বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৪৫ অপরাহ্ন

আমতলী প্রতিনিধিঃ মায়ের দোয়া কটন মিলস আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে মিলস মালিক বশির খাঁনের ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বার বার তুলার মিলে আগুন লাগায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। লোকালয় থেকে তুলার মিল অপসারণের দাবী এলাকাবাসীর। ঘটনা ঘটেছে আমতলী উপজেলার মানিকঝুড়ি এলাকায় মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে।
জানাগেছে, ২০১৮ সালে আমতলী উপজেলার বৈঠাকাটা গ্রামের মোঃ বশির খাঁন মানিকঝুড়ি এলাকায় মায়ের দোয়া নামের কটন মিলস নির্মাণ করেন। মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে বৈদ্যুতিক সট সার্কিট থেকে ওই মিলে আগুনের সুত্রপাত হয়। মুহুর্তের মধ্যে আগুন চাড়িদিকে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আমতলী ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু ততক্ষণে মিলের মেশিন ও মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে অন্তত ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবী করেন মিল মালিক বশির খাঁন। খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী, সহকারী পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম মাসুদ ও ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গির হোসেন ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন গত সাত বছরে বেশ কয়েকবার মিলে আগুন লেগেছে। এতে লোকালয়ের বসতকারী লোকজনের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী গোলাম মোস্তফা বলেন, রাত নয়টার দিকে তুলার মিলে আগুন জ্বলতে দেখে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেই। কিন্তু ফায়ার সার্ভিস আসলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। তিনি আরো বলেন, লোকালয়ে তুলার মিল স্থাপন করায় আমরা বিপদে আছি। গত সাত বছরে কয়েকবার তুলার মিলে আগুন লেগেছে। কিন্তু এমন ক্ষতি হয়নি। তিনি আরো বলেন, যখনই আগুন লাগে তখনই এলাকার মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। লোকালয় থেকে তুলার মিল অপসারণের দাবী এলাকাবাসীর।
মিলের মেশিন চালক ফাহিমা বেগম বলেন, গতকাল মিল বন্ধ থাকায় আমরা কেউ ছিলাম না। তবে গত দুইবার বৈদ্যুতিক মিটার থেকে মিলে আগুন লেগেছে। আমার ধারনা এবারও মিটার থেকে মিলে আগুন লেগেছে।
মায়ের দোয়া কটন মিলস মালিক বশির খাঁন বলেন, আগুনে মিলের মেশিনসহ সকল মালামাল পুড়ে গেছে। এতে আমার অন্তত ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমি পথে বসে গেছি। পুনরায় মিল চালু করার মত আমার কিছুই রইলো না।
আমতলী ফায়ার সার্ভিসের লিডার মোঃ গোলাম মোস্তফা বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে কিভাবে আগুন লেগেছে তা সনাক্ত করতে পারিনি ?
সহকারী পুলিশ সুপার (আমতলী-তালতলী সার্কেল) তারিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা হয়েছে। মিলে ঝুট থাকায় আগুন দ্রুত চারিদিকে ছড়িয়ে পরেছে। তিনি আরো বলেন, দুইটি ফায়ার সার্ভিস কাজ করলেও কোন মালামাল রক্ষা করা যায়নি। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পরিদর্শণ করেছি। ক্ষতিগ্রস্থ মিল মালিক আবেদন করলে তাকে সকল সহায়তা করা হবে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply