শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫০ অপরাহ্ন

আপন নিউজ ডেস্কঃ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা ইপিএসএমপি-২০২৫ (২০২৬–২০৫০) খসড়া বাতিলের দাবিতে কলাপাড়ায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে নাগরিক সমাজের বিভিন্ন প্রতিনিধি সংগঠন।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২৫ বছর মেয়াদি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা অনুমোদনের উদ্যোগ নিলে এর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টায় কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সামনে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, খসড়া মহাপরিকল্পনাটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, স্বচ্ছতা ও জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়াই প্রণয়ন করা হয়েছে। পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাব যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি এবং কোনো ধরনের জনশুনানি বা উন্মুক্ত পরামর্শ গ্রহণ করা হয়নি। একই সঙ্গে ডলারের রিজার্ভ রক্ষায় জ্বালানি খাতে এলএনজি নির্ভরতা ও বিলাসিতা বন্ধ করার আহ্বান জানান তারা।
প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-পটুয়াখালীর আহ্বায়ক অমল মুখার্জির সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মো. নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ কর্মী মেজবাহউদ্দিন মাননু, সাবেক কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম এবং প্রান্তজন ট্রাস্টের মাঠ সমন্বয়ক সাইফুল্লাহ মাহমুদ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সদস্য শরীফুল হক শাহীন, আমরা কলাপাড়াবাসী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি নাজমুস সাকিবসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
প্রান্তজন ট্রাস্টের মাঠ সমন্বয়ক বলেন, “এই দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়নে জনগণ, নাগরিক সমাজ ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। কোনো জনশুনানি ছাড়াই পরিকল্পনাটি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা পূর্ববর্তী সরকারের অস্বচ্ছ নীতির পুনরাবৃত্তি।”
বক্তারা আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব নিয়মিত রাষ্ট্র পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা থাকলেও তারা একটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও বহুমাত্রিক প্রভাবসম্পন্ন জ্বালানি পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। এমনকি উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অর্থবহ অংশগ্রহণমূলক পরামর্শ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
আলোচনায় জানানো হয়, মহাপরিকল্পনায় ‘এনার্জি ট্রানজিশন’-এর কথা বলা হলেও বাস্তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রকৃত অংশ মাত্র ১৭ শতাংশ। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, দীর্ঘমেয়াদে এলএনজি, কয়লা ও তেলের ওপর নির্ভরতা এবং ব্যয়বহুল ও পরীক্ষামূলক প্রযুক্তির ব্যবহার দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।
প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে জানানো দাবিগুলো হলো-
অবিলম্বে ইপিএসএমপি–২০২৫ স্থগিত ও সম্পূর্ণ বাতিল করতে হবে,
নাগরিক সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ জাতীয় পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে,
জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা কমিয়ে ১০০% নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে,
ন্যায্য, সামাজিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি রূপান্তরের ভিত্তিতে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এসব দাবি উপেক্ষা করা হলে এই মহাপরিকল্পনা দেশের ইতিহাসে আরেকটি জনবিরোধী ও দায়মুক্তিমূলক নথি হিসেবে চিহ্নিত হবে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply