করোনা আতংকের মধ্যেও কলাপাড়ায় রোগী পারাপারে সচল রয়েছে খেয়া | আপন নিউজ

শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩, ০৭:৫৮ অপরাহ্ন

প্রধান সংবাদ
আমতলীতে তরমুজ আবাদে ব্যস্ত কৃষক নারী শ্রমিকরাও ঘরে বসে নেই একমাত্র শেখ হাসিনার সরকার দেশে উন্নয়নে সম অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন-এমপি মহিব কলাপাড়ায় শহীদ আলাউদ্দিন স্মরনে স্মরন সভা কলাপাড়া রিপোর্টার্স ক্লাব’র ৭ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন গলাচিপায় পাতিহাঁস পাড়ল কালো ডিম কলাপাড়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড’র তরিকুল’র বিরুদ্ধে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ শিক্ষাক্রমে বিতর্কিত পাঠ্যক্রম বাতিলের দাবিতে কলাপাড়ায় মানববন্ধন আমতলী উপজেলা পরিষদ পুনঃনির্বাচনে প্রার্থী নিয়ে ধুম্রজাল মৃত্যুর তিন বছর চার মাসেও নির্বাচন হয়নি আমতলী পৌরসভার ২ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে কলাপাড়ায় সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করার পাঁয়তারা; থানায় অভিযোগ
করোনা আতংকের মধ্যেও কলাপাড়ায় রোগী পারাপারে সচল রয়েছে খেয়া

করোনা আতংকের মধ্যেও কলাপাড়ায় রোগী পারাপারে সচল রয়েছে খেয়া

রাসেল মোল্লাঃ
নভেল ভাইরাস করোনা আতংকে লকডাউনে পরেছে গোটা দেশের মানুষ। দূর পাল্লার বাস-ট্রাকসহ সকল ধরনের গণপরিবহণ চলাচল বন্ধ রয়েছে। দেশের মানুষকে ঘরের বাহিরে বের না হওয়ার জন্য সরকারের তরফ হতে বিভিন্ন ধরনের প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। করোনা ভাইরাসের আতংকে গোটা বিশ্ব আজ স্তবির হয়ে পরেছে। তবুও দেশের মানুষের সেবার প্রয়াশে কতিপয় মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও কাজ করে যেতে হচ্ছে। কলাপাড়ায় রোগীদের সেবা ও জরুরী প্রয়োজনে বের হওয়া সাধারন মানুষকে পারাপারের জন্য উপজেলার খেয়াগুলো সচল রয়েছে।
 উপজেলায় বাদুরতলী, লোন্দা, উত্তর লালুয়া, তেগাছিয়া ও বালিয়াতলী খেয়াসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক খেয়া রয়েছে। যাত্রী পারাপরের এসব খেয়াগুলোর মধ্যে বালিয়াতলী খেয়াটি অত্যান্ত গূরুত্বপূর্ণ একটি খেয়া। এ খেয়া দিয়ে বালিয়াতলী, লালুয়া ও মিঠাগঞ্জসহ ৫টি ইউনিয়নের প্রায় হাজার হাজার লোক প্রতিদিন উপজেলা সদরে যাতায়ত করে থাকেন। সরেজমিনে বালিয়াতলী খেয়াঘাটে গিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের আতকং ও সারা দেশ লকডাউনে থাকায় যাত্রী যাতায়ত খুবই নগণ্য। তবুও জরুরী রোগী ও প্রশাসনের চলাচলের সুবিধার্থে খেয়া চলাচল সচল রাখা হয়েছে। এতে খেয়া ইজারাদার অত্যান্ত লোকসানে পড়ছে বলে জানা যায়। তাদের যৌক্তিক দাবী হলো, জরুরী রোগী ও প্রশাসনের লোকদের চলাচলের জন্য খেয়া সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হচ্ছে। বর্তামানে প্রায় সময়ই দু-একজন যাত্রী নিয়ে খেয়া চালাতে হয়। আবার জরুরী রোগী আসলে তাৎক্ষণিকভাবে খেয়া চালাতে হয়। উপরুন্ত, করোনা আতংক ছাড়াও কখনই জরুরী রোগী, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর, ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, সাংবাদিকদের নিকট হতে তারা ভাড়া নেয় না। জানা যায়, বালিয়াতলী খেয়ার ইজারা বাবদ ১৪২৬ সালে সরকারী রাজস্বখাতে যে অর্থ দেয়া হয়েছে প্রতিদিনের গড় হিসাবে তা ২৩ হাজার ১০০ টাকা করে পরে। দশ লক্ষ টাকা মূল্যের দুটি বোর্ট দিয়ে খেয়া পারাপার করা হয় যা প্রতিদিনকার হিসাবে ৩ হাজার টাকা হারে রোজ হয়। তেল-মবিল বাবদ রোজ প্রায় ৩ হাজার টাকা খরচ হয়। এছাড়াও খেয়া পরিচালনার জন্য ১৪ জন লোক রাখা হয়েছে যাদের রোজ হাজিরা ৭ হাজার টাকা দিতে হয়। সর্বমোট প্রতিদিন প্রায় ৩৬  হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে। বর্তমানে করোনা আতংকে যাত্রী সমাগম কম হওয়ায় গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ হতে ২২ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। কোন কোনদিন তৈল-মবিলের খরচও আদায় হয়না তাদের। তাই সরকারের রাজস্ব তহবিল হতে কিছূ সহায়তা পেলে তাদের খাটতি কিছুটা হলেও কমবে বলে জানান ঘাট কর্তৃপক্ষ।
বালিয়াতলী খেয়াঘাটের ইজারাদার মো. মুছা হাওলাদার বলেন, রোগী ও প্রশাসনের লোকজনের সেবার জন্যই খেয়া পারাপার চালু রাখতে হচ্ছে। করোনা ভাইরাস আতংকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যেও আমরা এ সেবা অব্যাহত রেখেছি। প্রতিদিন আমাকে প্রচুর টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। আমি সামান্য একজন ঘাট ইজারাদার। এতো ঘাটতি সহ্য করা আমার একার পক্ষে কষ্টসাধ্য হচ্ছে। তাই
সরকারের রাজস্ব খাত হতে কিছু আর্থিক সহায়তা পেলে সামান্য হলেও এ ঘাটতি পূরন হতো বলে আমি আশা করছি। এ বিষয়ে আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, খেয়া ইজারা নিয়ে সারা বছর তারা কম বেশি ব্যবসা করেছে। করোনা আতংকের কারনে দেশ লকডাউনের কয়েকদিন মানুষের সেবা করবে এটাই দেশবাসী তাদের নিকট প্রত্যাশা করে। তবে তাদের আর্থিক সহায়তার বিষয়ে এমূহুর্তে কোন চিন্তা-ভাবনা নেই বলেও তিনি জানান।

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com

Design By MrHostBD
error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!