বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ০২:৫৪ অপরাহ্ন

আমতলী প্রতিনিধিঃ বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া এমএ ক্লাসের এক ছাত্রী সঙ্গে গত ১৬ বছর ধরে কুয়েত প্রবাসী মহিউদ্দিন বিশ্বাস প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। ছাত্রীর অভিযোগ পরিবার বেশ কয়েকবার বিয়ের উদ্যোগ নিলেও প্রবাসী প্রেমিক মহিউদ্দিন বিশ্বাসের বাঁধায় বিয়ে দিতে পারেনি। তিনি বেশ কয়েকবার বিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছেন। এখন তাকে তিনি বিয়ে করতে রাজি না। তাই নিরুপায় হয়ে বিয়ের দাবীতে শুক্রবার রাতে ওই প্রবাসীর বাড়ীতে প্রেমিকা অনশনে বসেছেন।
জানাগেছে, আমতলী পৌর শহরের একে স্কুল সড়কের এমএ ক্লাসে অধ্যায়নরত বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর সঙ্গে উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম আমতলী গ্রামের আব্দুর রহমান বিশ্বাসের ছেলে মহিউদ্দিন বিশ্বাস ১৬ বছর আগে প্রেমে জড়িয়ে পরেন। তখন প্রেমিক মহিউদ্দিন দশম শ্রেনীতে এবং প্রেমিকা একই বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেনীতে লেখাপড়া করে। গত ১৬ বছর ধরে তারা প্রেম করে আসছেন। এর মাঝে বেশ কয়েকবার শারীরিক সম্পর্ক করেছেন মহিউদ্দিন এমন অভিযোগ ওই ছাত্রীর। ২০১৭ সালে প্রেমিক মহিউদ্দিন কুয়েত চলে যান। কুয়েত যাওয়ার পর থেকে বেশ কয়েকবার ওই ছাত্রীর পরিবার তাকে বিয়ে দিতে উদ্যোগ নিলেও প্রেমিক মহিউদ্দিনের বাধায় বিয়ে পন্ড হয়। অভিযোগ রয়েছে ওই ছাত্রীর বিয়ের প্রস্তাব আসলেই মহিউদ্দিন জেনে বিয়ে ভেঙ্গে দিতেন। ৮ বছর পর গত ৪ মার্চ তিনি কুয়েত থেকে বাড়ীতে আসেন। বাড়ীতে আসার পর দুজনের মধ্যে বেশ ভালো সম্পর্ক চলে আসছে। তাদের প্রেমের সম্পর্ক দুই পরিবার বেশ ভালো করেই জানেন। শুক্রবার সকালে প্রেমিক মহিউদ্দিন প্রেমিকাকে মুঠোফোনে জানিয়ে দেয় তাকে বিয়ে করা সম্ভব নয়। এমন কথায় ওইদিন রাত ৯ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী প্রবাসী প্রেমিক মহিউদ্দিনের বাড়ীতে অনশনে বসেছেন। এ ঘটনার এলাকার চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রবাসী মহিউদ্দিনের সঙ্গে ওই ছাত্রীর বিয়ের দাবী এলাকাবাসীর। খবর পেয়ে আমতলী থানা পুলিশ প্রবাসীর বাড়ীতে গিয়ে অনশনে বসা ছাত্রীর খোঁজ খবর নিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, মহিউদ্দিন বিশ্বাস ওই মেয়ের সঙ্গে প্রেম করেছেন তা এলাকার সকলেই জানে। এতো বছর একটা মেয়ের জীবন নষ্ট করে কেন ওই মেয়েটাকে মহিউদ্দিন বিয়ে করবো না?
শনিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, ওই ছাত্রী কুয়েত প্রবাসী মহিউদ্দিনের বাড়ীতে অনশনে বসে আছেন। বাড়ীতে প্রেমিক মহিউদ্দিনে বড় ভাই আল আমিন বিশ্বাস, ছোট ভাই আরিফ বিশ্বাস ও ভাইয়ের বউ আখিনুর আক্তার রয়েছেন। কিন্তু এ ঘটনার পর থেকে প্রেমিক মহিউদ্দিন পলাতক রয়েছেন। অর্ধাহারে অনাহারে ওই ছাত্রী ওই বাড়ীতে দিনাতিপাত করছেন।
অনশনে বসা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী বলেন, ১৬ টি বছর আমার জীবন থেকে মুছে গেছে। আমার পরিবার বেশ কয়েকবার বিয়ের উদ্যোগ নিয়েও ওর কারনে ব্যর্থ হয়েছে। বিয়ের প্রস্তাব আসলেই মহিউদ্দিন আমার বিয়ের প্রস্তাব ভেঙ্গে দিয়েছেন। আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছে। এখন আমাকে বলে বিয়ে করবে না। তাই আমি নিরুপায় হয়ে বিয়ের দাবীতে অনশনে বসেছি। বিয়ে না করা পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাব না। জীবন গেলেও না। তিনি আরো বলেন, আমাদের ১৬ বছরের প্রেম এলাকার কে না জানে?
প্রবাসীর মহিউদ্দিন বিশ্বাসের মা নাসিমা বেগম বলেন, ছেলে মেয়ে প্রেম করেছে। এখন ছেলে বিয়ে করতে চায় না, আমি কি করবো? আপনার ছেলে ১৬ টি বছর ধরে একটা মেয়ের জীবন নষ্ট করেছে, বিয়ে দিতে বাঁধা দিয়েছে কিন্তু এখন কেন বিয়ে করবে না? এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
এ বিষয়ে জানতে প্রবাসী মহিউদ্দিন বিশ্বাসের মুঠোফোনে (০১৭১৯৭৭০৯০৮) যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
আমতলী থানার ওসি মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply