শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন

আপন নিউজ ডেস্কঃ বরগুনার আমতলী উপজেলার উত্তর টিয়াখালী গ্রামে মঙ্গলবার (২৭ মে) অনুষ্ঠিত হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ মাঠ দিবস। আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি)-এর সিজিআইএআর সাসটেইনেবল ফার্মিং প্রোগ্রামের আওতায় বীজ বপন যন্ত্রের সাহায্যে শুকনা জমিতে সরাসরি আউশ ধান চাষ বিষয়ে এ আয়োজন করা হয়।
মাঠ দিবসটির আয়োজন করা হয় স্থানীয় কৃষক মোঃ জহুরুল ইসলামের আউশ ধানের জমিতে। ইরি’র রিসার্চ টেকনিশিয়ান রবিউল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রাসেল। আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএই’র উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, ইরি’র কৃষি উন্নয়ন ও গবেষণা কর্মকর্তা মানিক দেবনাথ, স্থানীয় প্রায় ৬০ জন কৃষক ও গণমাধ্যমকর্মী।
বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে সেচের পানির সংকট ও কৃষি শ্রমিকের অভাবের কারণে যান্ত্রিক চাষ পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বীজ বপন যন্ত্র ব্যবহারে সেচের পানি ও শ্রম খরচ কম হয়, ফলে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পায়।
কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রাসেল বলেন, “যন্ত্রের মাধ্যমে চাষাবাদ করলে অল্প খরচে অধিক লাভ সম্ভব এবং পতিত জমিকেও আবাদে আনা যায়।”
মানিক দেবনাথ জানান, ইরি’র অর্থায়নে কলাপাড়া ও আমতলী উপজেলায় দুইজন স্থানীয় সেবাদানকারীর মাধ্যমে দুটি বীজ বপন যন্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে। এই যন্ত্রের মাধ্যমে ধান ছাড়াও গম, ভুট্টা, ডাল, বাদাম, সূর্যমুখীসহ বিভিন্ন ফসল বপন করা যাবে।
কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন, “মুগ ডাল কাটার পর যন্ত্রের মাধ্যমে মাত্র এক চাষে ৮ বিঘা জমিতে আউশ ধানের বীজ বপন করেছি। এতে খরচ কম হয়েছে এবং বৃষ্টির কারণে সেচও দিতে হয়নি। আমি অত্যন্ত খুশি।”
স্থানীয় সেবাদানকারী শহীদুল ইসলাম যন্ত্রের ব্যবহার পদ্ধতি তুলে ধরেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সকল কৃষককে সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
পরবর্তীতে সবাই আউশ ধানের জমি পরিদর্শন করেন ও মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনেক কৃষকই যন্ত্রের কার্যকারিতা দেখে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ইচ্ছা জানান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইরি’র এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “যান্ত্রিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণে আমাদের সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”
উল্লেখ্য, চলমান আউশ মৌসুমে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত বীজ বপন যন্ত্রের সাহায্যে কলাপাড়া ও আমতলী উপজেলায় প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে ব্রি ধান ৯৮ জাতের আউশ ধানের চাষ করা হচ্ছে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply