আমতলীতে মাদরাসা ছাত্রকে বিচারের নামে পিটিয়ে জখম

জুন ১০ ২০২১, ১৬:০৭

আমতলীতে মাদরাসা ছাত্রকে বিচারের নামে পিটিয়ে জখম
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ আমতলীতে বিচারের নামে ইউসুফিয়া রশিদিয়া হাফিজিয়া নুরানী মাদরাসার হেফজ শাখার ছাত্র রবিউল ইসলাম (১২) নামে এক ছাত্রকে মাদ্রাসা সভাপতি ও এক শিক্ষক মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বজনরা আহত ছাত্রকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনা ঘটেছে উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামে বুধবার রাতে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিশুটির বাবা দুলাল ফকির। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনার সাথে জড়িত শিক্ষক মোঃ মাহবুব আলম ও সভাপতি মোঃ আবুল চৌকিদার গা-ঢাকা দিয়েছেন।
জানগেছে, উপজেলার উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের দুলাল ফকিরের ছেলে মোঃ রবিউল ইসলাম (১২) একই গ্রামের ইউসুফিয়া রশিদিয়া হাফিজিয়া নুরানী মাদরাসায় হেফজ শাখায় লেখাপড়া করে আসছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় সহপাঠি নাঈমের সাথে জুতা পায়ে দেয়া নিয়ে তার কথা কাটাকাটি হয়।




এবিষয়টি সহপাঠী নাঈম মাদরাসার শিক্ষক মোঃ মাহবুব আলমের কাছে অভিযোগ দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষক মাহবুব আলম ও মাদরাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ আবুল চৌকিদার ছাত্র রবিউলকে বিচারের নামে বাঁশের কাি দিয়ে বেধরক পিটিয়ে গুরুতর জখম কওে এমন অভিযোগ ছাত্র রবিউলের। কাি র আঘতে রবিউল রক্তাক্ত জখম হয়। খবর পেয়ে ওই রাতে স্বজনরা শিশু রবিউলকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় রবিউলের বাবা দুলাল ফকির বৃহস্পতিবার আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনার পরপর অভিযুক্ত শিক্ষক মাহবুব আলম ও মাদরাসা সভাপতি আবুল চৌকিদার গা-ঢাকা দিয়েছেন।
আহত রবিউল ইসলাম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার সহপাঠি নাঈমের সাথে জুতা পায়ে দেওয়া নিয়ে সামন্য কথা কাটিকাটি হয়। এ নিয়ে মাদরাসার সভাপতি আবুল চৌকিদার ও শিক্ষক মাহবুব আলম আমাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছে। আমি তাদের হাতে পায়ে ধরেও রক্ষা পাইনি।
শিশুটির বাবা মোঃ দুলাল ফকির বলেন, রক্তাক্ত অবস্থায় আমার ছেলেকে মাদরাসা থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। তিনি আরো বলেন, এ বিষয় আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এ ঘটনার বিচার চাই।




মাদরাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবুল চৌকিদার ও শিক্ষক মাহবুব আলম ছাত্র রবিউলকে বিচারের নামে মারধরের কথা অস্বীকার বলেন, কয়েকটি চর থাপ্পর দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাঃ মিজানুর রহমান বলেন, শিশু রবিউলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
আমতলী থানার ওসি মোঃ শাহ আলম হাওলাদার বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনায় সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমাদের ফেসবুক পেজ




Flag Counter


error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!