শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:০৩ অপরাহ্ন

আপন নিউজ ডেস্কঃ ভালোবাসার বিয়ে করেছিলেন কিশোরী গৃহবধূ আরিফা আক্তার (১৭)। কিন্তু সেই ভালোবাসার মানুষ, স্বামী রিফাতের হাতেই নির্মমভাবে প্রাণ হারাতে হলো তাকে। কুয়াকাটায় ভাড়া বাসায় গলা কেটে আরিফাকে হত্যা করেন রিফাত।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কুয়াকাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ভাড়া বাসায় এই চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি কলাপাড়া উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার পরপরই মহিপুর থানা পুলিশ ওই বাসা থেকে আরিফার রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং সন্দেহভাজন হিসেবে স্বামী রিফাতকে গ্রেপ্তার করে।
নিহত আরিফা আক্তার বরিশাল জেলার বায়োরগাতি এলাকার আব্দুল খালেক হাওলাদারের মেয়ে। তার স্বামী রিফাত (২১) একই এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার মাস আগে পরিবারের অমতে আপন চাচাতো ভাই রিফাতকে বিয়ে করেন আরিফা। বিয়ের পর তারা কুয়াকাটায় এসে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। রিফাত স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁয় কর্মরত ছিলেন। দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো বলে প্রতিবেশীরা জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা আক্কাস উদ্দিন বলেন, রাতে কান্নাকাটির শব্দ শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ঘরের ভেতরে আরিফার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং দরজার সামনে রিফাতকে বসে থাকতে দেখেন। পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেন। খবর পেয়ে মহিপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং রিফাতকে পুলিশ হেফাজতে নেয়।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিফাত হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পরে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) নিহতের বাবা আব্দুল খালেক হাওলাদার বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় রিফাত ছাড়াও তার এক ভাই, দুই মামা ও মাকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিফাতকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার অধিকতর তদন্ত চলমান রয়েছে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply