বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন

আমতলী প্রতিনিধিঃ আমতলী উপজেলার উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের জহিরুল সিকদার হত্যার ঘটনায় পরিকল্পনাকারী ফারুক হোসেন জাকিরকে আসামী না করতে পুলিশ কর্মকর্তা হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে রফাদফার প্রস্তাব ওসি (তদন্ত) সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ নিহতের স্ত্রী নুপুর বেগমের। ফারুক হোসেন জাকিরকে আসামী করা ও ওসি (তদন্তের) শাস্তি দাবীতে সোমবার দুপুরে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন। ওসির এমন আচরণে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানাগেছে, উপজেলার উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের ফরিদ সিকদারের সঙ্গে ভাই মুনসুর সিকদারের ১০ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে ফরিদ সিকদার ওই জমি চাষাবাদ করতে যায়। খবর পেয়ে মুনসুর সিকদার একটি ছুরি নিয়ে তাকে ধাওয়া করে। তার ডাকচিৎকারে চাচাতো ভাই জহিরুল সিকদার ছুটে আসেন। এ সময় ঘাতক মুনসুর সিকদারকে নিবৃত করতে চেষ্টা করেন তিনি। এক পর্যায়ে ঘাতক মুনসুর তার পেটে ছুরিকাঘাত করে। এতে তিনি মারা যান। অভিযোগ রয়েছে এ ঘটনায় মুল পরিকল্পনাকারী মুনসুর সিকদারের ছেলে ফারুক হোসেন জাকির। তার পরিকল্পনায়ই বাবা মুনসুর সিকদার শনিবার জহিরুল সিকদারকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে এমন নুপুর বেগমের। এ ঘটনায় শনিবার বিকেলে আমতলী থানায় নিহত জহিরুল সিকদারের স্ত্রী নুপুর বেগম মামলা করতে যায়। ওই সময়ে আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) সাইদুর রহমান নিহতের স্ত্রী নুপুর বেগমকে ঘটনার মুল পরিকল্পনাকারী ফারুক হোসেন জাকিরকে আসামী করতে বারণ করেন এবং পাঁচ লাখ টাকায় রফাদফার প্রস্তাব দেন। এতে নুপুর রাজি না হওয়ায় তার সঙ্গে অসৌজন্যমুলক আচরণ করেছেন এমন অভিযোগ নুপুর বেগমের। ঘটনার পরপরই ফারুক হোসেন জাকির পলাতক রয়েছে। হত্যার মুল পরিকল্পনাকারী জাকির হোসেন ফারুককে আসামী করা এবং ওসি (তদন্তের) খারাপ আচরণের শাস্তির দাবীতে সোমবার দুপুরে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন হাবিবা, পপি বেগম, নুরুননাহার, আম্বিয়া বেগম, আমিরুল খাঁন ও মোস্তফা গাজী প্রমুখ।
খোজ নিয়ে জানাগেছে, পুলিশ ঘাতক মুনসুর সিকদার ও তার স্ত্রী শেফালী বেগমকে গ্রেপ্তার করে রবিবার বিকেলে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করেছেন। আদালতের বিচারক মোঃ ইফতি হাসান ইমরান তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনার মুল পরিকল্পনাকারী জাকির হোসেন ফারুককে আসামী না করেই পুলিশ মাত্র দুইজনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার বাদী নুপুর বেগম অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার মুল পরিকল্পনাকারী জাকির হোসেন ফারুককে আমি আসামী করতে চেয়েছিলাম কিন্তু ওসি (তদন্ত ) সাইদুর রহমান তাকে আসামী না করেই দুইজনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তিনি আরো বলেন, ওসি (তদন্ত) আমাকে মামলা করতে দিতে চায়নি। আমাকে রফাদফার জন্য পাঁচ লাখ টাকার প্রস্তাব দিয়েছেন। আমি তাতে রাজি না হওয়ায় আমার সঙ্গে অসৌজন্যমুলক আচরণ করেছেন। আমি হত্যার মুল পরিকল্পনাকারী ফারুক হোসেন জাকিরকে আসামী ও ওসির তদন্তের শাস্তি দাবী করেছেন।
আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ সাইদুল ইসলাম সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তদন্তে আরো দোষী প্রমানিত হলে তাকেও আসামী করা হবে।
বরগুনা পুলিশ সুপার মোঃ কুদরতই-খুদা বলেন, খোজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply