রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন

প্রধান সংবাদ
কলাপাড়ায় গ্রাম পুলিশ সংগঠনের নতুন কমিটি গঠন কলাপাড়ায় স্কুলে হঠাৎ ২৫ শিক্ষার্থী অসুস্থ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কলাপাড়ায় সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি; সন্তুষ্ট গ্রাহক রেডিয়েন্ট ইসলামিক মডেল স্কুলে দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়নের ফল প্রকাশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নি’হ’ত নৌসদস্যের সামরিক মর্যাদায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নৌবাহিনী শিপইয়ার্ডে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত হলো টাগবোট ‘টিয়াখালী-৪’ মহিপুরে ১৭৫ পিস ই’য়া’বাসহ দুই মা দ ক ব্যবসায়ী গ্রে’প্তা’র পাখিমারায় রিও’র উদ্যোগে ‘উপকূল পাঠাগার’ কমিটি গঠন আমতলী বকুলনেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজে নবীন বরণ কলাপাড়ায় বন্দোবস্ত পাওয়া জমিজমার দ’খ’ল ঠেকাতে ভূমিহীনসহ স্থানীয়দের মা ন ব ব ন্ধ ন
ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ে হেরে গেলেন ভাস্কর্য যোদ্ধা সাহেব আলী

ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ে হেরে গেলেন ভাস্কর্য যোদ্ধা সাহেব আলী

সঞ্জিব দাস, গলাচিপা: নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে ভাস্কর্য বানাতে শুরু করেছিলেন দিনমজুর সাহেব আলী। ৭১-এর বর্বরোচিত ও স্বাধীন বাংলার ঐতিহাসিক নানা দৃশ্যপট নিয়ে ৬৬টি ভাস্কর্য বানাতে সক্ষম হয়েছিলেন। যে ভাস্কর্য বানাতে গিয়ে তার বসত-ভিটে বেচে দিতে হয়েছে। অবশিষ্ট ৫টি ভাস্কর্য নির্মাণের আগে ভয়াবহ ক্যান্সার তার প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। দীর্ঘ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজে তার মৃত্যু হয়েছে। সাহেব আলীর ছেলে হাসান খান এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুর আগে সাহেব আলীর খাদ্যনালিতে টিউমার সৃষ্টি হয়; পরে তা ক্যান্সারে রূপান্তরিত হলে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। ডাক্তার তাকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিলেও আর্থিক সংকটে উন্নত চিকিৎসা দিতে সক্ষম হয়নি পরিবার। পটুয়াখালী জেলা সদরের আউলিয়াপুরের অজোপাড়া গায়ের মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে ছিলেন নিরক্ষর সাহেব আলী।

নব্বইয়ের দশকে মুন্সীগঞ্জের একটি চালের মিলে কর্মরত অবস্থায় এক বীরাঙ্গনা সহকর্মী রাহিমার মুখে ৭১-এর বর্ণনা শোনেন সাহেব আলী। এতে ভাস্কর্য বানাতে উদ্বুদ্ধ হন তিনি। পরে বাড়ি এসে ভাস্কর্য বানানোর নীরব সংগ্রামে নামেন নিরক্ষর এই দিনমজুর। ভিন্ন এই শিল্পায়নের রূপ দিতে বসত-ভিটে বিক্রি করেছেন তিনি।

অর্ধাহারে-অনাহারে পরিবার নিয়ে ভাঙা ঘরেও থেকেছেন। ধার-দেনার জর্জরিত হলেও বন্ধ করেনি ভাস্কর্য নির্মাণ কাজ। নিরক্ষর হাতে সিমেন্ট-বালুর মিশ্রণে মুক্তিযুদ্ধের বর্বরোচিত ৬৬টি স্থিরচিত্র তুলে ধরেছিলেন নিজ বাড়ির আঙিনায়; যা দেখতে উপচেপড়া ভিড় জমাতেন মানুষগুলো। বাকি ৫টি ভাস্কর্য নির্মাণ শেষ না করতেই ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। সাহেব আলী নির্মিত ভাস্কর্যে রয়েছে- শেখ মুজিবের বজ্রমুষ্টি এবং তার জ্যেষ্ঠ আঙ্গুলে স্থাপন করেছিলেন স্বাধীন বাংলাকে, বীর যোদ্ধার পদদলিত (পাক বাহিনী) কাল নাগ, ১৫ আগস্টের ভয়াবহ বুলেট, ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৬ ডিসেম্বর, ৭ মার্চ, ২৬ মার্চ, ৫২-এর ভাষা আন্দলোনসহ মোট ৬৬টি ভাস্কর্য। নিজ আঙিনায় ফুটিয়ে তুলছেন স্বাধীনতার রক্তস্নাত স্মৃতিগুলো।

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: JPHostBD
error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!