প্রথম স্বামীর অর্থ-সম্পদ লুটে কুমারি সেজে ফের বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন নুপুর!

আগস্ট ২৬ ২০২০, ১১:৪৮

আপন নিউজ, বরিশাল অফিসঃ

পুরো নাম হুমায়রা আক্তার। ডাক নাম নুপুর। বয়স ২৬। মামলা সূত্রে জানা যায় বাগেরহাট জেলা সদরের সরুই পিসি কলেজ রোডের মিন্টু মিয়ার ভাড়াটিয়া হুমায়ূন কবির জোমাদ্দার রূপসী-সুন্দরী কন্যা নুপুরের বিরুদ্ধে প্রেমের জালে পুরুষকে আকৃষ্ট করা এবং বিবাহিত হওয়ার পরও কুমারি সেজে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি অর্থ-সম্পদ লুটে এক স্বামী ছেড়ে তথ্য গোপন করে ফের বিয়ের চাঞ্চল্যকর তথ্যও ফাঁস হয়েছে।

জানা গেছে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে এক বছর যেতে না যেতেই প্রথম স্বামীর বাড়ি থেকে মোটা অংকের অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় নুপুরের বিরুদ্ধে থানায় জিডি এবং আদালতে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। এ অবস্থার মধ্যেও নুপুর প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে নতুন স্বামীকে নিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নুপুরের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে এখন দুই স্বামীর পরিবারে অশান্তির কালো ছায়া নেমে এসেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা এ ধরণের প্রতারণা থেকে বাঁচতে নুপুর ও তার সহযোগিদের শাস্তি দাবি করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হুমায়রা আক্তার নুপুর বরিশালের বাকেরগঞ্জে ‘কোডেক’ নামে একটি এনজিওতে চাকরি করতো। এই সুবাদে সে প্রেমের জাল বিস্তার করে। তার ওই জালে জড়িয়ে যান বরিশাল নগরীর নূরিয়া স্কুল সংলগ্ন ডেঙ্গু সড়কের সরদার গলির বাসিন্দা ইউসুফ আলী মৃধার পুত্র ঠিকাদার বশির মৃধা। প্রেম বিনিময়ের একপর্যায়ে গত বছরের ১৯ জুলাই ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর সুখেই কাটছিল তাদের দাম্পত্য জীবন। কিন্তু নুপুরের ভালো মানসিকতার মুখোশের আড়ালের প্রতারণা বিষয়টি বুঝতে ব্যর্থ হন ঠিকাদার স্বামী বশির মৃধা। চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল নুপুরের বাবা-মা মেয়ের জামাই বাড়িতে বেড়াতে যান। জামাই বশির শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে সাধ্যমত আপ্যায়ন করে কাজে বের হন। নুপুর ঘরে থাকা স্বামী বশিরের ঠিকাদারি কাজের নগদ ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে বাসায় তালা লাগিয়ে তার বাবা-মাসহ বের হয়ে যায়। এরপর থেকেই লাপাত্তা হয় নুপুর। বশির মোবাইলফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে খোঁজার চেষ্টা না করতে এবং এ বিষয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে উল্টো তাকেই জেলের ভাত খাওয়ার হুমকি দেয় স্ত্রী নুপুর ও বাবা।

নুপুরের স্বামী ঠিকাদার বশির মৃধা অভিযোগ করে বলেন, নুপুর তাকে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে বিয়ের পর মাত্র ৯ মাসের মধ্যেই নিঃস্ব করে পালিয়েছে। আরো বলেন আমার সাথে বিয়ে আগে রাতুল নামে যশোরের এক যুবকে নুপুর বিয়ে করেছিলেন আমি তার দ্বিতীয় স্বামী। এমনকি নুপুরের বাবা তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলাসহ প্রাণনাশেরও হুমকি দিয়েছে। তিনি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন- উল্লেখ করে এ ধরণের প্রতারণার শাস্তি দাবি করেন।

এ ঘটনায় তিনি ৩ জুন বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়রি এবং ২৮ জুলাই বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে চুরি মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্ত্রী হুমায়রা আক্তার নুপুর এবং তার বাবা হুমায়ূন কবির ও মা হাসমত তারাকে আসামি করা হয়। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য বরিশাল কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আদেশ দেন ।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, স্বামী বশিরের অর্থ-সম্পদ চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই নুপুর আবারও বিয়ের পিঁড়িতে বসে। তবে এবার বরিশাল নয় সমুদ্র বন্দর মংলায়। বিয়ে করেন মংলা পৌরসভার কুমারখালী গ্রামের শিল্পপতি মো. হানিফের পুত্র শিপিং ব্যবসায়ী মো. মিরাজকে। এখানেও যথারীতি নুপুর আগের বিয়ে অস্বীকার এবং তথ্য গোপন করে কুমারি সেজেই কাবিন নামায় স্বাক্ষর করেন ।

এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন দ্বিতীয় স্বামী মিরাজের মা জানান, (ভিডিও সাক্ষাৎকার সংরক্ষণ আছে) তার ছোট ছেলে মিরাজকে ৬ বছর আগে মোড়লগঞ্জের জিউধারা গ্রামের লতিফ খানের মেয়েকে পারিবারিক ভাবে বিয়ে করিয়েছিলাম, সেখানে একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। কিন্তু স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় কয়েক মাস আগে বিবাহ বিচ্ছেদ করা হয়। এরপর থেকে তিনি ছেলের বিবাহের জন্য মেয়ে খুঁজছিলেন। এরই মধ্যে তাবলীগের কাজ করার সুবাদে নুপুরের নানী আসমার সঙ্গে আগে থেকেই পরিচয় ছিল তার ও তার স্বামীর ছোট ভাইয়ের (দেবর) স্ত্রী ঝর্ণার। ছেলের জন্য মেয়ে খোঁজার বিষয়টি আলোচনার একপর্যায়ে নুপুরের নানী তাদেরকে নুপুরের কথা বলেন।

তারা জানান, নুপুর মাস্টার্স পড়ছে এবং অবিবাহিত। কথা-বার্তার একপর্যায়ে গেল রমজানের ২ দিন আগে লকডাউন চলাকালীন নুপুরকে নিয়ে তার নানীও আত্মীয়রা মংলায় মিরাজের বাসায় আসেন। নুপুরের নানী ও আত্মাতীরা মিরাজকে দেখালে তাদের পছন্দ হয়। এ বিষয়ে মিরাজের মা নিজে নুপুরের বাবা-মাকে ফোন করে মেয়ের আগে বিয়ে ছিল কি-না জিজ্ঞাসা করলে তারাও বিয়ে হয়নি বলে জানান। এরপর স্থানীয় আন্দাইরা গ্রামের কাজী বোরহান উদ্দীনকে দিয়ে ৩ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে পড়ানো হয়।

মিরাজের মা ক্ষোভ করে বলেন, নিজের পছন্দের মেয়ের সঙ্গে তিনি ছেলেকে বিবাহ দিলেন। কিন্তু বিয়ের মাত্র এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই নুপুরের আচারণ তার কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। এরই মধ্যে মোবাইলে তার কথপোকথনের একপর্যায়ে তার আগের বিয়ের বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি ক্ষুব্ধ হলে ঈদের রাতেই নুপুর তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করে। পরবর্তীতে তিনি ওই মেয়েকে রাখতে না চাইলে এমনকি আরও তথ্য ফাঁস হওয়ার ভয়ে নুপুর তাদের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে থাকেন। ঈদের পরই নুপুর তার ছেলে মিরাজকে পুরো কন্ট্রোলে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। গত ৩/৪ মাস ধরে তাদের সঙ্গে আর কোন যোগাযোগ নেই। এমনকি তারা কোথায় আছে, তাও তিনি জানেন না।

তিনি নুপুর ও তার বাবা-মায়ের প্রতারণার শিকার হয়েছে উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনি ছেলেকে একটি কুমারি মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন, কারও বউ-এর সঙ্গে বিয়ে দেননি। কিন্তু পরে জানতে পারেন নুপুর বিবাহিত। এমনকি তার বাবা-মাও এ বিষয়টি অস্বীকার করেছে। এখন প্রতারক নুপুরের ফাঁদে পড়ে তার ছেলেও বাড়ি ছাড়া। তিনি ছেলেকে ফেরত পাওয়া এবং নুপরের মত এ ধরণের অন্যায়কারীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন।

এ ব্যাপারে হুমায়রা আক্তার নুপুর বলেন, বশিরের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু তার সঙ্গে সংসার করিনি। আমি তার সঙ্গে থাকবো না। টাকা-পয়সা লুটে নেয়ায় বিষয়টি সত্য নয়। আর ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল না থাকায় মিরাজের মা আপনাদের মিথ্যা তথ্য দিয়েছে।

আমাদের ফেসবুক পেজ




Flag Counter


error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!