শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩০ অপরাহ্ন

আমতলী প্রতিনিধিঃ বিয়ের সাত মাসের মাথায় যৌতুকের বলি হলেন গৃহবধু রেশমা (১৯)। রেশমার বাবা সেরাজ মোল্লার অভিযোগ তার মেয়েকে যৌতুকের জন্য জামাতা সুমন ও তার স্বজনরা পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। রবিবার সকালে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনা ঘটেছে তালতলী উপজেলার গেন্ডামারা গ্রামে শনিবার রাতে।
জানাগেছে, উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের ছিলবারতলী গ্রামের সেরাজ মোল্লার কন্যা রেশমাকে একই ইউনিয়নের গেন্ডামারা গ্রামের আনোয়ার হাওলাদারের ছেলে সুমনের সঙ্গে এ বছর জানুয়ারী মাসে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই জামাতা সুমন ব্যবসা করবে বলে ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করে। এ টাকা দিতে অস্বীকার করে রেশমার পরিবার। এ নিয়ে রেশমাকে বেশ কয়েকবার স্বামী সুমন মারধর করেছে বলে অভিযোগ করেন বাবা সেরাজ মোল্লা। শনিবার রাত ৯ টার দিকে জামাতা সুমন ও তার এক বন্ধু আল আমিন শ্বশুর বাড়ী এসে রেশমাকে তার বাড়ীতে নিয়ে যায়। ঘন্টা দেরেক পর খবর আসে সে (রেশমা) অসুস্থ হয়ে পরছে। খবর পেয়ে স্বজনরা জামাতার বাড়ীতে গিয়ে দেখতে পায় রেশমার নিথর দেহ মাটিতে পড়ে আছে। ওই রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জামাতা সুমন ও তার স্বজনরা পালিয়েছে। পরে পুলিশ গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার করে তালতলী থানায় নিয়ে আসে। রবিবার নিহতের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে। পরিবারের অভিযোগ যৌতুক না পেয়ে জামাতা সুমন ও তার স্বজনরা পরিকল্পিতভাবে মেয়েকে হত্যা করেছে।
রেশমার বাবা সেরাজ মোল্লা বলেন, বিয়ের পর থেকেই জামাতা সুমন ব্যবসা করবে বলে মেয়ের কাছে পাঁচ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করে। এ টাকা দিতে অস্বীকার করায় আমার মেয়েকে বেশ কয়েকবার মারধর করেছে। শনিবার রাতে জামাতা সুমন ও তার বন্ধু আল আমিন এসে আমার মেয়েকে তার বাড়ীতে নিয়ে যায়। আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে জামাতা ও তার বন্ধু ও স্বজনরা শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনার সাথে জড়িত সকলের শাস্তি দাবী করছি।
তালতলী থানার ওসি শহিদুল ইসলাম খাঁন জানান, ময়দেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে, রেশমার স্বামীর বাড়ীর সকলে পালিয়েছে। কাউকে আটক করতে পারিনি।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply