শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:২৬ পূর্বাহ্ন

প্রধান সংবাদ
তালতলীতে বিদুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু কলাপাড়ায় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীকে কুপিয়ে জখম; আটক-৪ আমতলীতে ১০ কেজি চালের জন্য ভাইয়ের ছেলের ছুরিকাঘাতে কৃষক চাচা খুন মরহুম ইঞ্জিনিয়ার কুতুব উদ্দিন’কে গলাচিপা আ.লীগের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন কলাপাড়া প্রেসক্লাবে পৌর প্যানেল মেয়র হুমায়ুন কবির স্বস্ত্রীক চা-চক্রে মিলিত গলাচিপায় গাঁজাসহ দুই মাদক বিক্রেতা গ্রেফতার কলাপাড়ায় পারস্পরিক শিখন কর্মসূচী প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ প্রকল্পের উপজেলা কর্মশালা নিউজপোর্টাল বন্ধ করাটা আত্মঘাতি হবে-প্রেস ইউনিটি আদালত এখন আমার ভালোই লাগে-চিত্রনায়িকা পরীমনি কলাপাড়ায় অনলাইনে উদ্ভিদ বিক্রি করে সফলতা
আমতলী-তালতলীতে পোল্ট্রি শিল্পে ধস! সহজ শর্তে স্বল্প সুদে ঋণের দাবী খামারীদের

আমতলী-তালতলীতে পোল্ট্রি শিল্পে ধস! সহজ শর্তে স্বল্প সুদে ঋণের দাবী খামারীদের

আমতলী প্রতিনিধিঃ
প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলায় পোল্ট্রি শিল্পে ধব নেমেছে। পোল্ট্রি ব্যবসায়ীরা পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পরেছেন। তারা সরকারের কাছে সহজ শর্তে স্বল্প সুদে ঋণসহ আর্থিক সহযোগীতার দাবী জানিয়েছেন। অঘোষিত লকডাউনের কারণে দুই উপজেলার খামারিরা উৎপাদিত হাস-মুরগি-ডিম বিক্রি করতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন। ধারাবাহিক লোকসানের মুখে একের পর এক খামার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে এই শিল্পে জড়িত অন্তত সহ¯্রাধীক মানুষ বেকার হয়ে পড়ছেন।
প্রাণী সম্পদ অফিস সুত্রে জানাগেছে, আমতলী ও তালতলী উপজেলায় ছোটবড় মিলে চার শতাধিক পোল্ট্রি খামার রয়েছে।  এসব খামারের সঙ্গে সহ¯্রাধীক মানুষ জড়িত। গত ফেব্রæয়ারী মাসে এসব খামার  বেশ জমজমাট ছিল এবং ভালো আয় হতো। বর্তমানে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে এ সব খামারে আর্থিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। দুঃসময় পার করছেন পোল্ট্রি খামারিরা। তাদের উৎপাদিত হাস-মুরগি-ডিম বিক্রি করতে পারছেন না, এতে বিপাকে পড়েছেন তারা। অনেক খামারী লোকসানে পড়ে খামার বন্ধ করে দিয়েছেন। এ শিল্পকে রক্ষায় সরকারের কাছে সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণসহ আর্থিক সহযোগীতার  দাবী জানিয়েছেন খামারিরা।
বৃহস্পতিবার উপজেলার বিভিন্ন পোল্ট্রি খামার ঘুরে দেখাগেছে, খামারে মুরগী রয়েছে কিন্তু ক্রেতা না থাকায় বিক্রি করতে পারছে না। দুই দিকেই তারা লোকসান দিচ্ছেন। একদিকে খামারে মুরগীর খাবার দিতে হচ্ছে। অন্য দিকে দামও কম। অনেক খামারী লোকসানে মুরগী বিক্রি করে দিয়েছেন।
তালতলী উপজেলার লেমুয়া গ্রামের তালহা পোল্ট্রি ফার্মের মালিক মোঃ রহিম কাজী বলেন, এক লক্ষ ষাট হাজার ব্যয়ে এক হাজার সোনালী মুরগী লালন পালন করছি। কিন্তু মুরগী বিক্রির উপযোগী হলেও করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বিক্রি করতে পারছি না। তিনি আরো বলেন, বর্তমান অবস্থায় পোল্ট্রি শিল্পকে বাচিয়ে রাখতে হলে সরকারের কাছে স্বল্প সুদে ঋণের দাবী জানাই।
একই উপজেলার কলারং গ্রামের জালাল আকন বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ১’শ ২০ টাকা কেজির পোল্ট্রি মুরগী ৭০ টাকায় বিক্রি করেছি। দুই লডে এক হাজার মুরগীতে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা লোকসান দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, নি¤œ আয়ের মানুষগুলো পোল্ট্রি মুরগী ক্রয় করে। তাদের আয় বানিজ্য বন্ধ থাকার কারনে পোল্ট্রি মুরগী কেউ কিনছে না। এতে পোল্ট্রি শিল্পে ধস নেমেছে।
একই গ্রামের দেলোয়ার সিকদার বলেন, আরো ভাই আর কইয়েন না। ৬০ টাহা কেজিতে মুরহা বেচচি। সরকার সাহায্য না হরলে মোরা শ্যাষ।
আমতলী উপজেলার উত্তর রাওঘা গ্রামের খামারী জাহিদুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ২ হাজার ৮’শ মুরগী অন্তত দেড় লক্ষ টাকা লোকসানে বিক্রি করেছি। এই লোকসান কিভাবে কাটিয়ে উঠবো সেটা নিয়ে চিন্তিত। দ্রæত সরকারের কাছে সহজ শর্তে স্বল্প সুদে ঋণের দাবী জানাই।
গাজীপুর বন্দরের পোল্ট্রি ব্যবসায়ী শাহীন হাওলাদার বলেন, ব্যবসায়ে ধস নেমেছে। ইতিমধ্যে ৮৫ হাজার টাকা লোকসান দিয়ে খামার বন্ধ করে দিয়েছি। সরকার আমাদের বিশেষ প্রনোদনা দিলে আমরা ঘুড়ে দাড়াতে পারতাম।
আমতলী উপজেলার প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আতিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে পোল্ট্রি শিল্পে অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমেছে। এ শিল্পকে বাচিয়ে রাখতে হলে বিশেষ প্রনোদনার প্রয়োজন।
তালতলী প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ড. সৈয়দ আলতাফ হোসেন বলেন , পোল্ট্রি শিল্পকে বাচিয়ে রাখতে হলে বিশেষ প্রনোদনার প্রয়োজন।  বর্তমান অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্থ খামারীদের নগদ প্রনোদনা দিলে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবে।

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 aponnewsbd
error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!