শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৩০ অপরাহ্ন

আপন নিউজ অফিসঃ কলাপাড়ায় সরকারি প্রকল্পে হস্তান্তরের মাধ্যমে সমাপ্ত হচ্ছে ভাসা প্রকল্পের কার্যক্রম ভাসা-২ প্রকল্প, সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)। ২৩ ডিসেম্বর সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) পরিচালিত ভাসা প্রকল্পের সমাপনী সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রবিউল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন। সভাপতির বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, “ভাসা প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে আমার সুস্পষ্ট ধারণা রয়েছে, এর মাধ্যমে হাজার হাজার শিশু পানিতে ডুবার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত থেকেছে। ভাসা প্রকল্পের কার্যক্রম আমরা যখনই পরিদর্শনে গিয়েছি তখনই একটি ভালো গোছানো কাজ দেখেছি”। আঁচল কেন্দ্র পরিচালনা এবং সাঁতার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম রবিশাল বিভাগে বাস্তবায়ন করার জন্য তিনি সিআইপিআরবিকে ধন্যবাদ জানান। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের জন্য বাধ্যতামূলক সাঁতার প্রশিক্ষণ চালু হওয়া উচিত বলে মতামত ব্যক্ত করেন। একজন শিশুও যেন পানিতে ডুবে মারা না যায় তা নিশ্চিত করতে সকলকে আরো সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিআইপিআরবি এর উপ-নির্বাহী পরিচালক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. আমিনুর রহমান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “পানিতে ডুবা একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা যা থেকে উত্তরণের কার্যকরী উপায় সিআইপিআরবি তার ২০ বছরের গবেষণায় খুঁজে বের করেছে”। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন যে বিভিন্ন প্রাণঘাতী ভাইরাসের জন্য যেমন টিকার ব্যবস্থা রয়েছে তেমনি ১-৫ বছর বয়সীদের জন্য আঁচল কার্যক্রম ৮০% এবং ৬-১০ বছর বয়সীদের জন্য জীবনের জন্য সাঁতার কার্যক্রম ৯০% পর্যন্ত পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি কমায়।
জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা বলেন, “সিআইপিআরবি সংস্থার ২০ বছরের পরিশ্রমের ফসল ভাসা প্রকল্প। কারণ তাদের তুলে আনা তথ্য ও প্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যকারিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকার দেশের ১৬টি জেলায় এই কার্যক্রমগুলো পাইলট আকারে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।”
কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, “ভাসা প্রকল্প কমিউনিটিতে যে জনসচেতনতা তৈরি করেছে তা প্রকল্প পরবর্তী সময়েও চলমান থাকবে”।
এ সময় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার, কলাপাড়া থানা ওসি (তদন্ত) মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, সাংবাদিক মিলন কর্মকার, সুজন মৃধা, এস এম আলমগীর হোসেন প্রমুখ সহ আরও অনেকে সভায় উপস্থিত থেকে ভাসা প্রকল্প নিয়ে তাদের মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। তারা বিভিন্ন সময়ে ভাসা প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। তারা তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে ভাসা শিশুদের জীবন বাঁচাতে ভাসা প্রকল্পের অবদান উল্লেখ করেন। তারা বলেন যে আঁচল, সুইমসেফ ও ফার্স্ট রেসপন্স প্রশিক্ষণকে অভিভাবক ও কমিউনিটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছেন।
প্রসঙ্গত ২০১৬ সাল থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নন কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রাম, যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউটিউশন এবং প্রিন্সেস শার্লিন অফ মোনাকো ফাউন্ডেশন এর সহযোগিতায় পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া ও উপজেলায় “ভাসা” প্রকল্প কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। সরকারী প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে বরগুনা জেলার আমতলী এবং পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা ও বাউফল উপজেলায় প্রকল্প কার্যক্রম বিস্তার লাভ করেছে। শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যু ও ইনজুরি প্রতিরোধ করা-এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। প্রকল্পটির কার্যাবলীর মধ্যে রয়েছে -শিশুযত্ন কেন্দ্র (আঁচল) পরিচালনা, জীবনের জন্য সাঁতার কার্যক্রম (সুইমসেফ) বাস্তবায়ন এবং ফার্স্ট রেসপন্স প্রশিক্ষণ প্রদান। ছয়টি কর্ম এলাকায় বর্তমানে ৫১০টি আঁচল কেন্দ্র রয়েছে। প্রকল্পের সন্তোষজনক ফলাফলের পরিপ্রেক্ষিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি বাংলাদেশের ১৬টি জেলার ৪৫টি উপজেলায় ‘‘ইনটিগ্রেটেড কমিউনিটি বেইজ সেন্টার ফর চাইল্ড কেয়ার প্রটেকশন অ্যান্ড সুইমসেফ ফেসিলিটি (আইসিবিসি) প্রজেক্ট নামে একই ধরণের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। সিআইপিআরবি উক্ত প্রকল্পে কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করছে। উল্লেখ্য যে, ভাসা প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত আঁচল কেন্দ্রগুলোকে আইসিবিসি প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply