মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৫২ অপরাহ্ন

প্রধান সংবাদ
বিএনপি জোট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে দাবি তা সংবিধান পরিপন্থী- মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী কলাপাড়ায় আলীপুর-মহিপুর মৎস্য অবতরন কেন্দ্রের উদ্বোধন করলেন মন্ত্রী গলাচিপায় পাবলিক পরীক্ষা কেন্দ্রসমূহে প্লাষ্টিকের বেঞ্চ বিতরন আজ উদ্বোধন হচ্ছে মহিপুর ও আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র সরকার ও সাংবাদিকদের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে অনিবন্ধিত ৫৯টি আইপিটিভি বন্ধ করল বিটিআরসি কুয়াকাটায় খালের ওপর পরিত্যক্ত কালভার্টে মুরগি বেচা-কেনার দোকানপাট আমতলীতে মুজিব কোর্ট নিয়ে ইমামের মিথ্যাচার ও কটুক্তি গলাচিপায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প স্বাবলম্বী হওয়ার পথে কলাপাড়ার ক্ষতিগ্রস্থ্য পরিবারের সদস্যরা
আমতলীতে জোড় করে জমি দখলের চেষ্টা; ইউপি সদস্যের ভয়ে পাঁচটি পরিবার অবরদ্ধ!

আমতলীতে জোড় করে জমি দখলের চেষ্টা; ইউপি সদস্যের ভয়ে পাঁচটি পরিবার অবরদ্ধ!

আমতলী প্রতিনিধিঃ
বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য কৃষ্ণনগর গ্রামের ফারুক হাওলাদার ও তার মামাতো ভাই মঞ্জিরুল কবিরের বিরুদ্ধে বারেক আকনের জমি জোড়পূর্বক দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জমি দখলের জন্য বারেক আকনের লোকজনের ওপর দফায় দফায় হামলা, মারধর ও বাড়ী ভাংচুর করেছে। ইউপি সদস্যের ভয়ে ওই এলাকার পাঁচটি পরিবার বাহিরে বের হতে পারছে না। তারা এখন অবরুদ্ধ। বাহিরে বের হলেই তাদের ওপর চলে সন্ত্রাসী হামলা। শুক্রবার বারেক আকন এমন লিখিত অভিযোগ করেছেন।
জানাগেছে, উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের বারেক আকন ও তার ওয়ারিশগণ কৃষ্ণনগর মৌজায় ৪৭১ ও ৪৭২ নং খতিয়ানে ১০.৩৩ একর জমির রেকর্ড সুত্রে মালিক। শত বছর ধরে তারা ওই জমি ভোগ দখল করে আসছে। ওই জমি নিজের দাবী করে ফারুক হাওলাদার ও তার মামাতো ভাই মঞ্জুরুল কবির বরগুনা আদালতে গত বছর ২৭ নভেম্বর দেওয়ানী মামলা দায়ের করেন।  ওই মামলায় কোন আদেশ দেয়নি আদালত। মামলা করেই ইউপি সদস্য ফারুক হাওলাদার ও তার মামাতো ভাইসহ তার সহযোগীরা বারেক আকনকে জমি চাষাবাদ বাঁধা দেয়। তাদের বাঁধার কারনে এ বছর মুগডাল চাষাবাদ করতে পারেনি বারেক আকন ও তার লোকজন। এ নিয়ে বারেক আকন আমতলী সার্কেল এএসপি সৈয়দ রবিউল ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এএসপি উভয় পক্ষকে ডেকে ঘটনা শুনে প্রকৃত জমির মালিক বারেক আকনকে জমি চাষাবাদের নির্দেশ দেয় এবং ফারুক হাওলাদার সেচ্ছায় জমি বারেক আকনকে ছেড়ে দেয়। গত ৫ মে ওই জমিতে বারেক আকন  চাষাবাদ করতে গেলে ইউপি সদস্যের লোকজন এতে বাঁধা দেয়। এক পর্যায় ইউপি সদস্যের লোকজন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মিজানুর রহমান, অন্তঃস্বত্তা মিনারা বেগম, রাহাত ও আবদুল মান্নানকে বেধরক মারধর করে। আহতদের পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে গুরুতর আহত মিনারা বেগম পটুয়াখালী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চার জনকে মারধর করেই খ্যান্ত হয়নি ইউপি সদস্যের লোকজন। আবার গত ৮ মে তারা বারেক আকনের ভাই মোঃ আহসান আকন ও বৃদ্ধ হাবিবুর রহমান আকনকে বেধরক মারধর করেন। তাদের মারধরে আহসান বর্তমানে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইউপি সদস্যের লোকজনের হুমকি ও হামলার ভয়ে ওই এলাকার পাঁচটি পরিবার ঘর থেকে বের হতে পারছে না। তারা এখন অবরুদ্ধ। ঘর থেকে বের হলেই তাদের ওপর হামলা করে তারা। ওই এলাকায় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন ও তার লোকজন এখন মুর্তমান আতঙ্ক। এছাড়া ইউপি সদস্যের লোকজন তাদের পুকুরে বিষ দিয়ে ও পানির পাম্প মেশিন চুরি করে বারেক আকনের লোকজনের নামে মিথ্যা মামলা দেয়ার পায়তারা চালাচ্ছে এমন অভিযোগ বারেক আকন। এ ঘটনায় ইউপি সদস্য ফারুক হাওলাদার ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে আমতলী থানায় পৃথক পৃথক দুইটি মামলা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার কয়েকজন বলেন, সাবেক ইউপি সদস্য ফারুক হাওলাদার ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচারে এলাকার মানুষ অতিষ্ট। গত কয়েক দিনে তার সন্ত্রাসীদের পৃথক পৃথক হামলায় ৬ জন আহত হয়েছে। তার সন্ত্রাসী বাহিনীর লোকজনের ভয়ে কেউ বাহিরে বের হতে পারছে না। দ্রুত ফারুক হাওলাদার ও সন্ত্রাসী বাহিনীকে আইনের আওতায় এতে কঠোর শাস্তির দাবী জানান তারা।
মান্নান আকন বলেন, ফারুক হাওলাদারের সন্ত্রাসী বাহিনী আমার অন্তঃস্বত্তা স্ত্রীকে মারধর এবং বাড়ী ভাংচুর করেছে। তাদের ভয়ে বাড়ী যেতে পারছি না। আমি এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছি। আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।
বারেক আকন অভিযোগ করে বলেন, জমি দখলের জন্য সাবেক ইউপি সদস্য ফারুক হাওলাদারের সন্ত্রাসী বাহিনী আমার লোকজনের ওপর দফায় দফায় হামলা ও মারধর করছে। তিনি এলাকায় মুর্তমান আতঙ্ক। তার সন্ত্রাসী বাহিনীর কর্মকান্ডে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। তার সন্ত্রাসী বাহিনীর লোকজনের ভয়ে আমরা পাঁচটি পরিবার ঘর থেকে বের হতে পারছি না। ঘর থেকে বের হলেই তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এখন আমরা অবরুদ্ধ। সন্ত্রাসী ফারুক হাওলাদার ও তার সহযোগীদের হাত থেকে এলাকার মানুষ ও আমাদেরকে রক্ষায় প্রশাসনের কাছে দাবী জানাই।
সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ ফারুক হাওলাদার বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা। ওই জমি আমাদের পুর্ব পুরুষের। তাই আমরা আদালতে মামলা করেছি। তিনি আরো বলেন, উল্টো বারেক আকনের লোকজন আমার পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ মেরে ফেলেছে এবং পানির পাম্প নিয়ে গেছে।
আমতলী থানার ওসি মোঃ শাহ আলম হাওলাদার বলেন, কৃষ্ণনগর এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়েছে। মারধরের ঘটনায় দুইটি মামলা হয়েছে। আসামী গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এএসপি (আমতলী-তালতলী) সার্কেল সৈয়দ বরিউল ইসলাম বলেন, বারেক আকনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উভয় পক্ষকে অফিসে ডেকেছি। ফারুক হাওলাদার ও তার লোকজন সেচ্ছায় বারেক আকনকে জমি ছেড়ে দিয়েছে। পরে শুনেছি বারেক আকন জমি চাষাবাদ করতে গেলে ফারুক হাওলাদারের লোকজন তাদের ওপর হামলা করেছে।

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 aponnewsbd
error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!