শুক্রবার, ৩০ Jul ২০২১, ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন

প্রধান সংবাদ
বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবি; ১১ জেলে উদ্ধার গলাচিপায় হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামী গ্রেফতার গলাচিপায় লকডাউনের ৭ম দিনে ব্যাপক তৎপর উপজেলা প্রশাসন তিন ঘন্টার ব্যবধানে আমতলী হাসপাতালে করোনা ইউনিটে দুইজনের মৃত্যু অভ্যন্তরীন কোন্দলের জের ধরে কলাপাড়ায় ছাত্রলীগ নেতার হাতের কব্জি কর্তন গলাচিপায় কঠোর লকডাউনে তৎপর প্রশাসন ও সেনাবাহিনী গলাচিপায় টানা বর্ষণে তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চল নলছিটিতে সাংবাদিকের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কলাপাড়ায় মিলাদ ও দোয়া করোনায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ঝালকাঠী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মৃত্যু
কলাপাড়ায় সন্তানের জন্য হলেও বাঁচতে চান দুটি কিডনি বিকল হওয়া শিক্ষিকা রাবেয়া

কলাপাড়ায় সন্তানের জন্য হলেও বাঁচতে চান দুটি কিডনি বিকল হওয়া শিক্ষিকা রাবেয়া

রিপোর্ট-মোয়াজ্জেম হোসেন।। কলাপাড়ার লালুয়া ইউনিয়নের প্রীতি হায়দার বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রাবেয়া আক্তার। স্বামী আফসার উদ্দিন একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তাদের আছে সাত বছর বয়সী একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান। স্বামী, সন্তান নিয়ে খুব সুখেই কাটছিলো রাবেয়ার সংসার। কিন্তু দু’টি কিডনি নষ্টের খবর জীবনের সব সুখ কেড়ে নেয় রাবেয়ার। চিকিৎসা ব্যয় মিটাতে গিয়ে সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব এ পরিবারটি থাকছে এখন অন্যের বরাদ্দ পাওয়া আবাসনে। নিজের জন্য নয় শিশু সন্তানের জন্য সবসময় চিন্তা করেন তিনি। দু’চোখের চাহনিতে শুধু বেঁচে থাকার আশা। নিজের জন্য না হলেও দ্বিতীয় শ্রেনীতে পড়–য়া একমাত্র মেয়ে ফারিয়ার জন্য আরো কিছুদিন বাঁচতে চায় কিডনি রোগে আক্রান্ত রাবেয়া বেগম। সপ্তাহে দু’বার ডায়ালাইসিস করে এ পরিবারটি এখন নিঃস্ব প্রায়।



সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। যার ফলে এই শিক্ষক দম্পতির আয়ের পথ হটাৎ করে বন্ধ হয়ে গেছে। বে-সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও স্বামী আফসার উদ্দিন টিউশনি করিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যেই পরিবারের ভরনপোষণ করছিলেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কোন বাচ্চাকেই প্রাইভেট পড়াননা অবিভাবকগণ।

রাবেয়া আক্তারের পিতা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, লালুয়ার চৌধুরীপাড়া গ্রামে বাড়ি আমবদের। সেখানে দশ লক্ষ টাকা ব্যায় করে আমি প্রীতি হায়দার বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছিলাম। যার উদ্দেশ্য ছিল আমার মেয়ে শিক্ষক হিসেবে চাকরি করতে পারবে। সেখানে আমার মেয়ে জামাই দুই জনই শিক্ষক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। নদী ভাঙ্গনের কারণে বিদ্যালয়টি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আমার মেয়ে জামাই বেকার হয়ে যায়। হটাৎ করে আমার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা নিয়ে যাই। পরীক্ষা নিরিক্ষা শেষে জানতে পারি আমার মেয়ের দুটি কিডনি বিকল হয়ে গেছে। এদিকে পায়রা বন্দরের ভূমি অধিগ্রহণের ফলে আমার ভিটা মাটি সব নিয়ে যায়। অধিগ্রহণে পাওয়া প্রায় পঁচিশ লক্ষ টাকা মেয়ের চিকিৎসায় ব্যায় করেছি। এখন আমার কাছে আর নগদ কোন অর্থ নেই। এই অবস্থায় মেয়েকে সপ্তাহে দুইবার ডায়ালাইসিস করার মতো টাকা জোগাড় করা আমার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই কোন সহৃদয় ব্যাক্তি অথবা সরকার যদি আমার অসহায় পরিবারের দিকে তাকায় তবে মেয়েটা বেঁচে যেতো।

লালুয়া বানাতি বাজারের ঔষধ ব্যাবসায়ী ফূর্তি তালুকদার জানান, এই পরিবারটি সম্পর্কে আমি জানি। আমার কাছ থেকে অনেক ঔষধ কিনেছেন। তারা একসময় এলাকায় ভালোই ছিলেন। রাবেয়ার অসুস্থতার কারণে আজ তারা নিঃস্ব।

রাবেয়া আক্তারের স্বামী আফসার উদ্দিন জানান, শিক্ষক ছিলাম। টিউশনি করিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে স্ত্রী মেয়েকে নিয়ে সুখেই ছিলাম। করোনায় স্কুল বন্ধ থাকায় টিউশনি নেই। স্ত্রীর অসুস্থতায় নিজের সহায়সম্বল হারিয়ে দিন মজুরের কাজ করে মানুষের কাছে হাত পেতে সংসার চালাতে হয়। কোনদিন কাজ পেলে কোন দিন পাইনা। ডায়ালাইসিস, ঔষধ কিনতে কষ্ট হয়। আবেগে কেঁদে বলেন, একটা চৌকি কিনে অসুস্থ স্ত্রীকে শোয়াতে পারিনা। আমার মেয়েটি এতিম হয়ে যাবে ভাবতে খুব কষ্ট হচ্ছে। তিনি আরও জানান সংসারের রান্না সহ সকল কাজ আমাকেই করতে হয়। রাবেয়ার ঔষধ খাওয়ানো, সেবা এবং মেয়ের যত্ন নিয়ে কাজে যাওয়ার সময় থাকেনা। তার দুটি কিডনিই শতকরা নব্বই শতাংশের বেশি বিকল হয়ে গেছে। এ অবস্থায় আমি সমাজের বিত্তবান শ্রেণির মানুষের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি।

কিডনি রোগী রাবেয়া আক্তার কষ্ট করে কান্নাভেজা কন্ঠে বলেন, নিজেদের চলনের মতো কোন ব্যবস্থা নাই। ডায়ালাইসিস করে আমার বেঁচে থাকা লাগে। সপ্তাহে দু’দিন ডায়ালাইসিস করা আমাদের পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। বিয়ের পর আমার স্বামীকে পাঁচ লক্ষ টাকা খরচ করে সৌদি আরব পাঠানো হয়েছিল। সমস্যার কারণে সেখান থেকে খালি হাতে চলে আসতে হয়েছে। এরপর দুই জন শিক্ষকতা করে ভালোই ছিলাম। কিন্তু আল্লাহ পাক আমার সে সুখ দীর্ঘস্থায়ী হতে দিলনা।

উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম রাকিবুল আহসান জানান, এটা একটি ব্যয়বহুল চিকিৎসা। এ চিকিৎসায় সে সর্বোচ্চ খুইয়েছে। তিনি আরও জানান, এ রোগের পরিনতি হচ্ছে নিজে শেষ হয়ে সাথে পরিবার নিঃশ্ব হওয়া। আমি আমার ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে কিছু সাহায্য করবো। এবং উপজেলা পরিষদে আলোচনা করে চেষ্টা করবো মেয়েটির জন্য কিছু করা যায় কিনা। তাকে যে যা পারুন আর্থিক সহযোগিতা করুন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসানাত মো.শহীদুল হক জানান, আপনার মাধ্যমে মেয়েটির অসুস্থতার কথা জেনেছি। এ ধরনের অসহায় মানুষের পাশে উপজেলা প্রশাসন সবসময় পাশে থেকেছে। রাবেয়ার ব্যাপারেও তার ব্যাতিক্রম হবেনা।
নিজের জন্য নয়, সন্তানের জন্য আর কিছুদিন বেঁচে থাকতে চান রাবেয়া। রাবেয়াকে সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা। আফসার উদ্দিন, হিসাব নম্বর- ২০০১১২১০০০২৪৮০৭, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক, খেপুপাড়া শাখা, পটুয়াখালী। অথবা বিকাশ নম্বর ০১৭৩৪-৭৭৩৪৯৪।

স্বচ্ছল এই পরিবারটি স্ত্রীর চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে আজ প্রায় নিঃস্ব। থাকছে অন্যর আবাসনে। কোন হৃদয়বান ব্যক্তি চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করলে হয়তো বেঁচে যেতে পারে এই পরিবারটি।

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 aponnewsbd
error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!