রবিবার, ২৫ Jul ২০২১, ০৯:৪৩ অপরাহ্ন

মতামতঃ জ্বর-ঠান্ডা, কাশি মানেই করোনায় আক্রান্ত নয়

মতামতঃ জ্বর-ঠান্ডা, কাশি মানেই করোনায় আক্রান্ত নয়

মতামত ডেস্কঃ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে কি না সে ব্যাপারে অনেকেই দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ। সর্দি-জ্বর মাথাব্যথা সাধারণ ফ্লুয়েরও লক্ষণ। এই সময় গরমে-ঘামে যা হয়েই থাকে। তবে ঠান্ডা লেগে সর্দি, কাশি হলে তাতে কফ উঠে আসে। যাকে আমরা ওয়েট কাফ বলি।

ঋতু পরিবর্তনের ফলে এ সময় অনেকে সর্দি-কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। আর এ সময় আমাদের তাড়া করছে করোনা ভয়। তবে সর্দি-কাশি হলেও করোনা হয়েছে, এমন মনে করা যাবে না বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
চিকিৎসকরা বলছেন, সর্দি-কাশি হলেই ভয় পাবেন না। সর্দি-কাশি হলেই আপনার করোনা হয়েছে এমন নয়। ঋতু পরিবর্তনের ফলে এ সময় অনেকেই সর্দি-কাশির সমস্যায় ভুগছেন।

এখন করোনার ভয়ে অনেকে জ্বর, সর্দি-কাশি হলেই ছুটছেন চিকিৎসকের কাছে। আবার অনেকে নিজের ইচ্চামতো ওষুধ সেবন করছেন। আর এতেই বাড়ছে বিপদ।

তবে কিছু বিষয়ে আপনাকে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে। আসুন জেনে নিই গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ঃ

★জ্বর কি কাঁপুনি দিয়ে আসে? যদি এমন হয় যে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসছে। তবে ম্যালেরিয়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

★আবার জ্বরটা ছেড়ে বা কমে গিয়ে দু’দিন পর পুনরায় ফিরলে ডেঙ্গুর লক্ষণ রয়েছে কিনা দেখতে হবে।

★আর জ্বরের সঙ্গে কি শুকনো কাশি হচ্ছে, নাকি কাশির সঙ্গে ঘন কফও আসছে। যদি কাশির সাথে শ্বাসকষ্ট হয় তাহলে করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নিশ্চিত হতে পরীক্ষা প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ দরকার।

★সাধারনত সর্দি, কাশি ও গলাব্যথায় ভয়ে পাওয়ার কিছু নাই।
সর্দি, কাশি বা সামান্য গলাব্যথা এমন কোনো বড় ব্যাপার নয়। তবে একবার ঠান্ডা লাগলে, তা সারতে অন্তত এক সপ্তাহ লাগবেই। আর কাশি তো আরও বেশ কয়েক দিন থাকতে পারে, এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। এ ধরনের কাশি একটি নির্দিষ্ট সময় পর আপনাআপনি ভালো হয়ে যায়। তবে কাশির সঙ্গে যদি জ্বর হয়, তাহলে কিন্তু গুরুত্ব দিতে হবে। এই ক্ষেত্রে চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই শ্রেয়।
পরিবারের কেউ ঠাণ্ডা জ্বর-ঠান্ডা ও কাশিতে আক্রান্ত হলে অন্যদের সাবধানে রাখুন। ভাইরাল ফেভারের সময় আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা না করাই ভালো। সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত একা বিশ্রামে থাকা উত্তম। যেহেতু মহামারি মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়তেছে তাই এসময় পরিবারের অন্যদের সাথে সরাসরি না মিশে একা নিরাপদে থেকে বিপদ কাটিয়ে উঠতে হবে।
তাই জ্বর, সর্দি, কাশি হলেই অযথা আতঙ্কিত হবেন না। করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরীক্ষার জন্য ছোটাছুটি করে লাভ নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

★★তবে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে লুকিয়ে রাখবেন না। সমস্যা হলে আর তা ফেলে রাখলেই জটিলতা বাড়ে। এই মরণব্যাধি কথা লুকিয়ে রাখলে আপনার কারণে জীবন যেতে পারে আপনার এবং আপনার পরিবারসহ গোটা সমাজের মানুষের। করোনা নিয়ে ভীতি নয় প্রয়োজন সাবধানতা। একমাত্র সাবধানতা অবলম্বন আমাদেরকে রক্ষা করতে পারে অদৃশ্য এই শত্রুর হাত থেকে। অজানা এই শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইটা করতে হবে আপনাকেই, আর আপনার প্রধান অস্ত্র হচ্ছে- সচেতনতা, সতর্কতা। নিশ্চয়ই আমরা জয়ী হব, জীবাণুর বিরুদ্ধে মানুষের যুদ্ধের ইতিহাস কিন্তু সেই কথাই বলে।

করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকি কারণ সচেতনতা আমাদের প্রধান হাতিয়ার। সঠিক নিয়মনীতি মেনে চলে নিজেকে এবং পরিবারকে রাখি সুরক্ষিত। সময় থাকতে আসুন জনস্বার্থে লকডাউন মেনে চলি সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখি এবং ঘরে অবস্থান করে ইজি লাইফ উপভোগ করি।।

মো. আবু ইউসুফ (প্রভাষক, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ ) সরকারি মোজাহারউদ্দিন বিশ্বাস কলেজ, খেপুপাড়া, পটুয়াখালী।

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 aponnewsbd
error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!