শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন

আমতলী প্রতিনিধিঃ দুই ভাঙ্গা পা নিয়ে স্বজনদের কোলে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজিরা দিতে এসেছেন গণধর্ষণের শিকার ও নন জিআর মামলার আসামী হালিমা আক্তার। ধর্ষণ মামলার আসামী ইউপি সদস্য এনায়েত প্যাদার ভাই হারুন প্যাদার দায়ের করা নন জিআর মামলায় রবিবার হালিমা আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। এ ঘটনায় আদালত প্রাঙ্গণে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় হালিমা ন্যায় বিচার দাবী করেছেন।
জানাগেছে, তালতলী উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের বেথিপাড়া গ্রামের হালিমা আক্তারকে গত ৮ এপ্রিল রাতে ইউপি সদস্য এনায়েত প্যাদাসহ ৩-৪ জনে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। এ ঘটনায় এনায়েত প্যাদাকে প্রধান আসামী করে হালিমা গত ৯ এপ্রিল তালতলী থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। এ মামলা দায়েরের পরপরই ইউপি সদস্য এনায়েত তাকে মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আসামী এনায়েত প্যাদা এ মামলায় হাইকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন নেন। জামিনে এসেই আসামী এনায়েত প্যাদা তাকে মামলা তুলে নিতে আবারো হুমকি দেয়। এ ঘটনায় গত ২৩ মে হালিমা তালতলী থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। ওই দিন সন্ধ্যায় এনায়েত প্যাদা ও তার সহযোগীরা তাকে ঘর থেকে তুলে আনে। পরে রাস্তায় ফেলে প্রকাশ্যে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার দুই পা ভেঙ্গে দেয়। হালিমার ডাক চিৎকারে লোকজন ছুটে আসলেও তারা ভয়ে এগিয়ে আসেনি। তাকে বর্বর নির্যাতন করে তারা বীর দর্পে চলে যায়। স্বজনরা হালিমাকে উদ্ধার করে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করেন। ওই হাসপাতালে হালিমা গত চারমাস ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে ইউপি সদস্য এনায়েত প্যাদা তার দুই পা ভেঙ্গে দিয়েই খ্যান্ত হয়নি উল্টো তার বিরুদ্ধে তার ভাই হারুন প্যাদাকে দিয়ে তালতলী থানায় নন জিআর-২০/২৩ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে গত ১৭ জুলাই আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। পরে আদালতের বিচারক হালিমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জাড়ি করেন। রবিবার এ মামলায় তিনি আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়ার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। আদালতের বাড়ান্দায় সে ওইদিন সকাল সাড়ে ১০ টায় অবস্থান করছিল। তার দুই পায়ে এখনো খত দগদগ করছে। বাম পায়ে পঁচন ধরেছে। ডান পায়ের খত কিছুটা শুকালেও বাম পায়ের অবস্থা খুবই খারাপ। হালিমা এমন বর্বরোচিত ঘটনার হোতা ইউপি সদস্য এনায়েত প্যাদার শাস্তি দাবী করেছেন। অপর দিকে স্ত্রী হালিমার উপর এমন বর্বর নির্যাতনের আঘাত সইতে না পেরে গত এক মাস পুর্বে স্বামী জব্বার মিয়া হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।
আদালতের বাড়ান্দায় ইউপি সদস্যের এনায়েত প্যাদার বর্বরোচিত নির্যাতনের বর্ননা দিতে গিয়ে হালিমা কান্নায় ভেঙ্গে পরেন এবং বলেন, আমাকে ইউপি সদস্যসহ ৩-৪ জনে গণধর্ষণ করেছে। মামলা দিয়েছি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেনি। উল্টো পুলিশ আমাকে হয়রানী করেছে। এনায়েত আমাকে মামলা তুলে নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে, আমি পুলিশকে জানালেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। হাইকোর্ট থেকে এনায়েত প্যাদা আগাম জামিনে এসে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিয়েছে। আমি মামলা তুলে না নিলে আমার মেয়েকে ধর্ষণ করবে, আমার পা ভেঙ্গে দিবে, এসিড মেরে পরিবারসহ পুড়িয়ে দিবে। পুলিশকে এমন ঘটনা জানালেও একটি ডায়েরী করেই তারা থেমে গেছেন। তিনি আরো বলেন, যেই দিন থানায় ডায়েরী করেছি, সেইদিনই সন্ধ্যায় আমাকে এনায়েত ও তার সহযোগীরা তুলে নিয়ে নির্মম নির্যাতন করে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে দুই পা ভেঙ্গে গুড়োগুড়ো করে দিয়েছে। কিন্তু এরপরও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেনি। উল্টো পুলিশ আমার বিরুদ্ধে এনায়েতের ভাই হারুনের দায়ের করা নন জিআর মামলায় আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছে। ওই প্রতিবেদনের আলোকে আদালত আমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ারা জাড়ি করেছে। আমি সেই মামলায় দুইপা ভাঙ্গা নিয়ে স্বজনদের কোলে আদালতে হাজিরা দিতে এসেছি। কি ছিল আমার অপরাধ?, আমিই ধর্ষণের শিকার হলাম, মামলা তুলে না নেয়ায় আমার দুই পা ভেঙ্গে দিলো আর আমাকেই সেই ভাঙ্গা পা নিয়ে আদালতে হাজিরা দিতে আসতে হয়। আর যে আমাকে বর্বর নির্যাতন করলো সে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশ তাকে কিছুই করছেন না।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য এনায়েত প্যাদা তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি হালিমার পা ভেঙ্গে দেয়নি। উল্টো হালিমা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছে।
তালতলী থানার ওসি মোঃ শহীদুল ইসলাম খাঁন বলেন, আসামী জামিনে এবং মামলাটি তদন্তাধীন আছে। তিনি আরো বলেন, আমি থানায় যোগদান করার আগের ঘটনা এটি। তারপরও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply