মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৩২ অপরাহ্ন

প্রধান সংবাদ
বিএনপি জোট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে দাবি তা সংবিধান পরিপন্থী- মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী কলাপাড়ায় আলীপুর-মহিপুর মৎস্য অবতরন কেন্দ্রের উদ্বোধন করলেন মন্ত্রী গলাচিপায় পাবলিক পরীক্ষা কেন্দ্রসমূহে প্লাষ্টিকের বেঞ্চ বিতরন আজ উদ্বোধন হচ্ছে মহিপুর ও আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র সরকার ও সাংবাদিকদের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে অনিবন্ধিত ৫৯টি আইপিটিভি বন্ধ করল বিটিআরসি কুয়াকাটায় খালের ওপর পরিত্যক্ত কালভার্টে মুরগি বেচা-কেনার দোকানপাট আমতলীতে মুজিব কোর্ট নিয়ে ইমামের মিথ্যাচার ও কটুক্তি গলাচিপায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প স্বাবলম্বী হওয়ার পথে কলাপাড়ার ক্ষতিগ্রস্থ্য পরিবারের সদস্যরা
প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য সহায়তার ঘোষনায় কলাপাড়ায় মানুষের মুখে হাসি

প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য সহায়তার ঘোষনায় কলাপাড়ায় মানুষের মুখে হাসি

বিশেষ আপন নিউজ প্রতিবেদকঃ

কলাপাড়ায় করোনা সংক্রমন এড়াতে লডডাউন চলমান থাকায় থেমে গেছে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনের চাকা। ঘরের বাইরে বেরিয়ে নিত্য দিনের মত শ্রম বিক্রী করতে না পারায় পরিবার পরিজন নিয়ে খেটে খাওয়া এসব মানুষেরা রান্নার চুলা জ্বালাতে যখন হিমশিম খাচ্ছে তখন প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য সহায়তার ঘোষনা এসব মানুষের জীবনে নতুন আলোর সঞ্চার করেছে। দু:শ্চিন্তা গ্রস্ত মানুষের কাছে একত্রে চাল, ডাল, তেল, আলু, লবন, পেঁয়াজ, সাবান সম্মিলিত এ খাদ্য সহায়তার প্যাকেজ যেন আশীর্বাদ। লকডাউন চলমান থাকলেও অন্তত: রান্নার চুলা জ্বলার এ নিশ্চয়তা খেটে খাওয়া মানুষগুলোর মুখে হাসি ফুটিয়েছে। সরকারের এ খাদ্য সহায়তা অপ্রতুল হলেও ক্ষুধার্ত মানুষ গুলোর আক্ষেপ নেই, তাদের বিরক্তি শুধু ইচ্ছের বিরুদ্ধে অপ্রতুল খাদ্য সহায়তা নিয়ে সেলফিবাজদের দৌরাত্ম্যে।

দেশে মরনঘাতি করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুর পর সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে দেশ জুড়ে লকডাউনের ঘোষনা দেয়। এতে কার্যত অচল হয়ে পড়ে গোটা দেশ। থেমে যায় অর্থনীতির চাকা। দেশের বৃহৎ অংশের এক শ্রেনীর মানুষ উপার্জনহীন হয়ে পড়ায় থেমে যায় নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনের চাকা। নিভে যায় তাদের রান্নার চুলা। ক্ষুধার্ত এ মানুষগুলোর বাড়ী বাড়ী সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়ার ঘোষনা থাকলেও নেতার সাথে সমাগম হয়ে মানুষের বাড়ী বাড়ী খাদ্য সহায়তার প্যাকেজ নিয়ে ক্ষুধার্ত মানুষগুলোকে ইচ্ছের বিরুদ্ধে দাড় করিয়ে এক শ্রেনীর সেলফিবাজরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতার পক্ষে ত্রান বিতরনের প্রচার চালাচ্ছে। ফেসবুক খুললেই ক্ষুধার্ত মানুষদের সাথে নেতার অনুসারীদের ছবি দেখা যাচ্ছে, একটি খাদ্য প্যাকেজ বিতরন করতে দেখা যাচ্ছে ১০-১৫জনকে।

উপজেলা পরিসংখ্যান অফিস সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়ায় ২০১১ সালের আদম শুমারী অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ৩৭ হাজার ৮৩১ জন। বর্তমানে এ জনসংখ্যা এসে দাড়িয়েছে প্রায় ২লক্ষ ৫০ হাজারে। উপজেলায় বসবাসরত এ মানুষের মধ্যে শতকরা ২৪ভাগ মানুষ হতদরিদ্র শ্রেনীর, যাদের পরিবার রোজকার উপার্জনে চলে। অবস্থা এমন যে, কাজ আছে তো রান্নান চুলা জ্বলে। উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌরসভায় বসবাসরত অন্তত: ৬০ হাজার মানুষ হতদরিদ্র শ্রেনীর।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তপন কুমার ঘোষ বলেন, উপজেলায় মোট ২০০০ জন হতদরিদ্র মানুষকে দুর্যোগ ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের অর্থায়নে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় করোনা বরাদ্দে খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এ খাদ্য সহায়তার তালিকায় রয়েছে ১০ কেজি চাল, ২ কেজি আলু, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি লবন, ৫০০ মি.লি. তেল ও ১টি স্যাভলন সাবান। ইতোমধ্যে সহায়তার এ খাদ্য সামগ্রী উপজেলার ১২টি ইউনিয়নও দু’টি পৌরসভায় পৌঁছে দেয়া হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য, ইউএনও, উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়র ও স্বস্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গন করোনা সংক্রমন রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এ সহায়তা হতদরিদ্র মানুষের বাড়ী বাড়ী পৌঁছে দিচ্ছে, যা দু’একদিনের মধ্যে বিতরন সম্পন্ন হবে।

কলাপাড়া ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুর্যোগ ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের অর্থায়নে উপকূলীয় কলাপাড়ায়
২০০০টি হত দরিদ্র পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এ ছাড়া এসএসসি ব্যাচ ১১ ও এসএসসি ব্যাচ ২০১৩ নিজেদের অর্থায়নে হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাড়িয়েছে।

জেলা ত্রান ও দুর্যোগ বাস্তবায়ন কর্মকর্তা’র অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকারী নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো: মাহবুবুল ইসলাম জানান, জেলায় করোনা বরাদ্দে ৪০৬ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যা থেকে ৮টি উপজেলায় ইতোমধ্যে ৩০৬ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১৪লক্ষ টাকা হত দরিদ্র মানুষের খাদ্য সহায়তার জন্য পৌঁছে দেয়া হয়েছে। উদ্বৃত্ত ১০০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১লক্ষ টাকা করোনা লকডাউনে কর্মবিমূখ হয়ে পড়া জেলা শহরের রিক্শা শ্রমিক, অটো শ্রমিক ও বাস শ্রমিকদের মধ্যে দু’এক দিনের মধ্যে খাদ্য সহায়তায় বিতরন করা হবে।

পটুয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মো: জাহাঙ্গীর আলম জানান, পটুয়াখালীতে ৭০২ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। তন্মধ্যে ৪৩০ জনের কোয়ারেন্টিন শেষে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। জেলায় এখনও ২৭২ জন হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছে। এছাড়া জেলায় এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমিত হয়নি।

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 aponnewsbd
error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!