মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:০৫ অপরাহ্ন

আমতলী প্রতিনিধিঃ আমতলী উপজেলায় গত তিন দিনে অর্ধ শতাধিক লুটপাট, দখল ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ লুটপাট, ভাংচুর ও দখল বন্ধে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম মাইকিং করেছেন। বুধবার বিকেলে উপজেলার সর্বত্র এ মাইকিং করা হয়। যারা এ সকল অপরাধের সঙ্গে জড়িত হবেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে মাইকিংএ উল্লেখ করেছেন তিনি।
জানাগেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগের খবরের পরপরই বিএনপি নামধারী একদল সন্ত্রাসী আমতলী উপজেলা শহর, বাজার ও বিভিন্ন স্ট্যান্ডে লুটপাট, ভাংচুর ও দখল শুরু করে। গত তিন দিনে উপজেলার অন্তত অর্ধ শতাধিক লুটপাত, দখল ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।
এর মধ্যে গত সোমবার উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি পৌর মেয়র মতিয়ার রহমানের বাসভবন এবং হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম মৃধার বাসভবনে আগুন, বরগুনা মহিলা এমপি ফারজানা সুমির কার্যালয়, আওয়ামীলীগ কার্যালয়, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল, চাওড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আখতারুজ্জামান বাদল খানের কার্যালয়, গুলিশাখালী ইউপি চেয়ারম্যান এ্যাড. এইচএম মনিরুল ইসলামের কার্যালয়, যুবলীগ অফিস, ও পৌরসভা কার্যালয়, ফরিদ ম্যালকারের বাসভবন ও গাড়ী ভাংচুর করে। ওইদিন রাতে বিএনপি নেতা ইউপি সদস্য বাতেন দেওয়ানের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী গাজীপুর বন্দরের সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদের দোকান ভাংচুর করে অন্তত ২৫ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। মঙ্গলবার সকালে ওই বিএনপি নেতা আন্তঃজেলা গাজীপুর খেয়াঘাট দখল করে। অপর দিকে উপজেলার ঘোজখালী বাজারে আল আমিন সিকদার ও ইউপি সদস্য ফোরকান হাওলাদারের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা ৭টি দোকান ঘর দখল এবং পাঁচটি দোকানের মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে দাবী করেন হাসান মাহমুদ।
এছাড়া শাখারিয়া স্ট্যান্ডে মোকসেদুল মৃধা নেতৃত্বে ২৫/৩০ জন সন্ত্রাসী পাচটি ঘর ভাংচুর ও একটি দোকানের মালামাল লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ করেন মালেক ব্যাপারী। মহিলকাটা বাজারের বিএনপি নেতা নাশির হাওলাদার, বাচ্চু হাওলাদার ও খোকনের নেতৃত্বে বাস কাউন্টার ভাংচুর ও দখল করেছে।
নামধারী বিএনপি নেতাদের তান্ডবে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক রিবাজ করছে। ভুক্তভোগীরা আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাসম্মদ আশরাফুল আলমকে দখল, লুটপাট ও ভাংচুরের অভিযোগ জানায়। বুধবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুটপাট, দখল ও ভাংচুর বন্ধে মাইকিং করেছেন। এগুলো বন্ধ না করলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে মাইকিংএ উল্লেখ করেছেন তিনি।
অপর দিকে আমতলী উপজেলা বিএনপি সদস্য সচিব তুহিন মৃধা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছেন লুটপাট, দখল ও ভাংচুরের সঙ্গে বিএনপির কোন নেতাকর্মী জড়িত না। যারা বিএনপির নাম ব্যবহার করে এগুলো করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন তিনি।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, লুটপাট, দখল ও ভাংচুর বন্ধে মাইকিং করা হয়েছে। এরপরও যারা এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত হবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে ভাংচুর, লুটপাট ও দখলের যে ঘটনাগুলো ঘটেছে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply