সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:১০ পূর্বাহ্ন

কলাপাড়ায় প্রান্তিক জেলেদের ভিজিএফ’র চাল বিতরন নিয়ে শংকা

কলাপাড়ায় প্রান্তিক জেলেদের ভিজিএফ’র চাল বিতরন নিয়ে শংকা

বিশেষ আপন নিউজ প্রতিবেদকঃ

কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের ১১০০ প্রান্তিক জেলের ৮৮ মেট্রিক টন ভিজিএফ’র চাল বিতরন নিয়ে শংকা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের গাফেলতিতে জেলেদের চাল বিতরন নিয়ে এ শংকা দেখা দেয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সহ ইউপি সদস্যরা। তবে ইউপি চেয়ারম্যান অসুস্থতার কারনে তার চিকিৎসার জন্য ছুটি নিতে পরিষদে মিটিং করে রেজুলেশন কপি ইউএনও বরাবরে পৌঁছে দেয়ার কথা বলেছেন। ইউএনও বললেন চাল গ্রহন করে জেলেদের বিতরনের জন্য চেয়ারম্যানকে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। এরপর ও গাফেলতি পরিলক্ষিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা যায়, দেশের মৎস্য সম্পদ ইলিশ রক্ষায় জাটকা আহরন নিষিদ্ধ সময়ে তালিকাভুক্ত প্রান্তিক জেলেদের পরিবার প্রতি ৪০ কেজি হারে এপ্রিল-মে দুই মাস খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে সরকার। এলক্ষে উপজেলার দু’টি পৌরসভা ও ১২ইউনিয়নে ফেব্রুয়ারী-মার্চ মাসে ভিজিএফ’র চাল পায়নি এমন প্রান্তিক জেলেদের নামের তালিকা তৈরী করে তা জমা দিতে বলা হয়েছে। এরপর মৎস্য বিভাগের বিভাজন অনুযায়ী বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলন করে তদারকি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে জেলেদের মাঝে বিতরনের জন্য বলা হয়। চাল বিতরনে শতভাগ স্বচ্ছতার পরিকল্পনা অনুসৃত হওয়ায় এবং চাল পরিবহনের জন্য আলাদা খরচের কোন বরাদ্দ না থাকায় চাল বিতরন নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে অনাগ্রহ দেখা দিয়েছে। মহিপুর ইউপি চেয়ারম্যান
আ: ছালাম আকন অসুস্থ্যতার জন্য চিকিৎসা নিতে পরিষদে সভা ডেকে রেজুলেশন করে প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দিয়ে ওই রেজুলেশনের কপি ইউএনও কার্যালয়ে পৌঁছে দেন। কিন্তু প্যানেল চেয়ারম্যান সহ ইউপি সদস্যরা চেয়ারম্যানের ছুটি সংক্রান্ত কোন সভা পরিষদে অনুষ্ঠিত হয়নি এবং চাল পরিবহন খরচ এড়াতে ওই রেজুলেশন চেয়ারম্যানের একক সৃষ্ট বলে জানান। এতে পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সহ ইউপি সদস্যদের স্বাক্ষর নেই বলেন তারা।

মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদ’র প্যানেল চেয়ারম্যান ইসসমাইল হাওলাদার বলেন, ’চেয়ারম্যান একক ভাবে তার ছুটি সংক্রান্ত ওই রেজুলেশন করে ইউএনও কার্যালয়ে দিয়েছেন। এতে আমাদের কোন স্বাক্ষর নেই এবং আমরা রেজুলেশন সংক্রান্ত সভা সম্পর্কে অবগত নই। তিনি ২৬ তারিখে রেজুলেশন দেখিয়ে আবার ২মে পরিষদে এসে দুর্যোগ পরিস্থিতির ফ্রি ২০ কেজি চাল’র বিশেষ বরাদ্দের ৯৫০ নাম বন্টন করেন। শুধু মাত্র ৪৪ মেট্রিক টন চাল পরিবহন খরচ এড়াতে এসব করছেন তিনি। এসময় অপর ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম হাওলাদার সহমত পোষন করেন।’

মহিপুর ইউপি চেয়ারম্যান আ: ছালাম আকন বলেন, ’আমি অসুস্থ। চিকিৎসার জন্য বরিশালে আছি। পরিষদে রেজুলেশন করে প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব অর্পন করে তা ইউএনও কার্যালয়ে জমা দিয়ে এসেছি। ৮০ হাজার টাকা পরিবহন খরচ এড়াতে প্যানেল চেয়ারম্যান এসব বলছেন। আমার জীবনের চেয়ে চেয়ারম্যান’র দায়িত্ব পালন বড় নয়।’

কলাপাড়া খাদ্য গুদাম’র সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক মো: জাকির হোসেন বলেন, ’কলাপাড়া পৌরসভা, কুয়াকাটা পৌরসভা, টিয়াখালী, মিঠাগঞ্জ ও বালিয়াতলি ইউনিয়ন পরিষদ ভিজিএফ’র এপ্রিল-মে’২০২০ বরাদ্দের চাল গ্রহন করেছে। অন্যরা এখনও গ্রহন করেনি।’

ইউএনও আবু হাসনাত মোহম্মদ শহিদুল হক বলেন, ’চেয়ারম্যান’র অনুপস্থিতিতে প্যানেল চেয়ারম্যানকে চাল গ্রহন করে বিতরনের জন্য বলার পর তিনি অপরগতা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া চেয়ারম্যান’র ছুটি সংক্রান্ত রেজুলেশন পাওয়া গেলেও তারা অবগত নন বলায় চেয়ারম্যানকে চাল বিতরনের পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য বলা হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবগত করা হয়েছে। সংকট উত্তরনে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলেন তিনি।’

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 aponnewsbd
error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!