বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন

আমতলী প্রতিনিধিঃ পরকীয়ার জেরে স্বামী সুজন মৃধা স্ত্রী তানজিলা আক্তার অ্যানিকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহতের মা আফরোজা বেগম রিনা এমন অভিযোগ করেছেন। ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে গলায় ওড়না পেচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে নাটক সাজিয়েছে সুজন মৃধা এমন অভিযোগও মায়ের। পুলিশ রাতে মরদেহ উদ্ধার করে সোমবার দুপুরে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছেন। স্বামী সুজনকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েেেছ। ঘটনা ঘটেছে রবিবার রাতে আমতলী পৌর শহরের আব্দুল্লাহ সুপার মার্কেটের পিছনে হানিফ কটেজে তৃতীয় তলায় সুজনের ভাড়া বাসায়।
জানাগেছে, ২০১৫ সালে আমতলী উপজেলার চিলা গ্রামের মৃত্যু জলিল গাজীর মেয়ে তানজিলা আক্তার অ্যানির সঙ্গে একই উপজেলার ছুরিকাটা গ্রামের সোবাহান মৃধার ছেলে সুজন মৃধার বিয়ে হয়। তাদের ঘরে ছয় বছর ও দুই বছরের দুটি সন্তান রয়েছে। শনিবার সকালে স্ত্রী অ্যানি নতুন বাজার বাঁধঘাট তার মায়ের বাসায় বেড়তে যায়। ওই ফাঁকে সুজন নীলগঞ্জ গ্রামের সাবিনা নামের একটি মেয়েকে বাসায় আনেন। ওইদিন রাতেই স্ত্রী অ্যানি বাসায় আসেন। বাসায় এসে দরজা খুলতে বললে স্বামী দরজা খুলছেন না। এতে তার সন্দেহ হয়। পরে আধা ঘন্টা পরে দরজা খুললেও বিছানার ওপরে একটি চাঁদর দেখে তার সন্দেহ আরো বেড়ে যায়। পরে বেলকনীতে গিয়ে সাবিনা নামের একটি মেয়ে দাড়িয়ে থাকতে দেখে। এ নিয়ে ওই রাতেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্ধ হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার দুপুরে অ্যানীকে স্বামী সুজন মৃধা মারধর করেছে এমন অভিযোগ নিহত অ্যানির মা আফরোজা আক্তার রিনার। নিহতের মায়ের অভিযোগ এ্যানীকে স্বামী সুজন মৃধা মারধর শেষে হত্যা করেছে। তারপর সুজন গলায় ওড়না পেচিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা করেছে বলে নাটক সাজিয়েছে। খবর পেয়ে রাতে পুলিশ ঘরের দরজা ভেঙ্গে ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না পেচানো ঘরের ফ্লোরে পা ঠেকানো মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ স্বামী সুজন মৃধাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছেন। নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানাগেছে, নিহতের শরীরে আঘাতের চিহৃ রয়েছে।
নিহতের খালা ফরিদা বেগম বলেন, সুজন আমার বোনের মেয়ে অ্যানিকে হত্যা করে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে। রবিবার পুলিশ নিহতের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করেছেন।
নিহত অ্যানির মা আফরোজা আক্তার রিনা বলেন, সাবিনা নামের একটি মেয়ের সাথে সুজন পরকীয়া প্রেম করতো। এ নিয়ে আমার মেয়ের সঙ্গে জামাতা সুজনের এক বছর ধরে দ্বন্ধ চলছিল। শনিবার সকালে অ্যানি আমার বাসায় বেড়াতে আসে। ওই সুযোগে জামাতা সুজন তার প্রেমিকা সাবিনাকে বাসায় আনে। রাতে আমার মেয়ে বাসায় গিয়ে দরজা খুলতে বললে জামাতা সুজন দরজা খুলতে বিলম্ব করে। এতে আমার মেয়ের সন্দেহ হয়। ঘরে প্রবেশ করে বিছানার ওপর একটি চাঁদর দেখে এ্যানী জানতে চায় এ চাদর কার? পরে বেলকনিতে গিয়ে জামাতার প্রেমিক সাবিনাকে দেখতে পায়। এ নিয়ে রাতেই জামাতার সঙ্গে অ্যানির দ্বন্ধ হয়। তিনি আরো বলেন, রবিবার দুপুরে আমার মেয়েকে সুজন বেধরক মারধর করেছে। মেয়ে আমাকে মুঠোফোনে সকল ঘটনা বলেছে। আমার মেয়েকে সুজন হত্যা করে গলায় ওরনা পেচিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে নাটক করছে। আমি এ ঘটনায় সুজনের শাস্তি দাবী করছি।
স্বামী সুজন মৃধা পুলিশ হেফাজতে থাকায় তার বক্তব্য নেয়া যায়নি।
আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গির হোসেন বলেন মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, স্বামী সুজন মৃধাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply