কলাপাড়ায় কোচিংবাজ শিক্ষকের কান্ড! | আপন নিউজ

সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ০৫:০৮ অপরাহ্ন

প্রধান সংবাদ
কলাপাড়ায় মসজিদের ইমামের দাড়ি ধরে টানাটানি ও মারধর আমতলীর প্রবাহমান কাউনিয়া খাল উন্মুক্ত রাখার দাবীতে কৃষকের বিক্ষোভ ও সমাবেশ আমতলীতে গলায় ফাঁস দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া ছাত্রের আত্মহত্যা গলাচিপায় শিকল দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে কিশোর নির্যাতনের ঘটনায় আটক-৩ কলাপাড়ায় জমিজমা বিরোধ কে কেন্দ্র করে হামলা; আহত-৫ ভাতা নয়, মৃত্যুর আগে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নিজের নাম দেখে যেতে চান রাজ্জা কলাপাড়ায় মাদকাসক্ত যুবতীকে কারাদণ্ড গলাচিপায় আন্তর্জাতিক নার্স দিবস পালিত রাঙ্গাবালীতে নাবালিকা ধর্ষণ; অভিযুক্ত ছ্যানা বশার গ্রেপ্তার জামায়াত-শিবির ও শান্তি কমিটি মুক্ত আ.লীগ কমিটির দাবী আমতলী মুক্তিযোদ্ধাদের
কলাপাড়ায় কোচিংবাজ শিক্ষকের কান্ড!

কলাপাড়ায় কোচিংবাজ শিক্ষকের কান্ড!

বিশেষ প্রতিবেদকঃ 
’তুই পঞ্চাঁশ বার কান ধরে ওঠ বস কর। বেয়াদব
মেয়ে, আমার ক্লাশ থেকে তুই বেরিয়ে যা’-এভাবেই সপ্তম শ্রেনীর মেধাবী শিক্ষার্থী আদিবাকে শাসিয়ে বললেন খেপুপাড়া সরকারী মডেল মাধ্যমিক
বিদ্যালয়ের কোচিংবাজ বিএসসি শিক্ষক মো: দেলোয়ার হোসেন। আদিবার পূর্বে একই শ্রেনীর শিক্ষার্থী ফাতিহা আক্তার জান্নাতি, জুলিয়া ফেরদৌসি তানহা, সৈয়দা মেরুনা, আনিকা তাবাসসুম নোভা, জোবায়দা জেসি, আয়শা সহ বেশ ক’জনকে হোম ওয়ার্ক’র মত তুচ্ছ অজুহাতে পঞ্চাঁশ বার কান ধরে ওঠ বস করান দেলোয়ার হোসেন। এদের মধ্যে জুলিয়া ফেরদৌসি তানহা কান অপারেশনের রোগী হলেও ছাড় দেয়া হয়নি তাকে। আর আদিবা বিনা কারনে পঞ্চাঁশ বার কান ধরে ওঠ বস করতে রাজী না হওয়ায় তাকে বেয়াদব বলে চেঁচিয়ে ওঠেন দেলোয়ার। এমনকি তিঁনি শ্রেনী শিক্ষক বলে পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে দেয়ার হুমকী দেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থী আদিবা’র অভিভাবক সুফিয়া আক্তার। তবে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: আবদুর রহিম বললেন এ ঘটনা তাঁর জানা নেই। কোন অভিভাবক তার কাছে অভিযোগ করেননি। ইউএনও বললেন অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জানা যায়, রবিবার (১৫মার্চ) খেপুপাড়া সরকারী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর ’ক’ শাখার পঞ্চম পিরিয়ডে অংক শ্রেনী শিক্ষক মো: দেলোয়ার হোসেন তাঁর কাছে প্রাইভেট না পড়ার দরুন হোম ওয়ার্ক’র মত তুচ্ছ অজুহাত সৃষ্টি করে কয়েক মেধাবী শিক্ষার্থীকে ৫০ বার কান ধরে ওঠ বস করিয়ে মানসিক ও শারিরীক নির্যাতন করেন। এসময় শিক্ষার্থী জুলিয়া ফেরদৌসি তানহা কান অপারেশনের রোগী বলার পরও তাকে কান ধরে ওঠ বস করতে বাধ্য করেন দেলোয়ার। অথচ হোম ওয়ার্ক কোন দিন দেখেন না তিঁনি। এমনকি তাঁর নিয়মে অংক না করলে পরীক্ষার খাতায় কোন নম্বর না দেয়ার হুমকী দেন শিক্ষার্থীদের। এভাবেই তিনি প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে তাঁর পরিচালিত হোম প্রাইভেট ও কোচিংয়ে যেতে বাধ্য করেন। এতে যারা যেতে রাজী না হয় তাদের শ্রেনী কক্ষে প্রতিনিয়ত মানসিক ও শারিরীক নির্যাতন, পরীক্ষার হলে হয়রানী ও উত্তর পত্রে নম্বর কমিয়ে দিয়ে থাকেন তিঁনি। কেননা দেলোয়ার হোসেন (ইনডেক্স নং-২১৯৮১৫) ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সহায়তায় ৭ম থেকে ১০ম শ্রেনী পর্যন্ত সকল ক্লাশে অংক ও বিজ্ঞান বিষয়ের শ্রেনী শিক্ষক। প্রতিষ্ঠানটিতে একাধিক বিএসসি শিক্ষক থাকার পরও শিক্ষক দেলেয়ারকে প্রধান শিক্ষক ক্লাস রুটিনে বিজ্ঞান ও অংক বিষয় পড়াতে দেন। এমনকি অষ্টম শ্রেনীর শারিরীক শিক্ষা ও দশম শ্রেনীর বোর্ড পরীক্ষার সকল প্রাকটিক্যাল মার্কসের মালিক একমাত্র দেলোয়ার। এ নিয়ে অন্য শিক্ষকরা মুখ খুললে তাঁদের হয়রানী করা হয়। কেননা শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে উপার্জিত এসব অর্থের একটি অংশ পেয়ে থাকেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। যে টাকায় দু’জনেরই শহরে বাড়ী নির্মানের প্লট ও ব্যাংক ব্যালেন্স টই টম্বুর। এজন্য প্রতিষ্ঠানটি সরকারী হওয়ার পরও প্রধান শিক্ষকের যাতে পদায়ন না হয় সেজন্য প্রতিনিয়ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তদ্বির করছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আদিবা’র অভিভাবক মোসা: সুফিয়া আক্তার বলেন, ’রবিবার অংক শ্রেনী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন তুচ্ছ কারনে আমার মেয়ে আদিবাকে ৫০ বার কান ধরে ওঠ বস করতে বলেন। এতে সে রাজী না হওয়ায় তার সাথে যাচ্ছে তাই
ব্যবহার করেন। এমনকি আদিবাকে বেয়াদব এবং শ্রেনী কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। সোমবার শ্রেনী কক্ষে আমার মেয়ের সাথে তিঁনি কথা বলেনি। এমনকি আমার মেয়ে তার কাছে অংকের খাতা নিয়ে গেলে তিনি কোন ভ্রুক্ষেপ করেননি।’
সুফিয়া আক্তার আরও বলেন, ’অংক শ্রেনী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন এর আগে আমার বাসায় এসে আমার মেয়ে আদিবাকে তাঁর কাছে প্রাইভেট পড়ানোর জন্য বলেন। আমি এতে রাজী না হওয়ার পর থেকে তিনি শ্রেনী কক্ষে আমার মেয়ের উপর শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন।’
সুফিয়া আক্তার’র মত একই অভিযোগ শিক্ষার্থী জুলিয়া ফেরদৌসি তানহা’র মা মোসা: রাবেয়া বশরি ও শিক্ষার্থী ফাতিহা আক্তার জান্নাতি’র মা মোসা:
নাসরিন এর। তাঁরা কোচিংবাজ শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন’র রোষানল থেকে কোমলমতি শিশুদের বাঁচাতে প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ইউএনও’র কাছে দু’এক দিনের মধ্যে লিখিত আবেদন করবেন বলে জানান।
এ বিষয়ে খেপুপাড়া সরকারী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত শিক্ষক মো: দেলোয়ার হোসেন’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিঁনি উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ’একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।’
খেপুপাড়া সরকারী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আ: রহিম বলেন, ’তিঁনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। কোন অভিভাবক তাঁকে এ বিষয়ে অভিযোগ করেনি।’
খেপুপাড়া সরকারী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও কলাপাড়া ইউএনও মো: মুনিবুর রহমান বলেন, ’তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে যথাযথ কত্র্পক্ষের কাছে প্রেরন করা হবে।
প্রসংগত, শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা ও উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কলাপাড়ায় এক শ্রেনীর কোচিংবাজ শিক্ষক প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে তাঁদের পরিচালিত কোচিং বানিজ্যে পড়তে যেতে বাধ্য করছেন। এরা বাসা-বাড়ী এমনকি শহরের অলি গলিতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রাইভেট কিংবা কোচিং বানিজ্য করে বৎসরে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। ইতোপূর্বে গনমাধ্যমে কোচিং বানিজ্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্থানীয় প্রশাসন বেশ ক’জন শিক্ষককে ভ্রাম্যমান আদালতে দন্ড প্রদান সহ কোচিংবাজ শিক্ষকদের হুঁশিয়ার করেন। এমনকি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কোচিংবাজ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নামের তালিকাও প্রেরন করা হয় শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে। কিন্তু ক’দিন বন্ধ থাকার পর কোচিংবাজ শিক্ষকরা ফের বেপরোয়া হয়ে উঠতে শুরু করেছে।

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 aponnewsbd
Design By MrHostBD
error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!