গলাচিপায় ঘর পেয়ে খুশি উপকুলের হতদরিদ্র পরিবারগুলো; এ যেন ঈদের আনন্দ

জুন ১০ ২০২১, ২২:৫৩

গলাচিপায় ঘর পেয়ে খুশি উপকুলের হতদরিদ্র পরিবারগুলো; এ যেন ঈদের আনন্দ

সঞ্জিব দাস, গলাচিপাঃ গলাচিপায় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘর পেয়ে উপকুলের প্রায় ৯ শতাধিক পরিবার এর মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে। উপকারভোগী কয়েকজন তাদের অনুভুতি ব্যাক্ত করতে গিয়ে জয়দেব সাধু বলেন, শেখের বেটির উছিলায় মুই বুড়া বয়সে একখানা ঘর পাইছি। হেই ঘরে মুই পোলা-বউ ও নাতি লইয়্যা থাহা শুরু হরছি। মুই হারা জীবন ভাঙ্গা নারার ঘরে রইছি। বইন্ন্যা আর দেউইতে মুই ভিজজি। এ্যাহন শেখের বেটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোরে থাহার লইগ্যা একটা ইডের ঘর দেছে। মুই হেই ইডের ঘরে পোলা-বউ ও দুইডা নাতি লইয়্যা থাহি। এ্যাহন আর মোর শীতের ডর নাই। শীতে আর কষ্ট হরতে অইবে না। মুই শেখের বেটির জন্য ভগবানের দ্বারে দোয়া হরি যেন হ্যারে অনেক বচ্ছর বাচাঁইয়্যা রাহে। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ের আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ এর ঘর পেয়ে আনন্দে এ কথা বলেছেন উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের বৃদ্ধা জয়দেব সাধু। প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানাগেছে, মুজিব শত বর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ের আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ এ আওতাধীন উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নের ভূমিহীন হত দরিদ্র পরিবারগুলোকে প্রায় ৯শত ঘর দেয়া হচ্ছে। পাকা টিন শেডের এ ঘরে রয়েছে দুইটি থাকার কক্ষ, রান্না ঘর, স্বাস্থ্য সম্মত টয়লেট, গোসলখানা ও বেলকুনি। একটি ছোট পরিবারের জন্য উপযুক্ত থাকার ঘর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভালো উদ্যোগের ফলে হতদরিদ্র ও গৃহহীন পরিবার মাথা গোঁজার ঠাই পেয়েছেন।




বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, হতদরিদ্র মানুষগুলো প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘর পেয়ে খুবই আনন্দিত। তারা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে শান্তিতে বসবাস করছে। ঈদের মত উৎসবমুখর আশ্রায়ণ প্রকল্প এলাকাগুলো। উপজেলার চিকনিকান্দী ইউনিয়নের বাসনা রানী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘর পাইছি। খুব ভালো ঘর। আরাম আয়েশেই দিন কাটছে। এ বিষয়ে গলাচিপা সদর ইউনিয়নের হত দরিদ্র প্রতিবন্ধী হেলাল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘর পেয়ে আমি এবং আমার পরিবারের সকলেই খুশি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসএম দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ এর গলাচিপা উপাজেলায় প্রায় নয়’শ ঘর পেয়েছি। ওই ঘর ইউএনও স্যারের তদারকিতে নির্মিত হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশিষ কুমার বলেন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ এর উপজেলায় ৮৯৩ টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় চারশত ঘরের নির্মাণ কাজ শেষের পথে। প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার ইতিমধ্যে ঘরে বসবাস করছে। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা অনুযায়ী উপজেলার সকল হতদরিদ্র ও গৃহহীন পরিবারগুলোকে গৃহ নির্মাণের আওতায় আনা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেই ঘোষণা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মু. শাহিন শাহ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে বিশেষ উপহার হিসেবে ভূমিহীন হত দরিদ্ররা পাচ্ছে পাকা ঘর। বর্তমান সরকার জনগণের সকল স্তরের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। দেশের সকল যায়গায় উন্নয়ন এই সরকারের সময়েই হয়। পটুয়াখালী-৩ গলাচিপা-দশমিনা আসনের সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা সাজু বলেন, আশ্রায়নের অধিকার শেখ হাসিনার উপহার, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে ভূমিহীন হত দরিদ্র পরিবারগুলো পাচ্ছে পাকা ঘর। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভূমিহীন হতদরিদ্র মানুষের জন্য পরম বান্ধব সরকার। তিনি দিনরাত নিরলসভাবে মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তার তত্বাবধানে দেশে আজ উন্নয়নের জোয়ার বইছে। বিশ্বে বাংলাদেশ একটি ডিজিটাল দেশে পরিনত হয়েছে।

আমাদের ফেসবুক পেজ




Flag Counter


error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!