শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:০৫ পূর্বাহ্ন

আমতলী প্রতিনিধিঃ আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে গত ১৬ জুলাই অর্ধশতাধিক অন্তঃস্বত্ত্বা নারীদের মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ বিতরণ করা হয়ে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ঔষধ খেয়ে তারা অসুস্থ্য হয়ে পরেছেন। বুধবার বৃষ্টি নামের ছয় মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা এক নারীর স্বামী রনি খাঁন এমন অভিযোগ করেছেন। ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের শাস্তি দাবী করেছেন তিনি।
জানাগেছে, আমতলী পৌর শহরের সবুজবাগ এলাকার রনি খাঁন তার স্ত্রী বৃষ্টিতে নিয়ে গত ২৭ এপ্রিল আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে অন্তঃস্বত্ত্বা হিসেবে চিকিৎসা নিতে যান। ওই সময় স্বাস্থ্য সেবিকা ইসরাত জাহান সেতু তাকে গর্ভকালিন সেবা পেতে এএনসি ও পিএনসি কার্ড করে দেন। গত ১৬ জুলাই তিনি কার্ড নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যান। ওই সময় তিনি অন্তঃস্বত্ত্বা নারী বৃষ্টিকে মেয়াদ উত্তীর্ণ ক্যালসিয়াম ও আয়রণ ঔষধ বিতরণ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে ওইদিন তিনি অর্ধ শতাধিক নারীদের মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ বিতরণ করেছেন। ওই ঔষধ খেয়ে বৃষ্টিসহ অনেক নারী অসুস্থ্য হয়ে পরেছেন। পরে বৃষ্টিকে তার স্বামী পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছেন। বুধবার এ বিষয়ে বেশ কয়েকজন অন্তঃস্বত্ত্বা নারী ও তাদের স্বজনরা আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিন্ময় হাওলাদার তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এ ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে স্বাস্থ্য সেবিকা ওই দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সটকে পরেছেন।
খোজ নিয়ে জানাগেছে, গত ১৬ জুলাই বিতরণ করা ক্যালসিয়াম ও আয়রণ ঔষধের মেয়াদ গত মে মাসে শেষ হয়ে যায়। ওই মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ স্বাস্থ্য সেবিকা ইসরাত জাহান সেতু অর্ধ শতাধিক অন্তঃস্বত্ত্বা নারীদের মাঝে ওইদিন বিতরণ করেছেন।
ছয় মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা নারী বৃষ্টি আক্তার করেন, গত ১৬ জুলাই চিকিৎসা সেবা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাই। ওই সময় স্বাস্থ্য সেবিকা আমাকে ক্যালসিয়াম ও আয়রণ ট্যাবলেট দেয়। ওই ঔষধ খেয়ে আমি অসুস্থ্য হয়ে পরেছি। পরে আমার স্বামী ক্যালসিয়াম ও আয়লণ ট্যাবলেটের নিচে দেয়া তারিখ দেখেন দুই মাস আগেই ঔষধের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবী করেছেন তিনি।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের স্বাস্থ্য সেবিকা ইসরাত জাহান সেতু বলেন, এখানে আমার কোন দ্বায় নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে ঔষধ আমাকে সরবরাহ করেছেন আমি ওই ঔষধই অন্তঃস্বত্ত্বা নারীদের মাঝে বিতরণ করেছি। কতজন নারীদের মাঝে ওইদিন ঔষধ বিতরণ করেছেন এমন প্রশ্নের জবাব দেননি তিনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান বলেন, গত ১৬ জুলাই বিতরণকৃত ঔষধের মেয়াদ গত মে মাসে উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এ ঔষধ বিতরণ করা মোটেও ঠিক হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ চিন্ময় হাওলাদার বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। বেশ কয়েকজন নারী ও তার স্বজনরা এসে অভিযোগ করেছেন। তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ কিভাবে বিতরণ করা হলো তাও খতিয়ে দেখা হবে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply