শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন
কলাপাড়ায় শশুর বাড়ির অ’ত্যা’চারে বি’ষ’পা’নে বাধ্য হয় বেল্লাল, আদালতে মা ম লা
বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠুঃ মায়ের আবদার আর পারিবারিক সম্মতিতে আপন মামাতো বোনকে বিয়ে করে বেল্লাল। কিন্তু বিয়ের এক মাস না যেতেই শুরু হয় শ্বশুরবাড়ি থেকে মানসিক নির্তাতন। ভাদাইম্মা,অকর্মা সহ বিশ্রী ভাষায় প্রতিনিয়ত চলতো গালাগাল। এমনকি বিষ খেয়ে মরার কথা বলা হতো বার বার। আর এমনসব মানসিক যন্ত্রণা সইতে না পেরে অবশেষে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় বেল্লাল। কিন্তু তার মৃত্যুর পর শশুর বাড়ি লোকজন রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ থাকায় আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ তুললেও বেল্লালের রেখে যাওয়া একমাত্র সন্তানের কথা ভেবে আইনি ব্যবস্থা নেয়নি পরিবার।
তবে এতেও থামেনি শশুরবাড়ির আগ্রাসন। আপোষ মিমাংসার কথা বলে আইনি ঝামেলা এরাতে সময় ক্ষেপণ করে ফের বেপরোয়া এখন তারা। এমনসব অভিযোগ এনে তরুণ বেল্লালের মৃত্যুর প্রায় ৯ মাস পর কলাপাড়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলা দায়ের করেছেন তার মা। যেখানে শশুর, শাশুড়ীর বিরুদ্ধে জামাতাকে বিষপানে আ/ত্ম/হ/ত্যায় স্পষ্ট প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন।
মামলার বিবরনে উল্লেখ করা হয়েছে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে চম্পাপুর ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা হাবিব মিয়ার ছেলে বেল্লাল বিষপানে আত্মহত্যা করে। পরে তাকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে নেওয়ার পথে বেল্লাল জানায় শশুর, শাশুড়ী তাকে বিষ খেয়ে মরতে বলেছেন। মা এই বিচার তুমি চাইবে। এবং বিভিন্ন মানসিক নির্যাতন করে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে তার শশুর ও আপন মামা ইলিয়াস।
বেল্লালের মা লাইজু বেগমের অভিযোগ,তার আবদারে ছেলে আপন মামাতো বোনকে বিয়ে করেছে। কিন্তু বিয়ের পর ঘর জামাই রাখতে একাধিক বার বেল্লালকে অপদস্ত করে তারই আপন ভাই ও ভাবি। পরে বেল্লাল তাদের অত্যাচারে বিষপানে বাধ্য হয়। তিনি বলেন, এখন আমার আর এক সন্তানকেও প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছে তারই আপন ভাই ইলিয়াস। তাই এখন তিনি আরএক সন্তানকে হারানোর ভয়ে আদালতের দারস্থ হয়েছেন।
এ বিষয়ে মৃত বেল্লালের শশুর ইলিয়াস বলেন, বিষপানের ঘটনার দিন আমি ঢাকাতে ছিলাম। আমার জামাইকে কোন সময় আমরা নির্যাতন করিনি। আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
কলাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ নেই কিংবা বিজ্ঞ আদালত থেকেও কোন তদন্তভারের নিদর্শনা পাওয়া যায়নি। পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply