রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ন

আমতলী প্রতিনিধিঃ চার বার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরে যাওয়া বাবা মাওলানা আব্দুর রশিদের আসন বরগুনা-১ ছেলে মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলি উল্লাহ প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। তার প্রতিদ্বন্ধি বিএনপির প্রার্থী তিন বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম মোল্লা, ১০ দলীয় জোট প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গির হোসাইন ও জাতীয় পার্টি-জেপি প্রার্থী জামাল হোসাইন। প্রার্থী চারজন হলেও তার সঙ্গে মুল প্রতিদ্বন্ধিতা হবে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লার এমন দাবী ভোটারদের। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী অলি উল্লাহর ইচ্ছে বাবার বারবার হেরে যাওয়া আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়ে মহান সংসদে গিয়ে এলাকার মানুষের সুখ দুঃখের কথা বলা।
জানাগেছে, বরগুনা সদর উপজেলার কেওয়াবুনিয়া গ্রামে জন্ম মাওলানা আব্দুর রশিদের। তিনি কেওরাবুনিয়া পীর হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত। সজ্জন ব্যাক্তি হিসেবে ১৯৯১ সালে তিনি বরগুনা-১ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। ওই সময়ে তিনি আওয়ামীলীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর সঙ্গে প্রতিদ্বন্ধিতা করে হেরে যান। শম্ভু ৪৪ হাজার ৭২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তিনি ভোট পান ২৯ হাজার ৫০৭ ভোট। ১৯৯৬ সালে আবারো শম্ভুর সঙ্গে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। ওই সময়েও শম্ভু বিজয়ী হন। শম্ভু ভোট পান প্রায় ৫৫ হাজার। আর রশিদ ভোট পান ২৮ হাজার ৪৭৯ ভোট। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে ৯১ ও ৯৬ সালের নির্বাচনে শম্ভু কারচুপি করে তাকে হারিয়ে দেন। ২০০১ সালে আবারো তিনি সংসদ সদস্য পদে আওয়ামীলীগ প্রার্থী ধীরেন্দ্র দেবনাশ শম্ভু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ দেলোয়ার হোসেন সঙ্গে নির্বাচনে শামিল হন। ওই বারও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে হেরে যান। ২০০৮ সালের তত্বাবোধায়ক সরকারের অধিনের নির্বাচনে তিনি আবারো প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। কিন্তু ওই নির্বাচনেও তিনি হেরে যান। তবে তিনি বিএনপির প্রার্থী মতিয়ার রহমানের চেয়ে বেশী ভোট পান। এরপর আওয়ামীলীগ পাতানো নির্বাচনে তিনি অংশ নেন নি। ২০১৮ সালের তিনি মারা যান। বাবার এ হারকে মেনে নিতে পারেননি ছেলে মাওলানা মোঃ মাহমুদুল হাসান অলি উল্লাহ। ২০১৮ সালের আওয়ামীলীগ সরকারের পাতানো নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হন। তবে ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু দিনের ভোট রাতে কেটে বিজয়ী হন। ত্রয়োদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাবার হেরে যাওয়া আসন থেকে বিজয়ী হতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দল থেকে মনোনয়ন নিয়ে তিনি আবারো প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। তার প্রতিদ্বন্ধি চারজন হলেও মুল প্রতিদ্বন্ধি বিএনপি প্রার্থী মোঃ নজরুল ইসলাম মোল্লা। জনপ্রিয়তার দিক থেকে দুজনই এগিয়ে। দুই প্রার্থীই বিজয়ী হতে মাঠ-ঘাট চষে বেড়াচ্ছেন। তবে প্রার্থী অলি উল্লাহ পুঁজি বাবার রেখে যাওয়া ভক্তকুল, দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ ভোটার। আর নজরুল ইসলামের পুঁজি দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটার। অলি উল্লাহর উদ্দেশ্য বাবার হেরে যাওয়া আসনে বিজয়ী হয়ে তার (বাবার) কষ্ট লাঘব করা। এ নির্বাচনে (আমতলী-তালতলী- বরগুনা সদর) তিনটি উপজেলায় ৫ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৯ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে আমতলী ১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৪৮, তালতলী ৮৭ হাজার ২০ এবং বরগুনা সদরে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১ জন। তবে চারজন প্রার্থীই বরগুনা সদর উপজেলার হওয়ায় আমতলী ও তালতলী উপজেলার ২ লাখ ৭১ হাজার ৮৬৮ ভোটার মুল প্রতিদ্বন্ধি নজরুল ইসলাম মোল্লা ও অলি উল্লাহর কাছে মুখ্য হয়ে উঠেছে। এ দুই উপজেলার ভোটারদের মণ জয় করতে নানা প্রতিশ্রতি দিয়ে মরিয়া তারা।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মাওলানা মোঃ মাহমুদুল হাসান অলী উল্লাহ বলেন, আমার বাবা মাওলানা আব্দুর রশিদ কেওরাবুনিয়ার পীর ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে সকল মানুষের কাছে সমাদৃত ছিলেন। বরগুনা-১ আসন থেকে বাবা চারবার নির্বাচনে করেছেন। তিনটি নির্বাচনেই আওয়ামীলীগ প্রার্থী ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু কারচুপি করে বিজয়ী হয়েছেন। বাবার হেরে যাওয়া কোন ছেলেই মেনে নিতে পারে না। বাবাকে পরিকল্পিতভাবে পরাজিত করা আসনে বিজয় হওয়াই আমার লক্ষ্য। তিনি আরো বলেন, এবার তিনটি উপজেলার ভোটাররা সুযোগ পেয়েছেন। তারা এই সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। তিনি আরো বলেন, বাবা ইচ্ছে ছিল বরগুনা-১ আসন থেকে বিজয়ী হয়ে মানুষের সেবা করবেন। কিন্তু বাবার সেই ইচ্ছে পুরণ হয়নি। বাবার ইচ্ছে পুরণ করতে প্রাণপণ চেষ্টা করছি। আশা করি জনগণ এ বার সেই সুযোগ আমাকে দিবেন।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply