শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ন

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি।। আমতলীতে মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ আব্দুল আউয়ালের শাস্তির দাবীতে এলাকাবাসী বিক্ষোভ করেছে।
বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) বেলা ১১ টার দিকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ বিক্ষোভ করা হয়। এ বিক্ষোভে এলাকার অর্ধশত মানুষ অংশ নেয়। ওইদিনই তার শাস্তির দাবীতে সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার একে এম সামসুদ্দিন শানু এলাকাবাসীর পক্ষে আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
জানাগেছে, ২০১৯ সালে হাফেজ আব্দুল আউয়াল পৌর শহরের সবুজবাগ এলাকায় তাহফিজুল কোরান ক্যাডেট মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ওই মাদ্রাসায় শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। ওই মাদ্রাসায় পুরুষ হাফেজের পাশাপাশি নিয়োগ দেন একজন নারী। ওই নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন হাফেজ আব্দুল আউয়াল। বিষয়টি সংশোধনের জন্য অভিভাবক ও স্থানীয়রা হাফেজ আব্দুল আউয়ালকে চাপ দেন। কিন্তু অভিভাবক ও এলাকার লোকজনের কথায় তিনি কর্নপাত করেনি আউয়াল। এক পর্যায় ওই নারীর সঙ্গে হাফেজ আব্দুল আউয়ালের অশ্লীল ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাস হয়। অশ্লীল ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে অনলাইন নিউজ পোর্টাল আপন নিউজ বিডি ডটকমসহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ হন হাফেজ আব্দুল আউয়াল ও তার ভাই ফোরকান। বৃহস্পতিবার সকালে হাফেজ আব্দুল আউয়ালের বড় ভাই ফোরকান ঘটনাস্থল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ সবুজবাগ এসে স্থানীয় মিরাজ গাজীসহ এলাকাবাসীকে প্রকাশ্যে জীবননাশের হুমকি দেয়। খবর পেয়ে অর্ধ শতাধিক মানুষ ফোরকানকে আটক করে। পরে সে পালিয়ে যায়। হাফেজ আব্দুল আউয়ালের এমন অশ্লীল কর্মকান্ডের শাস্তি দাবী করে ওইদিন বেলা ১১ টায় এলাকাবাসী মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেছে। এ বিক্ষোভে এলাকার অর্ধশত মানুষ অংশ নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। হাফেজ আব্দুল আউয়ালের শাস্তির দাবীতে ওইদিন দুপুরে উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার অ্যাডভোকেট একেএম সামসুদ্দিন শানুসহ ৩০ নাগরিক আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
মিরাজ গাজী বলেন, হাফেজ আব্দুল আউয়ালের বড় ভাই ফোরকান এসেই এলাকার মানুষকে গালাগাল দিচ্ছে। আমি এ প্রতিবাদ করলে আমাকে জীবননাশের হুমকি দেয়।
উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার অ্যাডভোকেট একেএম সামসুদ্দিন শানু বলেন, একজন কোরানে হাফেজ মানুষ একটি আবাসিক এলাকায় অনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাবে এটা মেনে নেয়া যায়না। ওই হাফেজের কারনে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ওই হাফেজের শাস্তির দাবীতে এলাকাবাসীর পক্ষে আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি।
আমতলী থানার ওসি মোঃ শাহ আলম হাওলাদার বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply