স্বাস্থ্যবিধি না মেনে; দ্বিতীয় দিনের মত আমতলী থেকে লঞ্চ ছেড়ে গেছে! | আপন নিউজ

শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:৩১ পূর্বাহ্ন

স্বাস্থ্যবিধি না মেনে; দ্বিতীয় দিনের মত আমতলী থেকে লঞ্চ ছেড়ে গেছে!

স্বাস্থ্যবিধি না মেনে; দ্বিতীয় দিনের মত আমতলী থেকে লঞ্চ ছেড়ে গেছে!

আমতলী প্রতিনিধিঃ
স্বাস্থ্যবিধি না মেনে দ্বিতীয় দিনের মত সোমবার  আমতলী লঞ্চঘাট থেকে এমভি ইয়াদ-১ লঞ্চ ছেড়ে গেছে। সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ যাত্রী নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা। এতে ওই লঞ্চের যাত্রীদের মাঝে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানাগেছে, প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মহামারী আকার ধারন করায় সরকার গত ২৬ মার্চ নৌ ও সড়ক পথে ল  ও বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। ওই সময় থেকেই গত দুই মাস পর্যন্ত নৌ পথে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ছিল। রবিবার সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ায় সোমবার সকালে এমভি ইয়াদ-১ লঞ্চটি ঢাকা থেকে আমতলী আসে। এমভি ইয়াদ লঞ্চের যাত্রী ধারণ ক্ষমতা নিয়ে রয়েছে ধু¤্রজাল। লঞ্চের ডেকের সামনে যাত্রী ধারন ক্ষমতা লেখা রয়েছে ৭০২/৫০২ জন। লঞ্চের সঠিক ধারন ক্ষমতা নিয়ে সুপার ভাইজার হালিম মিয়া সদুত্তোর দিতে পরেনি। এদিকে সোমবার বিকেল তিনটার দিকে ওই লঞ্চটি আমতলী ঘাট থেকে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে যাত্রী বোঝাই করে ঘাট ছেড়েছে। এরপরে লেবুখালী পর্যন্ত মাঝখানে পুরাকাটা, আয়লা পাতাকাটা, ভয়াং, কাকরাবুনিয়া ও পায়রাকুঞ্জু নামের পাঁচটি ঘাট রয়েছে। ওই সকল ঘাট থেকে অন্তত আরো তিন শতাধিক যাত্রী লঞ্চে  উঠেছে বলে জানান লঞ্চে থাকা যাত্রীরা। ধারন ক্ষমতার চেয়ে দুইগুন যাত্রী ওই লঞ্চে রয়েছে। ওই সকল যাত্রী নিয়ে লঞ্চটি ঢাকায় পৌছবে। ফলে স্বাস্থ্যবিধি পুরাপুরো বিঘিœত হচ্ছে। এতে যাত্রীদের মাঝে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক বিরাজ করছে। এদিকে নির্ধারিত সময়ের এক ঘন্টা আগে দুপুর তিনটার দিকে লঞ্চটি আমতলী ঘাট থেকে ছেড়ে যায়। এতে অনেক মানুষ লঞ্চঘাটে এসে ফিরে গেছেন।
সোমবার সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে, লঞ্চের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার ডেক বোঝাই যাত্রীতে। তিল পরিমান ফাঁকা নেই। স্বাস্থ্যবিধির কোন বালাই নেই। লঞ্চ কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের ঠাসাঠাসি দেখেও না দেখার ভান করছে। যাত্রীদের মাঝেও নেই কোন সামাজিক দ্রুত্ব ও স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং অনেক যাত্রী মাস্কও ব্যবহার করেনি। আমতলী থানা পুলিশ লঞ্চে দায়িত্ব পালন করলেও তাদের কথায় গুরুত্ব দিচ্ছে না লঞ্চ  কর্তৃপক্ষ এমন দাবী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ সদস্যের। তারা পল্টন থেকে লঞ্চে যাত্রী উঠাতে হিমসিম খাচ্ছে।
যাত্রী মোঃ আলম মিয়া, রুবেল, হাসিনা ও শাহানা বলেন, লঞ্চ যাত্রী বোঝাই করে আমতলী ঘাট ছেড়েছে। তারা আরো বলেন, পুরাকাটা, আয়লাপাতাকাটা লঞ্চঘাট থেকে আরো অন্তত দেড় শতাধিক যাত্রী লঞ্চে উঠেছে। লঞ্চ কর্তৃপক্ষের স্বাস্থ্যবিধির প্রতি কোন খেয়াল নেই? গাদাগাদি করে লে  বসে আছি।
কাকরাবুনিয়া এলাকার হানিফ মিয়া ও ঝড়না আক্তার বলেন, এমভি ইয়াদ-১ লে  যাচ্ছি। কোন সিট পাইনি। স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই ঢাকায় যেতে হবে।
লঞ্চের যাত্রী মনোয়ার হোসেন বলেন, স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় ল  কর্তৃপক্ষকে আমি বলে ছিলাম। তারা উল্টো আমাকে ধমক দিয়ে বলে এভাবে গেলে যান, না হয় লঞ্চ থেকে নেমে যান।
এমভি ইয়াদ লে র সুপার ভাইজার হালিম মিয়া বলেন, স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে যাত্রীদের সিট করতে বলেছি কিন্তু তারা তা মানছে না। যে যার মত করে বসে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, পথের পাঁচটি ঘাটে আরো দেড়’শতাধিক যাত্রী হতে পারে।
আমতলী থানার ওসি মোঃ শাহ আলম হাওলাদার বলেন, স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে লঞ্চ ঘাটে সকাল থেকে পুলিশ মোতায়েন ছিল। পুলিশ অনেক যাত্রী ঘাট থেকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, লঞ্চের সকল যাত্রীকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে লে  উঠানো হয়েছে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই লে  যাত্রী নিতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com

Design By JPHostBD
error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!