বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৩১ পূর্বাহ্ন

আমতলী প্রতিনিধিঃ বরগুনার তালতলীতে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভনে দেখিয়ে এক নারীকে হিরণ হাওলাদার বাড়ীতে এনে চার জনে মিলে গণধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার পঁচাকোড়লিয়া ইউনিয়নের বড়পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ওই নারীকে পুলিশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় মামলা প্রস্তুতি চলছে।
জানাগেছে, জানুয়ারী মাসের মাঝামাঝি সময়ে তালতলী উপজেলা গ্রামের ওই নারী পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর এলাকায় শুটকি পল্লীতে মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ করতে যান। ওইস্থানে উপজেলার পঁচাকোড়লিয়া ইউনিয়নের মানিক হাওলাদারের ছেলে হিরনের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং সখ্যতা গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে হিরণ তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। গত শুক্রবার হিরণ ওই নারী ও তার মাকে নিয়ে কুয়াকাটায় যান এবং বিয়ের বিষয়ে বৈঠক করেন। পরে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত বিয়ের আশ্বাস দেন হিরণ। মঙ্গলবার বিকালে হিরণ তাকে (নারী) মহিপুর থেকে তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়লিয়া ইউনিয়নের বড়পাড়া এলাকায় তার বাড়ীতে নিয়ে আসেন। ওই রাতে হিরণসহ আরও তিনজন তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিবে জোরপূর্বক গণধর্ষণ ও পাশবিক নির্যাতন করে। কৌশলে ওই নারী ঘর থেকে বের হয়ে একটি মসজিদের পাশে আশ্রয় নেন। বুধবার ভোরে ওই মসজিদের মুসুল্লীরা তাকে দেখতে পায়। পরে ওই নারী তাদের কাছে সকল ঘটনা খুলে বলেন। খবর পেয়ে তালতলী থানা পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। তাকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। ঘটনার পরপরই হিরণ ও তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন,মহিপুর একটি শুটকি পল্লীতে মাছ প্রক্রিয়াজতকরণের কাজ করতে গিয়ে হিরণের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে তিনি প্রেমের ফাদে ফেলে আমাকে বিয়ে করতে বলে আশ্বাস দেয়। মঙ্গলবার বিকেলে হিরণ আমাকে তার বাড়ীতে নিয়ে আসে। ওই রাতে আমাকে হিরণ ও তার আরো তিন সহযোগী মিলে জোরপুর্বক একাধিকবার গণধর্ষণ করেছে। তাদের নির্যাতন থেকে রক্ষায় আমি কৌশলে পালিয়ে একটি মসজিদের পাশে আশ্রয় নিয়েছি। তিনি আরো বলেন, ওরা আমাকে পাশরিক নির্যাতন করেছে। পালিয়ে না গেলে ওরা আমাকে মেরে ফেলতো। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, হিরণ দীর্ঘদিন ধরে প্রেম ফাঁদে ফেলে ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক নারীদের বাড়িতে এনে ধর্ষণ ও নির্যাতন করে আসছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়া হয়। মামলার ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি। তারা আরো বলেন, হিরণের একাধিক বউ রয়েছে। তারাও এ কাজে হিরণকে সহযোগীতা করে। হিরণের কাজই এমন। এর আগে হিরণ আমতলীর মুন হোটেলে একই কাজ করতো।
স্থানীয় মুসল্লি ফারুক বলেন,ফজরের নামাজ শেষে বের হয়ে দেখি এক নারী মসজিদের পাশে বসে কাঁদছে। জিজ্ঞেস করলে সে জানায়, হিরুণ নামের এক ব্যক্তি তাকে এনে চারজন দিয়ে রাতভর ধর্ষণ করেছে।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন,খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ওই নারীর ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply