সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৮ পূর্বাহ্ন

আমতলী প্রতিনিধিঃ তালতলীর আইসোটেক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জাহাজ ঘাটের খেয়া পাড়াপাড় ট্রলার মাঝি সোহাগ চৌকিদারকে ইউপি সদস্য জাহিদ খানের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে দুই হাত ভেঙ্গে এবং ট্রলারটি নদীতে ডুবিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ট্রলার মালিক ইলিয়াস চৌকিদার এমন অভিযোগ করেছেন। আহত সোহাগ চৌকিদারকে উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে তালতলীর জয়ালভাঙ্গা আইসোটেক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জাহাজ ঘাটে রবিবার সকালে।
জানাগেছে, তালতলী উপজেলার জয়ালভাঙ্গা আইসোটেক তাৎবিদ্যুৎ কেন্দ্রে গত ২০২২ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হয়। ওই সময় থেকে বিদেশ থেকে কয়লার জাহাজ এসে পায়রা পোর্টে নোঙ্গর করে। ওই জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজে করে আইসোটেক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লা নিয়ে আসে। ওই কয়লার জাহাজ নদীর মাঝে নোঙ্গর করা থাকে। স্থানীয় সগির মিয়া এ জাহাজগুলোর লোকজন ঘাটে পাড়াপাড়ের জন্য জাহাজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দৈনিক ট্রলার প্রতি ৫০০ টাকায় চুক্তি করে। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ জাহিদ খাঁন ট্রলার মালিক সগির মিয়াকে মারধর করে ঘাট দখলে নেয়। এ জাহাজ ঘাটের দখল নিয়ে গত ছয় মাস ধরে ইউপি সদস্যের সঙ্গে স্থানীয় ইলিয়াস চৌকিদারের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। তারই জের ধরে গত সোমবার ইউপি সদস্য জাহিদ খাঁনের লোকজন সগির মিয়া, তার স্ত্রী রোকেয়া ও বায়েজিদ গাজীকে মারধর করে। ওই ঘটনার তালতলী থানায় মামলা হয়। গত শনিবার তালতলী থানার ওসি মোঃ শরীফুল ইসলাম ঘাটে এসে ইলিয়াস চৌকিদার ও ইউপি সদস্য জাহিদ খাঁনের মধ্যে সমঝোতা করে দেয়। ওই সমঝোতা মোতাবেক রবিবার বেলা ১০ টার দিকে ইলিয়াস চৌকিদারের ট্রলারের মাঝি সোহাগ চৌকিদার ও সোহেল জাহাজের লোকজন পাড়াপাড় করছিল। ওই সময় ইউপি সদস্য মোঃ জাহিদ খাঁন ও তার বাবা পনু খাঁনের নেতৃত্বে তিনটি ট্রলারে অর্ধ শতাধিক সন্ত্রাসী নিয়ে ইলিয়াস চৌকিদারের ট্রলারের মাঝি সোহাগ চৌকিদারকে ধরে পিটিয়ে দুই হাত ভেঙ্গে দেয় এবং মাথায় গুরুতর জখম করে। অপর মাঝি সোহেল প্রাণের ভয়ে নদী ঝাঁপ দেয়। পরে তারা ইলিয়াস চৌকিদারের ট্রলারটি নদীতে ডুবিয়ে দেয়। স্থানীয়রা আহত সোহাগ চৌকিদার ও সোহেলকে উদ্ধার করে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক গুরুতর আহত সোহাগ চৌকিদারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরন করেছেন।
ইলিয়াস চৌকিদার বলেন, শনিবার তালতলী থানার ওসি এসে আমাকে ও ইউপি সদস্য জাহিদ খাঁনের মধ্যে সমঝোতা করে দেয়। সেই সমঝোতা মোতাবেক আমি ট্রলার নিয়ে মাঝি সোহাগ চৌকিদারকে দিয়ে জাহাজের লোকজন পাড়াপাড় করতে পাঠাই। ওই সময়ে ইউপি সদস্য জাহিদ খাঁন ও তার বাবা পনু খাঁনের নেতৃত্বে তিনটি ট্রলারে অর্ধ শতাধিক সন্ত্রাসী গিয়ে আমার ট্রলারের মাঝিকে পিটিয়ে দুই হাত ভেঙ্গে দিয়েছে এবং কুপিয়ে মাথায় গুরুতর জখম করেছে। তিনি আরো বলেন, আমার ট্রলারটি তারা নদীতে ডুবিয়ে দিয়েছে।
ইউপি সদস্য জাহিদ খাঁন ট্রলার ডুবিয়ে দেয়া ও মাঝিকে মারধরের কথা অস্বীকার করে বলেন, আমার ট্রলারের মাঝিকে উল্টো তারা মারধর করেছে। তিনি আরো বলেন, ঘাটে ট্রলার চালাতে কোন সমঝোতা হয়নি।
তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ আইরিন আলম বলেন, গুরুতর আহত সোহাগ চৌকিদারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তালতলী থানার ওসি মোঃ শরীফুল ইসলাম বলেন, গতকাল (শনিবার) শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় দুই পক্ষকে ডেকে সমঝোতা করে এসেছিলাম কিন্তু তারা মারধর করেছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply