সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ন

আপন নিউজ ডেস্কঃ কলাপাড়ায় বাবার স্ট্রোকও মন গলাতে পারেনি কলেজ অধ্যক্ষের। তার সাফ কথা, প্রবেশপত্র নিতে হলে ১২০০ টাকা দিতে হবে। এতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দরিদ্র কামাল তালুকদারের চিকিৎসা খরচ মেটাতে হিমশিম দরিদ্র পরিবারটির কন্যা কলাপাড়া মহিলা কলেজের কলা অনুষদের পরিক্ষার্থী জান্নাতুল শিফা কান্না জুড়ে দেন।
শিক্ষার্থী-পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে কলেজ ক্যাম্পাসে একজন শিক্ষার্থীর এমন কান্নার দৃশ্য দেখে শিক্ষকরা তার প্রবেশপত্র বিনামূল্যে দিতে বলেন। কিন্তু অধ্যক্ষ ধমক দেন ওইসব শিক্ষকদের। এছাড়া ২০২০ সালে করোনায় অটোপাশ শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট বিতরনেও নেয়া হয়েছে ১৫০০ টাকা হারে। সার্টিফিকেট প্রদানে টাকার রশিদ দিলেও প্রবেশপত্র বিতরণে টাকার রশিদ দেয়নি কলেজ।
অভিভাবকরা এ সম্পর্কিত অভিযোগ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বরিশাল অঞ্চলের পরিচালককে জানালে তিনি এইচএসসি পরিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া টাকা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফেরত দিতে নির্দেশ দেন অধ্যক্ষকে।
জানা যায়, ২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া ২০২১ সালের কলা, বাণিজ্য ও বিজ্ঞান অনুষদের তিনটি বিষয়ের ১৫৯ এইচএসসি পরিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১২০০ টাকা হারে ১ লক্ষ ৯০ হাজার ৮০০ টাকা এবং ২০২০ সালের অটোপাশ করা ১৬৯ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৫০০ টাকা হারে ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করেন ভারপ্রাপ্ত কলেজ অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন ফারুক। অধ্যক্ষের নির্দেশেই এ টাকা আদায় করেন করনিক জসিম উদ্দিন। যার সিংহভাগ কলেজ অধ্যক্ষ নিয়ে বাকিটা ভাগাভাগি করে দেন ক’জন প্রভাবশালী শিক্ষকদের মধ্যে। যারা প্রতিবছর থাকেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটিসহ কলেজের সকল কমিটিতে। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ উঠলে শুক্রবার বিকেলে জরুরি বৈঠকে বসেন কলেজ অধ্যক্ষ। এরপর বৈঠক করে কলেজ পরিচালনা পরিষদ। কিন্তু কোরাম সঙ্কটে সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় ওই বৈঠক।
কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো. বাহাউদ্দিন বলেন, অধ্যক্ষ সাহেব ফোন করে জানিয়েছেন যে, কলেজ মেইনটেন্যান্সের জন্য এডমিট বিতরনের সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কিছু টাকা নেবেন। তবে সেজন্য ১২শ’ টাকা হারে আদায় করবেন, তা আমার জানা ছিল না।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হওয়ার পর কলেজ অধ্যক্ষকে শিক্ষার্থীদের মাঝে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অরুন কুমার গাইন বলেন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করি। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা, বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক এবং বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন। আপনি তাদের সাথে কথা বলেন।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. ইউনুস আলী বলেন, পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিতরনে কোনো টাকা নেয়া যাবে না। এটি বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। তারপরও যদি কলেজ অধ্যক্ষ প্রবেশপত্র বিতরনে টাকা আদায় করেছেন বলে প্রমাণ হয়, তবে ওই কলেজের এমপিও বাতিলের সুপারিশ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মহিলা কলেজ অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন ফারুক বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক মহোদয়ের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত নিতে বলা হয়েছে। রোববার বিকেলে দু’জন এসে টাকা নিয়েছে। তারা এ মুহূর্তে আমার কাছে আছে, কথা বলতে পারেন।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply