বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন

আমতলীতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে শ্রমিকদল নেতার সংবাদ সম্মেলন
আমতলী প্রতিনিধিঃ আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ জালাল উদ্দিন ফকিরের বিরুদ্ধে পৌর শ্রমিকদল সভাপতি মিল্টন হাওলাদারকে মিথ্যা চাঁদাবাজী মামলায় আসামী করে জেল হাজতে পাঠানোর অভিযোগ এনে উপজেলা শ্রমিকদল সভাপতি ও যান্ত্রিকযান থ্রী হুইলার মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ তারিকুল ইসলাম সোহাগ সংবাদ সম্মেলন করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে আমতলী উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে শতাধিক শ্রমিক নেতা ও চালকদের উপস্থিতিতে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপজেলা শ্রমিকদল সভাপতি মোঃ তারিকুল ইসলাম সোহাগ বলেন, শেখ হাসিনার পতনের পর থ্রীইলার ও সিএনজি স্ট্যান্ড উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন ফকিরের ছেলে রাহাত ফকির দখলে নেয়। তখন থ্রী-হুইলার ও সিএনজি থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করে রাহাত। গত দের বছর চলে রাহাতের প্রকাশ্যে চাঁদাবাজী। কেউ প্রতিবাদ করলেই তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হতো। গত বছর ফেব্রুয়ারী মাসে খুলনা শ্রম অধিদপ্তর থেকে থ্রী-হুইলার ও সিএনজির মালিক সমিতির নিবন্ধন আনা হয়। এতে সিএনজির মালিক সমিতির সভাপতি করা পৌর শ্রমিকদল সভাপতি মোঃ মিল্টন হাওলাদারকে। ওই সময় থেকেই থ্রী-হুইলার ও সিএনজি মালিক সমিতির নেতারা সরকারী নিয়ম মেনে থ্রী-হুইলার ও সিএনজি পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু এতে ক্ষুব্ধ হন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ জালাল উদ্দিন ফকির। তিনি ও তার ছেলে রাহাত ফকির প্রায়ই থ্রী-হুইলার ও সিএনজি চালাতে বাঁধা দিতো। গত মঙ্গলবার সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ মিল্টন হাওলাদার বাসা থেকে বের হয়ে সিএনজি স্ট্যান্ডে যায়। এমন সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ জালাল উদ্দিন ফকির তার দলবল নিয়ে অহেতুক মিল্টন ও সুমনকে ধরে চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে পুলিশে দেয়। পরে সিএনজি চালক নয় তারই (জালাল ফকিরের) সহযোগী মোঃ আমিরুল ইসলামকে বাদী করে আমতলী থানায় একটি মিথ্যা চাঁদাবাজী মামলা সাজিয়ে মিল্টনকে জেল হাজতে পাঠায়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন ফকিরের ছেলে রাহাত ফকির একজন ডাকাত ও চিহিৃত সন্ত্রাসী। শেখ হাসিনার পতনের পর থ্রী-হুইলার ও সিএনজি থেকে মাসিক থানার নাম করে এক হাজার পাচ’শ টাকা চাঁদা তুলে আসছে। এছাড়া থ্রী-হুইলার ও সিএনজি সড়কে চলতে হলে তাকে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়েছে। তার ছেলে রাহাত ফকিরের এমন চাঁদাবাজী বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারনে ক্ষিপ্ত হয়ে মিল্টন ও সুমনকে চাঁদাবাজ সাজিয়ে মিথ্যা মামলায় জেলে দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, জালাল ফকির তার ছেলের সকল অপরাধে প্রকাশ্যে সহযোগীতা করছেন। তার এমন জঘন্য কাজের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে দ্রুত সিএনজি মালিক ও আমতলী পৌর শ্রমিকদল সভাপতি মিল্টন হাওলাদার ও সুমনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও জেল হাজত থেকে মুক্তির দাবী জানান তিনি। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মঞ্জুরুল কবির, নিজাম হাওলাদার, খলিল মীর, টিটু, রুবেল আকন, অসীম মৃধা ও নজরুল ইসলামসহ শতাধিক শ্রমিকদল নেতা, থ্রী-হুইলার ও সিএনজি চালকরা। আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ জালাল উদ্দিন ফকির তার সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করে বলেন, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন এসে মিল্টনকে হাতে নাতে টাকাসহ ধরেছে। তারাই আইনী ব্যবস্থা নিয়েছেন। মিল্টনেরে বিরুদ্ধে আমি কিছুই করিনি। আমতলী থানার ওসি আবু সাহাদাৎ মোঃ হাচনাইন পারভেজ বলেন, মামলা তদন্তাধীন আছে। স্বাক্ষ্য প্রমাণে নিদোষ প্রমানতি তাকে অহেতুক কাউকে হয়রানী করা হবে না। তিনি আরো বলেন, যে কেউ সংবাদ সম্মেলন করে নিদোষ দাবী করার অধিকার আছে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply