আমতলীতে চাঁদা না পেয়ে সরকারী সড়ক কেটে দিলেন চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী বাহিনী!

জুন ১৮ ২০২০, ১৪:০২

আমতলী প্রতিনিধিঃ
দুই লক্ষ টাকা চাঁদা না পেয়ে সরকারী সড়ক কেটে দিলেন ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম মৃধার সন্ত্রাসী বাহিনী জুয়েল রাঢ়ী ও তার সহযোগীরা। সড়ক কেটে দেওয়ায় আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের গুরুদল বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাডেমিক কাম সাইক্লোণ সেল্টারের পাঁচতলা ভবনের নির্মাণ সামগ্রী পরিবহন করতে না পারায় নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। ভোগান্তিতে পড়েছে ওই  ইউনিয়নের সাতটি গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষ।
জানাগেছে, পটুয়াখালী শিক্ষা প্রকৌশলী বিভাগ গত বছর আগষ্ট মাসে আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের গুরুদল বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাডেমিক কাম সাইক্লোণ সেল্টারের পাঁচতলা ভবনের নির্মাণ কাজের দরপত্র আহবান করে। ওই ভবন নির্মাণের কাজ পায় পটুয়াখালীর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হাজী এন্ড কহিনুর এন্টারপ্রাইজ। এ বছর ফেব্রুয়ারী মাসে ঠিকাদার মোঃ জাহাঙ্গির বিশ্বাস ওই বিদ্যালয় ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। কাজের শুরুতেই মালামাল পরিবহনে বাঁধা দেয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শহীদুল ইসলাম মৃধার সন্ত্রাসী বাহিনী জুয়েল রাঢ়ী ও রেজাউল মোল্লাসহ ৮-১০ জন সন্ত্রাসী। ওই সময়ে তারা চেয়ারম্যানের নির্দেশে দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া সড়কে বেড়া দিয়ে বিদ্যালয় ভবনের মালামাল পরিবহনে বাঁধা দেয় এমন অভিযোগ ঠিকাদারের সহযোগী আফজাল মিয়া, জাকারিয়া, হামিম ও স্থানীয়দের। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরশিয়া বেগম এ বিষয়টি ওই সময়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীনকে অবগত করেন। ইউএনও ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়ক থেকে বেড়া তুলে দিয়ে ভবনের নির্মাণ সামগ্রী পরিবহনের পথ সুগম করে দেন। গত চার মাস ধরে সড়ক দিয়ে নির্মাণ সমাগ্রী পরিবহন ও বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ ভালোই চলছিল। গত শুক্রবার ওই বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণের জন্য ঠিকাদার নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে আসেন। নির্মাণ সামগ্রী বোঝাই জাহাজ বাঁশবাড়িয়া খালে নোঙ্গর করা রয়েছে। এ খবর পেয়ে জুয়েল রাঢ়ী ও রেজাউল মোল্লাসহ ৮-১০ জন সন্ত্রাসী ঠিকাদারের সহযোগী আফজাল মিয়া, জাকারিয়া ও হামিমের কাছে দুই লক্ষ চাঁদা দাবী করে। তাদের দাবীকৃত টাকা না দিলে সড়ক দিয়ে মালামাল পরিবহন করতে দিবে না বলে জানিয়ে দেন তারা। কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন তাদের দাবীকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকার করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বুধবার জুয়েল রাঢ়ী ও  রেজাউল মোল্লাসহ ৮-১০ জন সন্ত্রাসী সড়ক কেটে দেয়। ফলে ওই সড়ক দিয়ে বিদ্যালয়ে ভবনের মালামাল পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়াও চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পরেছে ওই এলাকার সাতটি গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষ। বৃহস্পতিবার ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরশিয়া বেগম ইউএনও মনিরা পারভীনের কাছে সড়ক কেটে দেওয়ার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শহীদুল ইসলাম মৃধার নির্দেশে তার সন্ত্রাসী জুয়েল রাঢ়ী ও রেজাউল মোল্লাসহ ৮-১০ জনে সড়ক কেটে দিয়েছে। স্থানীয়রা সড়ক কাটতে নিষেধ করলে তাদেরকে সন্ত্রাসীরা জীবন নাশের হুমকি দিয়েছে। এ বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম মৃধাকে জানালেও তিনি এতে কোন কর্ণপাত করেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ ঘটনায় সন্ত্রাসী জুয়েল রাঢ়ীসহ চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী বাহিনীকে আইনের আওতায় এনে বিচার দাবী করেছেন তারা।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া সড়কটি কেটে দেয়া হয়েছে। সড়কে স্থানীয় লোকজন গাছের গুড়ি ফেলে চলাচল করছে। সড়কের পাশ দিয়ে কোন বিকল্প সড়ক না থাকায় যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। গুরুদল বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ সামগ্রী বোঝাই জাহাজ খালে নোঙ্গর করা থাকলেও সড়ক কাটা থাকায় মালামাল পরিবহন করতে পারছে না।এতে বিদ্যালয় নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় লোকজন চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পরেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম মৃধার নির্দেশে জুয়েল রাঢ়ী ও রেজাউল মোল্লাসহ ৮-১০ জন সন্ত্রাসী সড়ক কেটে দিয়েছে। এতে বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয় মালামাল পরিবহন বন্ধ হয়ে গেল। তারা আরো বলেন, সড়ক কাটায় এলাকার সাতটি গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষ চলাচলে ভোগান্তিতে পরেছে। তাদের চলাচল করতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। তারা দ্রুত সন্ত্রাসী জুয়েল রাঢ়ী ও রেজাউল মোল্লাসহ সড়ক কাটার সাথে জড়িতদের বিচার দাবী করেছেন।
ঠিকাদারের সহযোগী মোঃ আফজাল মিয়া ও হামিম বলেন, জাহাজ বোঝাই নির্মাণ সামগ্রী আসার খবর পেয়ে সন্ত্রাসী জুয়েল রাঢ়ী ও রেজাউল মোল্লা আমার কাছে দুই লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। আমি চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় সড়ক দিয়ে মালামাল পরিবহন করতে দিবে না বলে তারা সড়ক কেটে দিয়েছে। এতে বঙ্গবন্ধু বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে।
গুরুদল বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাঃ পরশিয়া বেগম বলেন, চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম মৃধার সন্ত্রাসী জুয়েল রাঢ়ী ঠিকাদারের লোকজনের কাছে দুই লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করেন। ওই চাঁদা না দেওয়ায় তারা সড়ক কেটে দিয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের নির্মাণ সামগ্রী পরিবহন করতে না পারায় ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
অভিযুক্ত জুয়েল রাঢ়ী চাঁদা দাবীর কথা অস্বীকার করে মুঠোফোনে বলেন, বঙ্গবন্ধু বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ সামগ্রী পরিবহনে বাঁধা দেওয়ার জন্য সড়ক কাটা হয়নি। বক্সকালভার্ট নির্মাণের জন্য সড়ক কাটা হয়েছে। তবে কালভার্ট নির্মাণ সামগ্রী না এনে সড়ক কেটে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তোর দিতে পারেনি।
হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ শহীদুল ইসলাম মৃধা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বক্স কালভার্ট নির্মাণের জন্য সড়ক কাটার সময় আমার সহযোগী জুয়েল রাঢ়ীকে ঠিকাদারের লোকজন মারধর করেছে। জুয়েল বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হাজী এন্ড কহিনুর এন্টারপ্রাইজের মালিক জাহাঙ্গির বিশ্বাস বলেন, সড়ক কেটে দেওয়ার কারনে নির্মাণ সামগ্রী পরিবহন করতে পারছি না। তাই ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। গত ৭ দিন ধরে নির্মাণ সামগ্রী বোঝাই জাহাজ খালে নোঙ্গর করা আছে। তিনি আরো বলেন, গত ফেব্রুয়ারী মাসে চেয়ারম্যানের লোকজন মালামাল পরিবহনে সড়কে বেড়া দিয়েছিল।
আমতলী থানার ওসি মোঃ শাহ আলম হাওলাদার বলেন,এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন বলেন, বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ কাজে কোন বাঁধা মেনে নেয়া হবে না। তিনি আরো বলেন, ওই সড়কে বক্স কালভার্ট নির্মাণের কথা রয়েছে। তবে বিদ্যালয় ভবনের মালামাল পরিবহনের জন্য বিকল্প সড়ক না করে সড়ক  কেটে দিলে তা অন্যায়।

আমাদের ফেসবুক পেজ




Flag Counter


error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!