সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এমন অবস্থায় রাজনীতি, দল-মত, মতাদর্শ, সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে তার জন্য সবার দোয়া কাছে দোয়া চেয়েছেন বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টির সদস্যসচিব ফাতেমা তাসনিম।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি খালেদা জিয়ার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও ফ্যাসিস্ট সরকারের বয়ে যাওয়া তাঁর উপরে নির্মম অত্যাচার জেল জুলুম কথা উল্লেখ করে বলেন, রাজনীতি, দল–মত, মতাদর্শ থাকতে পারে তবে আমার ব্যক্তিগত অনুভূতি আমি একজন নারী নেত্রী হিসেবে সারা জীবনে আমার হৃদয় দিয়ে ভালোবেসেছি যার নাম বেগম খালেদা জিয়া, যিনি গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার চেতনা বাঁচিয়ে রাখার জন্য আজীবন সংগ্রাম করে চলেছেন।
অনেক নেতা-নেত্রী আসবেন এবং যাবেন, কিন্তু খালেদা জিয়ার মতো এতটা শক্তিশালী, ধৈর্যশীল ও ত্যাগী নেত্রী বাংলাদেশ আর কখনো দেখেনি, দেখবেও না।
আজ তিনি গুরুতর অসুস্থ, আল্লাহর দরবারে আমরা হাত উঠাই-যেন তাঁকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলেন।
ফাতিমা তাসনিম বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া এক অনন্য মহীয়সী নারী, যাঁর জীবন সংগ্রাম, ত্যাগ ও নেতৃত্ব জাতীয় ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে রাজনীতির প্রতিটি পরতে তাঁর উপস্থিতি এক সাহসী ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ নেতৃত্বের ইতিহাস রচনা করেছে।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী হিসেবে তিনি প্রথমে রাজনীতিতে প্রবেশ করলেও, স্বামীর শাহাদাতের পর তিনি সরাসরি রাজনীতির ময়দানে নামেন এবং বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
গণতন্ত্রের সংগ্রামে নেতৃত্ব শুরু কিভাবে হয়েছে তা উল্লেখ করে তিনি ফাতেমা তাসনিম লিখেন, ১৯৮৬ সালের নির্বাচন সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল এই নির্বাচন। খালেদা জিয়া তখনও নতুন নেতা, কিন্তু তাঁর দৃঢ়তাই বিএনপিকে একটি শক্তিশালী বিরোধী দলে পরিণত করে।
১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান: এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক আন্দোলনে খালেদা জিয়ার ভূমিকা ছিল নির্ধারক। তাঁর নেতৃত্বেই বিএনপি ১৯৯১ সালে সরকার গঠন করতে পেরেছিল।
দীর্ঘ ১৭ বছর পতিত হাসিনা ফ্যাসিস্ট সরকার সকলের উপরই কমবেশি নির্যাতন জুলুম চালিয়েছেন তার মধ্যে অন্যতম ছিল বেগম জিয়াকে বালুর ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ জীবন: বালুর ট্রাক দিয়ে তাঁর বাসভবন অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। মাসের পর মাস এই অবরোধ তাঁকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তিনি দমে যাননি।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনে তিনি অসংখ্যবার কারাবরণ করেছেন, মোকাবেলা করেছেন শত শত ষড়যন্ত্র। ২০০৭-২০০৮ সালে জরুরি অবস্থার সময় তাঁকে দীর্ঘদিন কারারুদ্ধ করে রাখা হয়। এমনকি তাঁর দলকে ভাঙারও চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তাঁর নেতৃত্ব ও জনপ্রিয়তা দলের মধ্যে এমন শিকড় গেড়েছিল যে কেউই বিএনপিকে তাঁর নেতৃত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি।
তার দেশপ্রেম ও ত্যাগের অনন্য উদাহরণ ২০০৮ সালের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত: যখন তিনি লন্ডনে চিকিৎসাধীন ছিলেন, তখনই ২০০৮ সালের নির্বাচন আসন্ন। তাঁকে বলা হয়েছিল, দেশে ফিরলে জেল হতে পারে। তবুও তিনি সুটকেস গুছিয়ে না থেকে দেশে ফিরে আসেন-মৃত্যু ও কারাবরণ জেনেও। এটি ছিল দেশপ্রেমের এক অনন্য উদাহরণ।
খালেদা জিয়া বাংলাদেশকে কত গভীরভাবে ধারণ করে তা পরিষ্কার বুঝা যায় যখন তিনি বলেন ‘বাংলাদেশ আমার ঠিকানা।‘ আমরা তিনটি শব্দকে হয়ত একটি political slogan হিসেবে দেখি, কিন্তু আমি মনে করি-এই তিনটি শব্দের মাধ্যমে তিনি তাঁর জীবনদর্শন তুলে ধরেছেন।
তাই তাঁর সম্পর্কে আমি এই একটি কথাই বলতে পারি, দলমত রাজনৈতিক আদর্শ ভিন্ন হতে পারে তবে বেগম জিয়া তিনি শুধু একজন নেত্রী নন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠান, একটি ইতিহাস, একজন জীবন্ত legend। পরিশেষে মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রার্থনা করছি তাকে দ্রুত সুস্থ করে দিন আমিন।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply