আমতলীতে তরমুজ নিয়ে বিপাকে চাষিরা; ক্রেতা সংকটে চাষীরা | আপন নিউজ

বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন

প্রধান সংবাদ
কুয়াকাটায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কমিটি গঠন আমতলীতে তরমুজ নিয়ে বিপাকে চাষিরা; ক্রেতা সংকটে চাষীরা কুয়াকাটায় চরম অব্যবস্থাপনায় বাড়ছে সংকট; আগ্রহ হারাচ্ছেন পর্যটক এক’শ টাকার জন্য আমতলীতে পোশাক শ্রমিক খু-ন কলাপাড়ায় লালুয়া চান্দুপাড়া মুক্তিযোদ্ধা বাজার পরিচালনা কমিটি গঠন আমতলীতে মা’দ’ক বিক্রিতে বাঁধা দেয়ায় কু’পি’য়ে জ’খ’ম; বিচার দাবীতে মা’ন’ব’ব’ন্ধ’ন কলাপাড়ায় স্বাধীনতা দিবসে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ কলাপাড়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন কলাপাড়ায় উত্তরাধিকার সম্পত্তি দ’খ’লচে’ষ্টার অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ সাবেক এমপি মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেনের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
আমতলীতে তরমুজ নিয়ে বিপাকে চাষিরা; ক্রেতা সংকটে চাষীরা

আমতলীতে তরমুজ নিয়ে বিপাকে চাষিরা; ক্রেতা সংকটে চাষীরা

আমতলী প্রতিনিধিঃ বাম্পার ফলনেও তরমুজ নিয়ে বিপাকে পরেছেন আমতলীর চাষিরা। ক্রেতা সংঙ্কটে তারা তরমুজ বিক্রি করতে পারছেন না। এতে শত কোটি টাকা লোকসানের সংঙ্কা রয়েছে।

জানাগেছে, এ বছর আমতলীতে ৪ হাজার ২৪৯ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। কিন্তু এ লক্ষামাত্রা ছাড়িয়ে ৪ হাজার ৩০৯ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। ফলন ও দাম ভালো পেলে অন্তত ২৭০ কোটি টাকা বিক্রির লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু মৌসুম শুরুতেই আমতলীর তরমুজ বিক্রিতে ক্রেতা সংঙ্কট দেখা দিয়েছে। বড় ক্রেতা না থাকায় চাষীরা স্থানীয় বাজারে তরমুজ বিক্রির উদ্যোগ নেয়। কিন্তু উৎপাদিত তরমুজ আমতলী-বরগুনা-পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলে মানুষের চাহিদা মিটিয়ে কয়েক হাজার টন উদ্বৃত্ত থাকবে। এ তরমুজ নিয়ে চাষিরা মহা বিপাকে পরেছে। বিগত বছরে বড় তরমুজ ব্যবসায়ীরা আমতলীর তরমুজ চরা মুল্যে ক্রয় করে উত্তারাঞ্চল নাটোর, দিনাজপুর ও ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় রপ্তানী করতো। কিন্তু এ বছর উত্তারাঞ্চলে তরমুজের চাহিদা কম থাকায় বড় ব্যবসায়ীরা তরমুজ ক্রয় করছেন না। ফলে তরমুজ নিয়ে মহা বিপদে পরতে হয়েছে তাদের। এতে আমতলীর চাষীদের অন্তত শত কোটি টাকা লোকসান হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। তরমুজ চাষিদের এমন অবস্থায় উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিস তরমুজ বিক্রিতে উদ্যোগ নিয়েও সফল হেতে পারছেন না।

মঙ্গলবার সরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখাগেছে, হলদিয়া, চাওড়া, আঠারোগাছিয়া ও গুলিশাখালী ইউনিয়নের হাজার হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তরমুজ পেঁকে গেলেও চাষীরা বড় ক্রেতা সংঙ্কেটে তরমুজ খেত থেকে তুলছেন না। আবার অনেক চাষী তরমুজ কেটে খেতে রেখে দিয়েছেন কিন্তু বিক্রি করতে পারছেন না।

হলদিয়া গ্রামের তরমুজ চাষী আল আমিন বলেন, ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। কিন্তু ক্রেতা সংঙ্কটে তরমুজ বিক্রি করতে পারছি না। তিনি আরো বলেন, এভাবে চলতে থাকলে লাভতো দুরের কথা আসল টাকা তুলতেই পারবো না।

চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামের তরমুজ চাষি মামুন মোল্লা বলেন, ৫ লাখ টাকায় ১২ হেক্টর জমি লিজ নিয়ে ৫০ হাজার তরমুজের চারা রোপণ করেছি। ফলন ভালো হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হবে। গত বছর অনেক বড় ব্যবসায়ী তরমুজ ক্রয় করে উত্তরাঞ্চলে রপ্তানী করেছে কিন্তু এ বছর বড় ব্যবসায়ীরা তরমুজ ক্রয় করছেন না। স্থানীয় বাজারে কম দামে তরমুজ বিক্রি করতে হচ্ছে।

হলদিয়া ইউনিয়নের চিলা গ্রামের চাষি সিদ্দিকুর রহমান ও আলম বলেন, অধিকাংশ কৃষক উন্নত জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। কিন্তু পাইকারের অভাব ও কম দামের কারণে খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হবে।

গুলিশাখালী ইউনিয়নের চাষি শাহিন সিকদার ও সবুজ খাঁন বলেন, বড় ব্যবসায়ীরা তরমুজ ক্রয় করছেন না। স্থানীয় বাজারে যে দামে তরমুজ বিক্রি করতে হচ্ছে তাতে লাভতো দুরের কথা শ্রমিকদের বেতন দিয়েই টেকা যাবে না।

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাসেল বলেন, চলতি বছর তরমুজের উৎপাদন ভালো হয়েছে কিন্তু বাজার দর কম থাকায় চাষিরা কাঙ্ক্ষিত লাভ করতে পারবে না। তিনি আরো বলেন, এভাবে চলতে থাকলে উপজেলায় অন্তত শত কোটি টাকার লোকসান হবে। চাষিদের কথা বিবেচনা করে বড় ব্যবসায়ীদের তরমুজ ক্রয় করতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, আমতলীর চাষিরা বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ উৎপাদন করে স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। ভালো দামে চাষীরা যাতে তরমুজ বিক্রি করতে পারেন সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: JPHostBD
error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!