শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন

প্রধান সংবাদ
তালতলীতে বিদুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু কলাপাড়ায় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীকে কুপিয়ে জখম; আটক-৪ আমতলীতে ১০ কেজি চালের জন্য ভাইয়ের ছেলের ছুরিকাঘাতে কৃষক চাচা খুন মরহুম ইঞ্জিনিয়ার কুতুব উদ্দিন’কে গলাচিপা আ.লীগের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন কলাপাড়া প্রেসক্লাবে পৌর প্যানেল মেয়র হুমায়ুন কবির স্বস্ত্রীক চা-চক্রে মিলিত গলাচিপায় গাঁজাসহ দুই মাদক বিক্রেতা গ্রেফতার কলাপাড়ায় পারস্পরিক শিখন কর্মসূচী প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ প্রকল্পের উপজেলা কর্মশালা নিউজপোর্টাল বন্ধ করাটা আত্মঘাতি হবে-প্রেস ইউনিটি আদালত এখন আমার ভালোই লাগে-চিত্রনায়িকা পরীমনি কলাপাড়ায় অনলাইনে উদ্ভিদ বিক্রি করে সফলতা
গলাচিপায় বিলুপ্ত প্রায় বাবুই পাখির বাসা

গলাচিপায় বিলুপ্ত প্রায় বাবুই পাখির বাসা

সঞ্জিব দাস, গলাচিপাঃ

পটুয়াখালীর গলাচিপায় কালের আবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে তালের পাতায় ও নারিকেলের পাতায় মোড়ানো নিপুণ কারুকার্য খচিত বাবুই পাখির বাসা। পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে বাবুই পাখির বাসা অনেকটা বিলীন হতে চলেছে। ঘন বসতি বাড়ায় এবং অপরিকল্পিতভাবে গাছ পালা কেটে ফেলা বিশেষ করে তাল গাছ কাটার ফলে কমে আসছে বাবুই পাখির বসবাস। এতে বিপন্ন হচ্ছে এই শিল্পি পাখি বাবুই। আজ থেকে প্রায় ১৪-১৫ বছর আগেও গ্রাম-গঞ্জের মাঠ-ঘাটের তাল গাছে দেখা যেত এদের বাসা। বাবুই পাখির বাসা শুধু শৈল্পিক নিদর্শনই নয়, মানুষকে স্বাবলম্বী হতে উৎসাহিত করতো। কবি রজনী কান্ত সেনের ভাষায়, বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই, কুঁড়েঘরে থেকে করো
শিল্পের বড়াই। আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকার পরে, তুমি কত কষ্ট পাও রোদ, বৃষ্টি-ঝড়ে।’ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গলাচিপা উপজেলার চিকনিকান্দী ইউনিয়নের সূতাবাড়িয়া গ্রামে এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না বাবুই পাখি ও তার তৈরি দৃষ্টিনন্দন ছোট্ট বাসা তৈরির নৈসর্গিক দৃশ্য। বাবুই পাখির নিখুঁত বুননে এ বাসা টেনেও ছেঁড়া কষ্টকর। প্রতিটি তালগাছে ৫০ থেকে ৬০টি বাসা তৈরি করতে সময় লাগে ১০-১২ দিন। খড়, কুটা, তালপাতা, ঝাউ ও কাশবন ও লতা-পাতা দিয়ে বাবুই পাখি উঁচু তালগাছে বাসা বাঁধে। সেই বাসা দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি অনেক মজবুত। প্রবল ঝড়েও তাদের বাসা ভেঙে পড়ে না। পুরুষ বাবুই পাখি বাসা তৈরির পর সঙ্গী খুঁজতে যায় অন্য বাসায়। সঙ্গী পছন্দ হলে স্ত্রী বাবুইকে সাথী বানানোর জন্য পুরুষ বাবুই নিজেকে আকর্ষণীয় করতে খাল, বিল ও ডোবার পানিতে গোসল করে গাছের ডালে ডালে নেচে বেড়ায়। চমৎকার বাসা বুনে বাস করায় এ পাখির পরিচিতি বিশ্বজোড়া। বাবুই পাখির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো- রাতের বেলায় ঘর আলোকিত করতে জোনাকি পোকা ধরে নিয়ে বাসায় রাখে এবং সকাল হলে ছেড়ে দেয়। প্রজনন সময় ছাড়া অন্য সময় পুরুষ ও স্ত্রী বাবুই পাখির গায়ে পিঠে তামাটে কালো বর্ণের দাগ হয়। নিচের দিকে কোন দাগ থাকে না। ঠোঁট পুরো মোসাকার ও লেজ চৌকা। তবে প্রজনন ঋতুতে পুরুষ পাখির রং হয় গাঢ় বাদামি। অন্য সময় পুরুষ ও স্ত্রী বাবুই পাখির পিঠের পালকের মতই বাদামি হয়। উপজেলার চিকনিকান্দী ইউনিয়নের কোটখালী গ্রামের ধীরেন দাস বলেন, আমাদের গ্রামে ছোটবেলায় দেখতাম রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা তাল গাছগুলোর মধ্যে অনেক বাবুই পাখির বাসা ছিল। কিন্তু এখন বাবুই পাখির বাসা আর দেখা যায় না। বাবুই পাখির বাসাটি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। বিভিন্ন এলাকাজুড়ে বাবুইপাখি তালগাছেবাসা বাঁধতো কিন্তু এখন আর বেশি দেখা যায় না।

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 aponnewsbd
error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!