধবা নারী কামারের যুদ্ধ

স্বামীর ঐহিত্য ধরে রাখতে আমতলীর সংগ্রামী দুই বিধবা নারী কামারের যুদ্ধ

আমতলী প্রতিনিধিঃ দুই ভাই মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর পর স্বামীর ঐহিত্য ধরে রাখতে সাহসী সংগ্রামী দুই বিধবা নারী কামার জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। পুরুষরা হিসশীম খেলেও তারা ওই কাজে বীর যোদ্ধা। জীবন যুদ্ধে তারা আমতলীতে অদ্বিতীয়। তাদের দাবী সরকারের সহযোগীতা পেলে তারা আরো এগিয়ে যেতে পারতেন। ঘটনা আমতলী পৌর শহরের সদর রোডে।

জানাগেছে, আমতলী পৌর শহরের সদর রোডের শ্যাম কর্মকারের দুই ছেলে আশীষ কর্মকার ও অসীম কর্মকার। দুই ছেলেকে নিয়ে শ্যাম কর্মকারের কামার শিল্প বেশ জমজমাট ছিল। গত ৬০ বছর ধরে এ কাজের সাথে জড়িত তিনি। ২০১০ সালে শ্যাম কর্মকারের বড় ছেলে আশীষ কর্মকার মরণব্যধী ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। দুই বছর ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করে ২০১২ সালে মারা যান। বিধবা হয়ে পড়েন তার স্ত্রী ঝুমা কর্মকার। স্বামীর ঐহিত্য ধরে রাখতে বৃদ্ধ শ্বশুর ও দেবর অসীম কর্মকারের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ লোহার কাজে সহযাগীতা করেন বিধবা ঝুমা। কিছুদিন পরই ফুসফুস ক্যান্সারের আক্রান্ত হন ছোট ছেলে অসীম কর্মকার। ৫ বছর ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করে ২০১৯ সালে ৫ নভেম্বর তিনিও মারা যান। বিধবা হয় স্ত্রী পুতুল রানী কর্মকার। দুই ছেলেকে হারিয়ে মানষিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন বৃদ্ধ বাবা শ্যাম কর্মকার (৮২)। দুই ছেলেদের চিকিৎসায় সর্বস্ব হারিয়ে ফেলেন তিনি। মানুষের সাহায্য সহযোগীতায় তারা কোন মতে দিনাতিপাত করতে থাকেন। প্রায় বন্ধ হয়ে যায় তাদের কামার শিল্প। এমন মুহুর্তে দুই ছেলের দুই বিধবা স্ত্রী ঝুমা রানী কর্মকার ও পুতুল রানী কর্মকার স্বামীর ঐহিত্য ধরে রাখতে কামার শিল্পের হাল ধরেন। দিন রাত অদম্য পরিশ্রম করে চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের কর্মযজ্ঞ। যুদ্ধ করেন আগুন ও লোহার সাথে। প্রতিদিন দা, বটি, কুঠার, হাতুড়ি, ছেনা, চাকু ও খুন্তিসহ লোহার জিনিষ পত্র তৈরি করেন। আগুন এবং লোহার সাথে দুই বিধবা নারী গড়ে তোলের গভীর মিতালী। আগুন ও লোহার মিতালীতে কামারশালায় মত্ত তারা। এ কাজ করেই তাদের পরিবারের ৭ সদস্যের সংসার চলে। বয়সের ভারে শ্বশুর শ্যাম কর্মকার ন্যয্যমান। চোখে কম দেখেন, সারা শরীরের ফোসকা পড়ে চামড়া উঠে যাচ্ছে। বৃদ্ধ শ্বশুর-শ্বাশুড়ীর চিকিৎসা ভরন পোষণ, দুই বিধবা নারীর দুই সন্তান অন্তু কর্মকার ও অন্তরা কর্মকারের লেখাপড়া ও ননদের দেখভাল চলে এ কাজের অর্জিত অর্থ দিয়ে। কোরবানী উপলক্ষে এখন ব্যস্ত তারা। পুরুষ শ্রমিকের পাশাপাশি তারাও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন। সরকারী সহযোগীতা পেলে তারা আরো এগিয়ে যেতে পারবেন বলে দাবী করেন দুই নারী কামার।

জীবন যোদ্ধা নারী কামার পুতুর রানী ও ঝুমা রানী কর্মকার বলেন, আমার শ্বশুরের দুই ছেলে মরণব্যধী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। স্বামীর ঐতিহ্য ধরে রাখতে দুই ঝাঁ কাজে লেগে পড়ি। দিন রাত লোহা ও আগুনের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছি। তারা আক্ষেপ করে আরো বলেন, কি আর করা সংসারতো চালাতে হবে। বৃদ্ধ শ্বশুর-শ্বাশুড়ী তাদের চিকিৎসা ভরণ পোষণ ও দুই সন্তানের লেখাপড়া। যতই কষ্ট হোক স্বামীর ঐহিত্য ধরে রাখতে চেষ্টা করবো দুই ঝাঁয়ে। আমরা মিলে মিশে কাজ করি। কষ্ট হলেও ঝামেলা বিহীন দুই ঝাঁয়ের জীবন। স্বামী ছাড়া কষ্ট হলেও জীবনতো চালাতে হবে।

সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, নারী কামার পুতুল রানী কামারশালায় বসে কাজ করছেন। কোরবানী উপলক্ষে বেচা-কেনা ভালো। পুরুষ শ্রমিকের পাশাপাশি তারাও কাজ করছেন।

ঝুমা রানী কর্মকার বলেন, যতদিন শক্তি সামর্থ আছে ততদিন স্বামীর ঐতিহ্য ধরে রাখতে অদম্য চেষ্টা চালিয়ে যাব। এখান থেকে সরে যাব না। তিনি আরো বলেন, কষ্টের জীবনে সরকারী সহযোগীতা পেলে কামার শিল্পটাকে আরো বেগবান করা যেত।

বৃদ্ধ শ্যাম কর্মকার কান্নাজনিত কন্ঠে বলেন, চোহে দেহি না। হারা শরীলে ফোসকা পইর‌্যা চামড়া ওডে। দুই বিধবা পোলার বউ লোয়ার কাম হরে সোংসার চালায়। কাম কোম, সোংসার চালাইতে কষ্ট অয়। সরকারী সাহায্য পাইলে ভালো অইতো।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, দুই নারী কামারকে আর্থিকভাবে সহযোগীতা করা হবে।

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: JPHostBD
error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!