মতামত; অমানুষগুলো কেড়ে নিচ্ছে অনাহারীর খাবার | আপন নিউজ

বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:২১ অপরাহ্ন

প্রধান সংবাদ
তালতলীতে গণভোটের পোস্টার ছিড়ে ফেলার অভিযোগ হাজারো মানুষের অশ্রুসিক্ত নয়নে চির বিদায় নিলেন মহিপুরের মন্নান হাওলাদার পায়রা বন্দর স্টিভেডরিং হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক পরিচিতি সভা আমতলীতে ছয় শতাধিক মসজিদে এক লাখ ২০ হাজার মানুষের মাঝে গণভোটের প্রচারনা আমতলীতে এতিমদের মাঝে কম্বল বিতরন সুষ্ঠু ভোট হলে সরকার গঠনে বিএনপিই এগিয়ে থাকবে: এবিএম মোশাররফ হোসেন গলাচিপায় নামাজ আদায় করে বাইসাইকেল উপহার পেল ২৮ শিশু ক্ষুদ্র জেলে সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির ১২তম বার্ষিক সভা কলাপাড়া সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজে নবীন বরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফিস্ট-২০২৬ কলাপাড়ায় ফেরদৌস মুন্সী হ’ত্যা’র প্র’তিবা’দে মা’ন’ব’ব’ন্ধ:ন
মতামত; অমানুষগুলো কেড়ে নিচ্ছে অনাহারীর খাবার

মতামত; অমানুষগুলো কেড়ে নিচ্ছে অনাহারীর খাবার

মতামত ডেস্কঃ

করোনা ভাইরাস মারাত্মক ছোঁয়াচে একটি রোগ। যার আতঙ্কে কাঁপছে পুরো বিশ্ব। সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে দেশে দেশে চলছে লকডাউন। নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ।
এতকিছুর পরেও ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না করোনার সংক্রমণ। প্রতি মিনিটে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

মানবতার মা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ভয়াবহ করোনার আগ্রাসনের হাত থেকে দেশটাকে বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, করোনার মহামারিতে দেশ যখন উল্টো স্রোতে তখন একদল অমানুষ নিজেদের স্বার্থে গা ভাসিয়েছে ত্রাণ চুরির এই ঘৃণ্য অপকর্মে লিপ্ত। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে দলের অনুপ্রবেশকারী এবং অসাধু কিছু নেতৃবৃন্দের দ্বারা অনাহারে থাকা গরীবদের ত্রাণ চুরি, এই মানবতাহীন এহেন ঘৃণ্য অপকর্মে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে চিন্তিত ও মর্মাহত করেছে।

বাতাসে এখন হাহাকার এর শব্দ। কোথাও নতুন আক্রান্তের, কোথাও মৃত্যুর, কোথাও আতংকের, কোথাও অনাহারের আবার কোথাও অনাহারদের ত্রাণ চুরির হাহাকার। আর বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা করোনা নামক এ ভাইরাসে এসকল হাহাকারের মিছিল যেন থামছেই না। কালসাপময়ী এ ভাইরাস থেকে একমাত্র বাঁচার উপায় হচ্ছে ঘর থেকে বের না হওয়া এবং উপরওয়ালার সান্নিধ্য চাওয়া। তাই সরকারি ভাবে অঘোষিত লকডাউনে অনেকেরই জীবন-জীবিকার সামনে রীতিমতো হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব।

বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নেওয়া করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশ এখন কার্যত অচল। সেই সঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন দিনমজুরসহ অনেকেই। অথচ এদের একদিন কাজ না করলে এদের ঘরে আগুন জ্বলে না, না খেয়েই থাকতে হয় পরিবার নিয়ে। তবে সরকারিভাবে বা বেসরকারিভাবে সহায়তা প্রদান করছেন অনেকেই। বেসরকারিভাবে কিছুটা সুষ্ঠু বণ্টন হলেও, সরকারের কঠোর অবস্থানের মধ্যেও সরকারিভাবে সহায়তা নিয়ে বরাবরই কিছু অমানুষ তাদের স্বার্থ উদ্ধারে লুটেপুটে খাচ্ছে এসকল অসহায় অনাহারদের খবারগুলো।
চালচুরি, গমচুরি আর কম্বলচুরি খুঁজলে অহরহই পাওয়া সম্ভব এ দেশে। তাই বলে এই দুর্দিনে অনাহারে থাকা মানুষগুলোর ত্রাণ চুরি!!

একটিবারও অপরাধী ত্রাণ চুরি করার সময় ভাবছে না যে, (কোভিড-১৯) মহামারি করোনাভাইরাস তার জীবনও কেড়ে নিতে পারে। এরা মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করতে দ্বিতীয়বার ভাবে না। দেশকে এরা কখনোই ভালোবাসে না। এদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা জরুরি। যেখানে স্বাস্থ্যসেবায় নিয়জিত ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্য সহকারী, প্রশাসনের লোক, সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ পুলিশের লোক তাদের নিজেদের জীবনের তোয়াক্কা না করে নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও সারা দিন-রাত মানবকুলে কাজ করে যাচ্ছেন করোনার বিরুদ্ধে। সেই একই দেশের নাগরিক হয়ে চোরের দল প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে অনাহারীর মুখের খাবার কেড়ে নিতে।

জাতির পিতা ১৯৭৩ সালে আফসোস করে বলেছিলেন “সাত কোটি বাঙালির আট কোটি কম্বল আমারটা গেল কই?”

১৯৭৩ থেকে আজ ২০২০ এরপরেও সেই অমানুষগুলো মানুষ হতে পারলো না। অসহায় দুস্থ মানুষদের রক্ত চুষে খেতেই হবে ওদের। ত্রাণের দেয়া চাল, ত্রাণের দেয়া অসহায় মানুষদের অনাহারের অন্ন লুটেপুটে নিতেই হবে।

দেশের এ প্রাদুর্ভাবে অসহায়দের দেয়া সরকারি ত্রাণ চুরির মহা উৎসব দেখা যাচ্ছে পত্রিকার পাতা খুল্লেই।সরকারের কঠোর অবস্থানের মধ্যেও অসহায়দের ত্রাণ চুরি থামছেনা। বিবেকহীনতা এতটাই নিচে নেমে গিয়েছে যে কারো মুখের এক বেলার খাবারটা থাবা মেরে নিতেও একটিবার বুক কাপলো না।ত্রাণ চুরির এ অমানুষগুলো মানুষ হবে কবে!ত্রাণ চোর মানবতা বিরোধী অপরাধে জড়িত। আমি মনে করি এরাই সমাজের জঘন্যতম অপরাধী।

অথচ অনেকেই নিজের স্বার্থ বিলীন করে অনাহারদের মুখে একমুঠো খাবার তুলে দিচ্ছেন আর তার মধ্যেই খুঁজে পাচ্ছেন আত্মতুষ্টি। আসুন দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সরকারের ত্রাণকার্যক্রমে সহযোগিতা করে সুষ্ঠু বন্টনের মাধ্যমে পৌঁছে দেই অনাহারদের কাছে।আর এসময় ত্রাণ চুরির মানুষরূপী অমানুষগুলোকে প্রতিহত করে শোনার বাংলার অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে সুখ-দুঃখের ভাগীদার হই।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের ত্রাণ বিতরণের যে উদ্যোগ নিয়েছে এটা প্রশংসনীয় তবে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে দিলে হতদরিদ্রের মাঝে শতভাগ ত্রাণ পৌছানো নিশ্চিত হতো বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।।

লেখক: মো. আবু ইউসুফ (প্রভাষক, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ) সরকারি মোজাহারউদ্দিন বিশ্বাস কলেজ, খেপুপাড়া,পটুয়াখালী।

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: JPHostBD
error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!