মঙ্গলবার, ২৭ Jul ২০২১, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন

প্রধান সংবাদ
কলাপাড়া সাংবাদিক ফোরামের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ গলাচিপায় এমপিকে ফুলেল শুভেচ্ছা গলাচিপায় ভরা মৌসুমেও ইলিশের অভাব, দুশ্চিন্তায় জেলেরা সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের আপন নিউজে খবরে কলাপাড়া ইউএনও’র অ্যাকশন কলাপাড়া সাংবাদিক ফোরামের সদস্য জুলহাস মােল্লাকে প্রাণনাশের হুমকি কলাপাড়ায় বাবার কাছে টাকা চেয়ে না পেয়ে ছেলের আত্মহত্যা পিয়ন থেকে কলেজের অধ্যক্ষ; সার্টিফিকেট জালিয়াতিসহ নানা অপকের্মর অভিযোগ আমতলী ও তালতলীতে পানির নীচে আমনের বীজতলা; ভয়াবহ জলাবদ্ধতা খাদ্য সহায়তার জন্য গলাচিপায় ৩০’টাকায় চাল ও ১৮’আটায় বিক্রি শুরু গলাচিপায় ঘরের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে পরিবারটি

একেই বলে মানব সেবা

অনলাইন ডেস্কঃ 
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার কালিয়াকৈর গ্রাম। যে গ্রামে টানা ৩২ বছর গরিব মানুষদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে গেছেন এড্রিক বেকার নামে এক ‘ডাক্তার ভাই’। যিনি ছিলেন নিউজিল্যান্ডের অধিবাসি। এদেশের মানুষকে ভালোবেসে তিনি সেবার পাশাপাশি জীবনের সবটুকুই দিয়েগেছেন।
জীবনের শেষ সময়ে ‘ডাক্তার ভাই’ দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে অনেকেই চেয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকাতে নিয়ে যেতে। কিন্তু তিনি ঢাকা যেতে চাননি। তার শেষ ইচ্ছে ছিলো, তার তৈরি হাসপাতালেই তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করবেন। শেষ পর্যন্ত তার তৈরি করা হাসপাতালেই তিনি ২০১৫ সালে মারা যান। ‘ডাক্তার ভাই’র ইচ্ছে অনুযায়ি যেখানে তিনি থাকতেন সেই ঘরের বারান্দাতে মৃত্যুর পর সমাহিত করা হয় তাকে। তার আহ্বান ছিল এদেশের চিকিৎসকরাও যেনো সেবার মন নিয়ে দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ান। মৃত্যুর পর তার হাসপাতালটি যেনো এদেশের চিকিৎসকরাই দেখাশোনা করেন। কিন্তু লজ্জার বিষয় তা আর হয়নি।
ডা. বেকার মারা যাওয়ার পর তার হাসপাতালের পরিচালনার জন্য সুদূর আমেরিকা থেকে ছুটে আসেন আরেক ডাক্তার দম্পতি জেসিন এবং মেরিন্ডি। বেকার জীবিত থাকা অবস্থায় জেসিন এই হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছিলেন। কিন্তু যখন ডা. বেকারের মৃত্যুর খবর শুনেন, তখন তিনি অস্থির হয়ে উঠেন। তবে বিভিন্ন ব্যস্তায় তখন আসতে পারেননি। অবশেষে নিজের দেশ আমেরিকা এবং সম্পদ ও সকল সুখ ত্যাগ করে ২০১৮ সালে বাংলাদেশে চলে আসেন নতুন ডাক্তার ভাই। শুধু নিজেরা যে এসেছেন তা নয়। সঙ্গে তাদের সন্তানদেরও নিয়ে এসেছেন। বসবাস করছেন গ্রামের মাটির ঘরে, সন্তানদের ভর্তি করে দিয়েছেন গ্রামেরই স্কুলে। তারা গ্রামের শিশুদের সঙ্গে খেলছে।
এ দম্পতির চারটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। এ দৃশ্য উঠে এসেছে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির মাধ্যমে। এবারের পর্বে এটিই ছিল বিশেষ আকর্ষন। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় উঠেছে। জেসিন এবং মেরিন্ডির পরিবারের ছবি দিয়ে অনেকেই মন্তব্য লিখছেন নিজের ফেসবুক ওয়ালে। কেউ কেউ বলছেন- এ যেনো বাংলাদেশের মানুষের জন্য লজ্জা। একেই বলে মানব সেবা।
ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, ডাক্তার জেসিন কী সুন্দর করে লুঙ্গি পরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আর গ্রামে জেসিন হয়ে উঠেন নতুন ‘ডাক্তার ভাই’। স্ত্রী মেরিন্ডিও হয়ে উঠেছেন নতুন ‘ডাক্তার দিদি’। তারা দুজন নিয়মিত সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 aponnewsbd
error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!