সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০১ পূর্বাহ্ন

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠুঃ বাংলাদেশের টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং বিদ্যুৎ খাতে বৈপ্লবিক রূপান্তরের লক্ষ্যে রুফটপ সোলার (ছাদ সৌরবিদ্যুৎ) প্রযুক্তিকে দ্রুত জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছে নাগরিক সমাজ ও কমিউনিটি প্রতিনিধিরা। আজ রোববার কলাপাড়ায় প্রান্তজন ট্রাস্ট, প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম পটুয়াখালী (ফেড- পটুয়াখালী), ক্লিন, বিডাব্লিউজিইডি এবং স্থানীয় কমিউনিটি প্ল্যাটফর্মসমূহের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক মোবিলাইজেশন কর্মসূচিতে অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম – পটুয়াখালীর আহ্বায়ক অমল মুখার্জী, সদস্য মেজবাহউদ্দিন মাননু, নুরুল হক, প্রান্তজন এর ফিল্ড কোর্ডিনেটর সাইফুল্লাহ মাহমুদ এবং সঞ্চালনা করেন ফেড- পটুয়াখালীর সদস্য সচিব মো. নজরুল ইসলাম। এই সময়ে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, ফেড – পটুয়াখালী এর সদস্য উত্তম হাওলাদার, মো. সাইদুর রহমান, মো. নাহিদুল হক এবং নাজমুস সাকিব সহ প্রমুখ। সভায় বক্তারা বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্রিয় সমর্থন ও সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। সমাবেশে স্থানীয় সাংবাদিক, যুব প্রতিনিধি এবং পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীরা অংশ নিয়ে জ্বালানি খাতের এই পরিবর্তনের পক্ষে সংহতি প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে একটি প্রতিনিধি দল কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক কাউছার হামিদের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যয়বহুল ও আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমানে দেশের অর্থনীতির ওপর বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর বিপরীতে রুফটপ সোলার একটি পরিচ্ছন্ন, সহজলভ্য এবং অত্যন্ত কম ব্যয়বহুল সমাধান হওয়া সত্ত্বেও এটি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যথাযথ অগ্রাধিকার পাচ্ছে না। বক্তারা বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেন যে, রুফটপ সোলার কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের জন্য ‘জ্বালানি গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার সুযোগ। ইউনিয়ন পরিষদ ভবন থেকে শুরু করে স্কুল, হাসপাতাল এবং গ্রামীণ বাজারগুলোর বিশাল অব্যবহৃত ছাদ যদি সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা যায়, তবে স্থানীয় পর্যায় থেকেই একটি বৃহৎ জ্বালানি বিপ্লব শুরু করা সম্ভব।
প্রান্তজন এর ফিল্ড কোর্ডিনেটর, সাইফুল্লাহ মাহমুদ বলেন, বিগত ১৬ বছরে শুধুমাত্র বেসরকারি জীবাশ্ম জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকদের ১ লাখ ৭২ হাজার কোটি টাকা ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ প্রদান করা হয়েছে। যা দিয়ে ৩টা পদ্মা সেতু করা সম্ভব ছিল। তাই আমাদের জ্বালানী নিরাপত্তায় নবায়নযোগ্য জ্বালানী বিশেষ করে সোলারের উপর জোর দিতে হবে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply