বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ০২:০৩ পূর্বাহ্ন

মেজবাহউদ্দিন মাননুঃ চরচান্দুপাড়া গ্রামের যুবক ফেরদৌস তালুকদার বরাবরের মতো এবছরও বাণিজ্যিকভাবে ৬৪ বিঘা জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন। এখন পর্যন্ত তার অন্তত ২১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ফলনও মোটামুটি ভালো হয়েছে। ঈদের দুই দিন আগে থেকে বিক্রি শুরু করেছেন। মোট এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা এক চালানে বিক্রি করেছেন। এক গাড়ি তরমুজে তার লেবার ও গাড়িভাড়া প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আর পরে পাঠানো চার গাড়ি তরমুজ এখন পর্যন্ত বিক্রি করতে পারেননি। আজকে বুধবারও চার গাড়ি তরমুজ মোকামে পাঠিয়েছেন। জানালেন, এবছর গ্রামে পাইকার তেমন আসেনি। মোকামেও চাহিদা কম। দাম অর্ধেক কমে গেছে। ২২০০ টাকা মণ দরের তরমুজ বাধ্য হয়ে ১২০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। পাইকারের সংকটে অনেকটা সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন ফেরদৌস। তার অন্তত ১২ লাখ টাকা লোকসান হওয়ার শঙ্কার কথা জানালেন। গেল বছর দুই গাড়ি তরমুজে যেখানে নয় লাখ টাকা বিক্রি করেছেন। এবারে দুই লাখে তা বিক্রি করতে পারছেন না।
জানালেন ফেরদৌস, ঈদের আগ থেকে এখন পর্যন্ত কয়েক দফা বৃষ্টিতে ক্ষেতের মধ্যে কাদা হয়ে গেছে। পাকা তরমুজে কাদা লেগে গেছে। আবহাওয়াও এবারে প্রতিকূলে ছিল। ফাল্গুনে আবহাওয়া তেমন গরম হয়নি। চৈত্র শুরু হয়েছে। তারপরও তাপমাত্রায় কোন তারতম্য নেই। জানালেন তিনি, এসব কারণে তরমুজের চাহিদা খুব কম। স্থানীয় বাজারে রোজার কয়দিন কিছু চাহিদা ছিল, এখন বিক্রি নেই। পাইকার নেই। অনেকে যারা দূর থেকে এসে চাষাবাদ করেছেন তাঁদের কেউ কেউ পালিয়ে গেছেন। দেনায় পড়ে এমনটা হয়েছে বলে জানালেন তিনি। মোটকথা দুশ্চিন্তায় এমন শত শত কৃষকের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।
একই দশায় ওই গ্রামের আরেক তরমুজ চাষী মোঃ রিয়াজ। তিনি ২৪ বিঘা জমিতে তরমুজের আবাদ করেছিলেন। একই দশায় ধানখালীর নমরহাট বাজারের পাশের চাষী অলিউল্লাহর। তিনি ৪০ বিঘা জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন। জানালেন তিনজন শ্রমিক নিয়ে শুরু থেকে কাজ করেছেন। ফলন মোটামুটি হয়েছে। কিন্তু চার-পাঁচদিনের মধ্যে বিক্রি করতে না পারলে পথে বসে পড়বেন। উপকূলীয় জনপদ পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সহস্রাধিক তরমুজ চাষী এভাবে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। এসব চাষীরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তবে যারা আগাম ফলন পেয়েছেন। রমজানের মধ্যে বিক্রি করতে পেরেছেন তারা অনেকটা লাভবান হয়েছেন। মোট কথা কলাপাড়ায় এবছর তরমুজ আবাদ করা অর্ধেক চাষী পথে বসে গেছেন। লোকসানের ধকলে তাঁদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছেন। এছাড়া কয়েকশ চাষীর ফলনও ঠিকমতো হয়নি। মাঠে তাদের ফলন হয়নি।
উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, এবছর কলাপাড়ায় মোট ৪৪৪৭ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। প্রায় তিন হাজার চাষী তরমুজের আবাদ করেছেন। যারা আগাম চাষাবাদ করেছে তারা ভালো দামে তরমুজ বিক্রি করতে পেরেছেন। অর্ধেক চাষীর লোকসান হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এবছরে ৪০৪ কোটি টাকা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিক্রি যেহেতু শেষ হয়নি। তাই এখনই বলা যাচ্ছে না, টাকার অংকে কত বিক্রি আসবে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান আরো জানান, গেল বছরে ৩৩৮০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। ফলন হয়েছে প্রতি হেক্টরে প্রায় ৪০ টন। এবছর জমি বেশি আবাদ হলেও ফলনও কিছুটা কম হয়েছে। আবহাওয়াও তেমন অনুকূলে ছিল না। অর্ধেক চাষী লোকসানে পড়ার আশঙ্কা এই কর্মকর্তার।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply